এখনো নির্ভার নই: মারুফুল

এখনো নির্ভার নই: মারুফুল

সেমিফাইনালের আগে প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ ছিল স্বাগতিক চিটাগং আবাহনীর কোচ মারুফুল হকের উপর। আপাতত সেটি আর নেই। গোকুলাম কেরেলার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে নাম লিখিয়েছে স্বাগতিকরা। তাই এখন সব পরিকল্পনা ফাইনালকে ঘিরে। চাপ না থাকলেও নির্ভার হতে পারছেন না দেশসেরা এই কোচ। তার ভাবনায় এখন শুধুই ফাইনাল। শিরোপা জিতেই নির্ভার হতে চান মারুফুল। প্রথম আসরের পর আবারো শিরোপা জয় করে স্বাগতিকদের আনন্দে ভাসাতে প্রস্তুত বন্দরনগরীর দলটি।

চলতি এ আসরে প্রথম সেমিফাইনালে জয় পাওয়া স্বাগতিক ক্লাবটি আজ মঙ্গলবার বন্দর প্লে গ্রাউন্ডে অনুশীলন করে। একদিন পরেই ফাইনাল। তবুও শিষ্যদের বিশ্রাম দেননি মারুফুল। কঠোর অনুশীলনের মধ্যেই রেখেছেন জামাল-ইয়াসিনদের। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে জয়ের কৌশল রপ্ত করাচ্ছেন। স্বাগতিক হিসেবে অনেক চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হয় চিটাগং আবাহনীকে। আর ফাইনালে সে চাপটা যে আরো বড় হবে- সেটা ভালো করেই জানেন এই কোচ। তবুও কোন চাপের কাছেই হার মানতে নারাজ তিনি। ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা পূনরুদ্ধার করতে চান।

হাটি হাটি পা পা করে গ্রুপ আর সেমিফাইনালের বাঁধা টপকে চিটাগং আবাহনী এখন ফাইনালের মহারণে। আর মাত্র একটি ম্যাচ, সেটি জিতলেই লক্ষ্য পূরণ হবে তাদের। ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর আগে শিরোপা জয় করতে পারলে সেটি অনেক বড় টনিক হিসেবে কাজে দেবে বলে মনে করেন কোচ মারুফুল। তবে নতুন মৌসুম কিংবা অন্যকিছু নয়, মারুফুলের ভাবনায় এখন শুধুই ফাইনাল। তার সব পরিকল্পনা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে। বলেন, ‘সেমি ফাইনালে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠলেও আমরা এখনো নির্ভার হতে পারিনি। কারণ শিরোপা জিতেই আমরা নির্ভার হতে চাই। এখনো আমাদের আসল কাজটাই বাকী। যেহেতু আমাদের টার্গেটটা শিরোপা জয় করা। প্লেয়াররাও প্রস্তুত দারুণ একটি ফাইনালের আশায়। ওরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশাকরি দারুণ একটা ফাইনাল হবে। স্বাগতিক সমর্থকদের আমি হতাশ করতে চাই না।’

ফাইনালে দর্শক সমর্থন পুরোটাই থাকবে চিটাগং আবাহনীর পক্ষে। চেনা মাঠ, চেনা পরিবেশ আর দর্শক সমর্থন থাকলে ফুটবলাররা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে যেতে পারে। যা দলের উপর প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন মারুফুল হক। ‘দর্শক সমর্থন আমাদের পক্ষে থাকলেও ফুটবলাররা যেনো অতি আত্মবিশ্বাসী না হয়। অতি আত্মবিশ্বাসই অনেক ভুলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেটা লুকার ক্ষেত্রে সেমিফাইনালে আমরা দেখেছি। অনেক ভুল করেছে সে। তাই আমার পরামর্শ আত্মবিশ্বাস থাকুক, কিন্তু সেটা যেনো মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।’

প্রতিপক্ষ দল নিয়ে ভাবছেন না এ কোচ, ‘প্রতিপক্ষ কে সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমার ভাবনায় শুধুই ফাইনাল। তেরেঙ্গানু অথবা মোহনবাগান, যে দলই আসুক, সে দলের বিরুদ্ধেই লড়াই করে ম্যাচ জিততে প্রস্তুত আমরা।’

সেমিফাইনালে দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া পুরো ম্যাচে খেলতে পারেননি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে ক্যাপ্টেনের ইনজুরি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, ‘শুধু জামাল ভূঁইয়ার ছোট একটা ইনজুরি আছে। যেটা প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের ট্যাকলে আঘাত পেয়েছিল। এটা খুব বড় কোন ইনজুরি নয়। আশাকরি ফাইনালের আগেই সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD