ফিফা দ্য বেস্ট মেগান র‌্যাপিনো

ফিফা দ্য বেস্ট মেগান র‌্যাপিনো

ফুটবল বিপ্লবী মেগান র‌্যাপিনোই জিতলেন ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ পরুস্কার। ছেলেদের ফুটবলে যেমন লি‌ওনেল মেসি তেমনি মেয়েদের ফুটবলে মেগান র‌্যাপিনো। বহু সাফল্যের সাথে গত জুলাই মাসে দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করানোর পুরস্কা‌র‌ও যেন পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক মেগান র‌্যাপিনো।

গত জুলাই মাসে মেয়েদের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মাটিতে হল্যান্ডকে ২–০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আমেরিকা। গ্যালারিতে উল্রাসের মধ্যেই হঠাৎ বেসুরো হয়ে উঠল মার্কিন সমর্থকদের একাংশ। আওয়াজ ওঠে সমবেতনের। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তখন হাজির ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পুরুষদের মতোই সমবেতন দিতে হবে মহিলা দলকে, অনেকদিন থেকেই সোচ্চার মেগান র‌্যাপিনো ও তার সতীর্থরা। ‘সমান অর্থের দাবি আদায় করতেই হবে। সেই চেষ্টা শুরু হয়েছে। ফিফা পারবে না এই দাবিকে নস্যাৎ করতে।’ জানিয়ে দেন মেগান।

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকলেও বেতনে মেগানরা অনেক পিছিয়ে মার্কিন পুরুষ দলের থেকে। গত মার্চে আমেরিকান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেগানরা। বিশ্বকাপের আগে এসব কেন? সমালোচনা করেছিলেন অনেকেই। কানে তোলেননি, মাথাও নোয়াননি। বরং সেই জেদই সাহায্য করেছে মেগানদের বিশ্বকাপ জিততে। থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে প্রতিবাদে জাতীয় সঙ্গীতের সময় গলা মেলাননি মেগান। পুলিশী অত্যাচার, জাতিবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ২০১৬ সালে সান ফ্রান্সিসকোয় সেই কাজই করেছিলেন কলিন কেপারনিক।

জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় মেগানকে ব্যঙ্গ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এর মধ্যে প্রতিবাদ কোথায়?’ পাত্তা দেননি। উল্টে ফাইনালেও একই পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানান মেগান। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাতকারে মেগান বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ জিতলেও হোয়াইট হাউসে যাব না।’ একই কথা মেগান বলেন কোয়ার্টার ফাইনালের আগেও। প্রতিক্রিয়ায় কটাক্ষের সুরে ট্রাম্প টুইট করে লিখেছিলেন, ‘আগে তো জিতুন!’ এমনকি বিশ্বকাপ না জিতলেও দল হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ পাবে, জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ছাড়ার পাত্রী নন মেগানও। বিশ্বকাপ জিতেও সাফ বলে দেন, ‘হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। সতীর্থরাও কেউ ওখানে যাবে বলে মনে হয় না।’

এর আগে, ২০১১ সালের মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ। ৫০ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেই গোল করলেন তিনি। কর্নারের কাছে গিয়ে অভিনব সেলিব্রেশনে মেতেছিলেন মার্কিনকন্যা। সাইড লাইনের ধারে সম্প্রচার সংস্থার লাগানো মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গাইলেন গান। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে। টিভি দর্শকরা শুনলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিনের বিখ্যাত গান ‘‌বর্ন ইন দ্য ইউএসএ’‌।

২০১১ সালের সেই বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আমেরিকা। তবু নিজের শহরে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছিলেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছিল ‘‌মেগান র‌্যাপিনো ডে’‌ হিসেবে!‌

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেয়া মেগান র‌্যাপিনোরা পাঁচ ভাই–বোন। বড় ভাই ব্রায়ানের জন্যই ফুটবলে এসেছিলেন তিনি। পরে ড্রাগের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন ব্রায়ান। তিনিই আবার পরবর্তী সময়ে যমজ বোন মেগান ও রেচেলের (‌আমেরিকার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলেছেন)‌ ফুটবল সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন সর্বনাশা জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে।

২০০২–এ অনূর্ধ্ব ১৬ জাতীয় দলে সুযোগ পান মেগান। পরের তিন বছর খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় সিনিয়র দলে অভিষেক। চোটের জন্য খেলা হয়নি ২০০৭ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ অলিম্পিকে। ২০০৯–এ প্রত্যাবর্তন। ২০১১–তে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও সেই আক্ষেপ মেগান মিটিয়েছেন ২০১৫ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ জিতে। শেষ বিশ্বকাপে তাঁর ৬টি গোল। ৩টি অ্যাসিস্ট। সোনার বল, সোনার বুট— দুটোই উঠেছে মিডফিল্ডার মেগানের হাতে। উইঙ্গার হিসেবে খেলতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন‌। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫৮ ম্যাচে ৫০ গোল করা মেগানের ক্লাব ফুটবল শুরু ২০০৯–এ শিকাগো রেড স্টার্সে। ছ’‌টি ক্লাব ঘুরে এখন তিনি খেলেন রেন এফসি–তে।

২০১২ অলিম্পিকে সোনা জেতার পাশাপাশি অনবদ্য কৃতিত্ব রয়েছে মেগানের। ওল্ড ট্র‌্যাফোর্ডে কানাডার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে কর্নার থেকে সরাসরি গোল করেছিলেন। অলিম্পিকে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে এই নজির একমাত্র তাঁরই।

মেগান সমকামী। ২০০৯ থেকে ‘‌সম্পর্কে’‌ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ফুটবলার সারা ওয়ালশের। চার বছর পর তা ছিন্ন হওয়ায় ডেটিং শুরু পপগায়িকা সেরা কাহুনের সঙ্গে। এনগেজমেন্ট হলেও ২০১৭–য় বিয়ের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। তার পর থেকে মেগানের মনের আকাশ জুড়ে বান্ধবী সু বার্ড। এই মহিলা বাস্কেটবল প্লেয়ারের নামের পাশে রয়েছে চার–চারটে অলিম্পিক সোনা!‌ গতবছর ইএসপিএনের ম্যাগাজিন ‘দ্য বডি ইস্যু’‌র কভারে জায়গা করে নিয়েছিলেন মেগান–সু।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD