বাংলাদেশের ভরাডুবি আর আফগানদের উল্লাস

বাংলাদেশের ভরাডুবি আর আফগানদের উল্লাস

চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উল্লাসে মেতেছে আফগানিস্তান। অভিনন্দন রশিদ খান বাহিনীকে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ আফগানিস্তান। তাদের নিজেদের খেলার মাঠই নেই। খেলার জন্য সবসময় নির্ভর করতে হয় অন্যের মাঠের উপর। অথচ সেই মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান ও জহির খানরা রীতিমতো নাকানি-চোবানি খাওয়ালেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল বাংলাদেশকে। অবশ্য আগে থাকতেই আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেে অনেক শক্তিশালী। আর তারা যে অনেক মেধাবী সেটা তো এই টেস্টের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের দিকে নজর দিলেই বুঝা যায়। বৃষ্টি ছাড়া যেটুকু সময় দু’দল খেলার মধ্যে ছিল কখনোই মনে হয়নি বাংলাদেশ চেপে ধরতে চাইছে অথবা পেরেছে আফগানিস্তানেক। উল্টো আফগানদের ভয়েই সাজঘরে ফেরার প্রতিযোগিতায় নামে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

আর মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানের পাশাপাশি রহমত শাহ, আসগর আফগানদের মতো খেলোয়াড় তৈরি করার জন্যও তো প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। অথচ এইসব খেলোয়াড়দের মানে আমরা সাকিব আল হাসান ছাড়া ভরসা করার মতো তেমন কাউকেই তৈরি করতে পারিনি।

এইসব না পারার কারণ হলো, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো নির্মান। সাময়িক সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও ফুটবল ফেডারেশনের মতো তরিকা অবলম্বন করে চলেছে। দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনায় যেনো বিশ্বাসই নেই তাদের। তা না হলো ঘরোয়া ক্রিকেটে চারদিনের ম্যাচ হবে না কেন? টেস্টের কুলীন দলে দাপটের সঙ্গে অবস্থান করার জন্য চারদিনের ম্যাচের জুরি মেলা ভার। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর পরিমানে চারদিনের ম্যাচ খেলতে পারলেই তো ক্রিকেটাররা এই ফরমেটে অভ্যস্ত হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ফল পাবে। তাছাড়া একটি বিশেষ কাবের খেলোয়াড়দের সুবিধা দেওয়ার জন্য দলভূক্ত করার চেষ্টা করা হলে ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে না, ভালো খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়াও যাবে না। এইসব কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে তারা ভেঙ্গে পড়ছে বাংলাদেশ। স্পোটিং উইকেট না বানিয়ে নিজেদের সুবিধা মতো উইকেট বানানোও লঙ্গার ভার্সনে বাংলাদেশের ব্যর্থতার আরেক কারণ।

তাতে ফলাফল হলো আফগানিস্তানের মতো একেবারে নবীন দেশের কাছেও টেস্টে লজ্জার পরাজয়। সেই সঙ্গে লজ্জার নতুন রেকর্ডও গড়ে ফেলা। তা হলো, পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসাবে দশটি ভিন্ন দেশের কাছে টেস্ট ম্যাচ হারার অসাধারণ রেকর্ডের অধিকারী হওয়া। এমন ধারা অব্যাহত রাখলে আয়ারল্যান্ডের সাথে খেলে এই রেকর্ড আরো বাড়িয়ে নিতে পারে বাংলাদেশ। তাতে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিটি দেশের কাছেই পরাজয়ের অনন্য রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ। তবে এমন অদ্ভূত রেকর্ড যেনো কখনোই না হয় সেই কামনা।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD