রেকর্ড গড়ে অ্যাশেজে সমতা ইংল্যান্ডের

রেকর্ড গড়ে অ্যাশেজে সমতা ইংল্যান্ডের

ইতিহাস গড়েই লিডসে টেস্ট জিতল ইংল্যান্ড। তা‌ও আবার এক অতিমানব বেন স্টোকসের অপরাজিত ১৩৫ রানে ভর করে ১ উইকেটে ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। আর শেষ উইকেটে দলের স্কোরে যোগ হল ৭৬ রান। যার মধ্যে একাই ৭৪ রান করেন ম্যাচ সেরা বেন স্টোকস। তাঁর হাত ধরে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে রেকর্ড জয় পায় ইংলিশরা। কারণ এর আগে নিজেদের ক্রিকেট-ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সাড়ে তিনশ’ রানের টার্গেটে কখনো জেতেনি ইংল্যান্ড।

অথচ প্যাটিনসনের বলে ইংল্যান্ডের ১০ নম্বর স্টুয়ার্ট ব্রড যখন আউট হন, ইংল্যান্ডের সংগ্রহ তখন ২৮৬ রান। ৩৫৯ রানে জয়ের টার্গেট থেকে তখনও ৭৩ রান দূরে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার জয়টা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু অন্যরকম ভেবেছিলেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার। ১১ নম্বরে নামা জ্যাক লিচের জন্য কামিন্স-হ্যাজেলউডদের শেষ দু’টো বা একটি বল ছাড়া প্রত্যেকের মুখোমুখি হচ্ছিলেন স্টোকস। অনায়াসে বল পাঠাচ্ছিলেন মাঠের বাইরে। শেষ ১০.২ ওভারে যোগ করেন ৭৬ রান। কখনও লং অন দিয়ে হ্যাজেলউডকে ছয় বা স্লগ রিভার্স সুইপে লি‌ওকে ছয়— কোনও বোলারকেই বাদ দেননি স্টোকস।

জয় থেকে ইংল্যান্ড যখন ১৭ রান দূরে, তখন কামিন্সের বলে স্টোকসের ক্যাচ ফেলেন মার্কাস হ্যারিস। এরপর ৩৫৭ রানের মাথায় সহজ রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেন লি‌ও। ঠিক তারপরের বলেই স্টোকসের অবধারিত এলবিডব্লিউ নাকচ করেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। রিভিউ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুই করার ছিল না টিম পেইনদের।

ম্যাচের শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ স্টোকস বলেন, ‘ফলাফল কী হবে, না ভেবে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকার চেষ্টা করেছি। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমি কী করেছি!’

সত্যিই! বেন স্টোকস বোধহয় নিজেও জানেন না তিনি ঠিক কী করেছেন। যতদিন ক্রিকেট থাকবে, অমর হয়ে থাকবে এই ইনিংস। অমর হয়ে থাকবে এই ম্যাচের স্মৃতি। এবং অবশ্যই অমর হয়ে থাকবেন বেঞ্জামিন অ্যান্ড্রিউ স্টোকস।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়ার ১৭৯ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে অজিদের সংগ্রহ ছিল ২৪৬ রান। তাতে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের টার্গেট ছিল ৩৫৯ রান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD