অ্যাথলেটিক্সের নির্বাচন এগিয়ে সম্মিলিত পরিষদ

অ্যাথলেটিক্সের নির্বাচন এগিয়ে সম্মিলিত পরিষদ

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ফেডারেশনের সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। সে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ ভোটের দিন ঠিক হলেও সে নির্বাচন আর হয়নি। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ক্রীড়া পরিষদ। আগামী ৩ আগস্ট সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরনো ভবনের সভাকক্ষে ভোট। ফলে প্রায় অর্ধযুগ পর আবার হতে যাচ্ছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচন।

পাচজন সহসভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন যুগ্ম সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ এবং ১৯ জন সদস্য পদে হবে নির্বাচন। গত মঙ্গলবার চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশন ১২০ জন কাউন্সিলরের নাম প্রকাশ করেছে। যারা বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করবেন। সহ সভাপতি পাচপদের বিপরীতে নয়জন, সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন, যুগ্ম সম্পাদকের দুই পদের বিপরীতে চারজন, কোষাধ্যক্ষ পদে দুজন এবং নির্বাহী সদস্যের ১৯ পদে ২৪ জন নির্বাচন করছেন।

মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন তিনজন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে তারা নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরা হলেন- চেঙ্গিস-শাহ আলম পরিষদের মাদারীপুরের কাউন্সিলর মো. মোখলেস ও নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম নাসির এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম শাহাদাত হোসেন। প্রথম দু’জন সদস্য পদ থেকে এবং শেষের জন যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে শাহাদাত হোসেন সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন। ফলে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচনে সাধারন সম্পাদক পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে শাহ আলাম, অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু ও এসএম শাহাদাত হোসেনের মধ্যে। যদিও ২৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা ফারুক-মন্টু পরিষদ একটিও প্রত্যাহার করেনি।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় কাউন্সিলরদের কাছে যাচ্ছেন ফারুক-মন্টু পরিষদ এবং চেঙ্গিস-শাহ আলম পরিষদের কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে ইশতেহারও পেশ করেছেন তারা। ৩ আগষ্ট ২৮টি পদের বিপরীতে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে লবিং-গ্রুপিং। ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচনার বিষয়, কে হচ্ছেন অ্যাথলেটিকসের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু থাকছেন? নাকি তাকে হটিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসবেন অন্য কেউ? তবে চুড়ান্ত প্যানেল হওয়ার পর প্রাথমিক লড়াইয়ে অনেকটা পথ এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সমম্পাদক আবদুর রকিব মন্টুর সম্মিলিত ফারুক-মন্টু প্যানেল। কেননা তফসিল ঘোষনার পর মন্টু জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সমর্থন পেয়েছেন। এছাড়া ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি এএসএম আলী কবিরের (যিনি নিজেও একজন কাউন্সিলর) সমর্থনও রয়েছে তার প্রতি। নির্বাহী কমিটির সবগুলো পদেই তার প্যানেল থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে চেঙ্গিস-শাহ আলম ২৮ পদের বিপরীতে মাত্র ১১ পদে প্রার্থী দিয়েছে। তফসিল ঘোষনার পর দেশের সর্বত্র ভোটারদের কাছে গিয়েছেন মন্টুর প্যানেলের প্রার্থীরা। ফলে প্রাথমিক লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে সম্মিলিত প্যানেল। এখন অপেক্ষা ভোটের দিনের।

তপসিল ঘোষনার পর আরও দু’জন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারা হলেন- সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস ও মোহাম্মদ শাহ আলম। সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করবো- এ ঘোষণায় অটল থাকলেও শেষ পর্যন্ত শাহ আলমের সঙ্গে জুটি করে সহ সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন ইব্রাহিম চেঙ্গিস।

১২০ কাউন্সিলরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জন জেলা ও বিভাগের। বাকি কাউন্সিলররা হচ্ছেন বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের। তবে অন্যসব ফেডারেশনের মতো অ্যাথলেটিকসের নির্বাচনেও বড় ভূমিকা রাখবেন জেলা ও বিভাগের ভোটাররা। কারণ, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ফোরাম) ব্যানারে তাদের ঐক্যটা মজবুত। নির্বাচন এলে তারাই নাড়েন কলকাঠি। সর্বশেষ হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে জেলা ও বিভাগের প্রতিনিধিদের চরম ভরাডুবি, অ্যাথলেটিকসে তাদের ঐক্য আরও মজবুত করেছে। ফলে হকি ফেডারেশনে যে ভুল হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না।

বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেছেন, আমি গত বছর যেভাবে কাজ করেছি তাতে আমি মনে করি কাউন্সিলরদের সমর্থন আমার পক্ষে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেডারেশন নিষিদ্ধের পর্যায়ে গিয়েছিল। আমরা সে অবস্থা থেকে ফেডারেশনের মর্যদা ফিরিয়ে এনেছি। সমঝোতার একটা প্রচেষ্টা চলছিল সভাপতির পক্ষ থেকে সেটা হয়নি। আশার প্রত্যাশা কাউন্সিলরা তাদের সুচিন্তিত মতামত মঠিকভাবেই প্রদান করবেন।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েও আমাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা যায়নি। আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে অনেকটা এগিয়ে। আমার সঙ্গে অনেক সাবেক অ্যাথলেটরা আছেন। আছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া সংগঠকরাও। বর্তমান নির্বাহী কমিটির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ আমার পাশে আছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD