শ্রীলঙ্কার কাছে ইংল্যান্ডের হার

শ্রীলঙ্কার কাছে ইংল্যান্ডের হার

শেষ পর্যন্ত জিতেছে শ্রীলঙ্কা। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ফেভারিট ইংল্যান্ডকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে চমক সৃষ্টি করেছে লঙ্কান সিংহরা। ২৩৩ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে ইংল্যান্ড, ৩ ‌ওভার হাতে রেখেই ২১২ রানে গুটিয়ে যায়। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে লিগ টেবিলের পাঁচে উঠে এলো শ্রীলঙ্কা। আর ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনেই রইলো ইংল্যান্ড।

২৩৩ রানের টার্গেটে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। সপ্তম ওভারে আরেক ওপেনার ভিন্স ফিরে গেলে আরও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এমন চাপের মাঝে জো রুট ও ইয়ন মর্গান জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। মর্গানকে ২১ রানে ফিরিয়ে জুটি ভেঙে বিপদ বাড়িয়ে দেন উদানা। ইংল্যান্ডের চাপটা আরও বেড়ে যায় ৫৭ রান করা জো রুটকে মালিঙ্গা গ্লাভসবন্দী করালে।

এত চাপের মাঝে‌ও ইংলিশরা জয়ের পথ খোঁজার চেষ্টায় ছিল বেন স্টোকস আর জস বাটলারের ব্যাটে। বাটলারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে মূলত ম্যাচটাই নিজেদের করে নেন মালিঙ্গা। পরের ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করে গেলে‌ও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেন নি। বেন স্টোকস ৮৯ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ ‌ওভারে ২১২ রানে থামে ইংলিশরা।

ম্যাচ সেরা লাসিথ মালিঙ্গা ৪৩ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। তাতে বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ডি সিলভা নেন ৩টি উইকেট।

এর আগে লিডসে, সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। হেডিংলিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার ওপেনারদের ব্যর্থতার পর দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ম্যাথুজ। সতীর্থদের ব্যর্থতায় তিনি একাই হাতে লড়াই করে গেছেন। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।

শুরুতে ইংলিশ পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩ রানে তারা হারায় ওপেনিং দুই ব্যাটসম্যানকে। বার্বাডোসে জন্ম নেওয়া পেসার জোফরা আর্চার শুরুতে ফেরান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নেকে(১)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্রিস ওকসের শিকার হন আরেক ওপেনার কুশল পেরেরা (২)।

ওই ধাক্কা অবশ্য কাটিয়ে উঠেছিল লঙ্কানরা অভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে। দলীয় রান বাড়ানোর সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনে হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অভিষ্কা। কিন্তু ৪৯ রানে মার্ক উডের শিকার হয়ে তিনি ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার হারায় তৃতীয় উইকেট।

এরপরই শুরু ম্যাথুজ-মেন্ডিসের প্রতিরোধ। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭১ রানের জুটি। তাতে বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি হয় ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের। যদিও হাফসেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে কুশল মেন্ডিস ফিরে গেলে সেই সম্ভাবনা মিইয়ে যায় ধীরে ধীরে। ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান মাত্র ২ বাউন্ডারিতে।

শ্রীলঙ্কা আরও বিপদে পড়ে জীবন মেন্ডিস (০) মুখোমুখি প্রথম বলেই আদিল রশিদের শিকারে পরিণত হলে। পরের সময়টায় ধনাঞ্জয় ডি সিলভা (২৯) চেষ্টা করেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে লড়াই চালিয়ে যান ম্যাথুজ।

শ্রীলঙ্কাকে অল্পতে আটকে রাখার পথে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন দুই পেসার মার্ক উড ও জোফরা আর্চার। ২ উইকেট শিকার স্পিনার আদিল রশিদের। আর একটি উইকেট নিয়েছেন ক্রিস ওকস।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD