অবশেষে শিরোপায় হাত বাংলাদেশের

অবশেষে শিরোপায় হাত বাংলাদেশের

ব্যর্থতার ষষ্ঠসোপান পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আছে সপ্তম স্বর্গে। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে ডাক‌ওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৭ বল আগেই চ্যাম্পিয়ন হয় টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২৪ ‌ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। বৃষ্টি আইনে জয়ের টার্গেট পায় বাংলাদেশ ২১০ রানের।

এর আগে ছয়বার কোনো টুর্ণামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কিন্তু শিরোপা জয়টা অধরাই ছিল। অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই অধরা শিরোপাটায় প্রথমবার ছুঁতে পারল লাল-সবুজের দল। আর বাংলাদেশর এই শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তরুণ দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ‌ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল ফিফটি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের পর মুশফিক, মিঠুনরা যখন একে একে ফিরে যাচ্ছিলেন আর বাংলাদেশ তখন জয় থেকে ধীরে ধীরে দুরে সরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই মালাহাইডে ঝড়টা ফিরিয়ে আনলেন মোসাদ্দেক। ২২তম ওভারের ফ্যাবিয়েন এলেনের ওভার থেকেই মোসাদ্দেক নিলেন ২৫ রান। মূলতঃ ম্যাচটা ওই ওভারেই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে আসে। তিনটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি ওই ওভারে।

২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে রেমন রেইফারকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত, ২৪ বলে ৫২ রানে ম্যাচ সেরা মোসাদ্দেক এবং ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করলো ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের বৃষ্টি আইন এটা।

এর আগে সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিক-সৌম্যর ব্যাটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ওঠে। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে।

তিনি আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুশফিক করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারে। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ালো ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD