বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৭৫

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৭৫

আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আইসিসি বিশ্বকাপ। ১৯৭১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট চালু হবার চার বছর পর ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে, ইংল্যান্ডে। তখনকার প্রবল পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। আমাদের ধারবাহিক আয়োজন 'ফিরে দেখা বিশ্বকাপে' ফারদিন আল সাজু আজ জানাচ্ছেন, ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপের কথা।

অংশগ্রহনকারী দলগুলো

প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার ৯৪ বছর পর, ১৯৭১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের শুরু হওয়া ছিল অনেকটা বিপ্লবের মতই। তবে ক্রিকেটের সীমিত ওভারের এই ফরম্যাটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও দর্শকদের কাছে এর আবেদনের বিষয়টি চিন্তা করেই, ১৯৭৫ সালে আরও একটি বিপ্লব দেখে ক্রিকেটবিশ্ব। প্রথমবারের মত আইসিসি আয়োজন করে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ৮টি দেশের অংশগ্রহণে ৭ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ১৫ দিন ধরে চলে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্ব আসর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অন্য ৫টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের সাথে অংশ নেয় শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা।

ভেন্যু

ইংল্যান্ডের ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ১৫টি ম্যাচ। লর্ডস, বার্মিংহাম, নটিংহাম, দি ওভাল, ম্যানচেস্টার ও লিডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ম্যাচগুলো হয়।

খেলার ধরণ

তখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিলো সর্ম্পূন্ন ভিন্ন। প্রতি ইনিংস খেলা হতো ৬০ ওভারে এবং দিনের বেলায় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতো। প্রথম বিশ্বকাপের পোষাক ছিলো সনাতনী ধাঁচের- সাদা। প্রাথমিকভাবে প্রথম বিশ্বকাপে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়। চারটি দেশ রাউন্ড-রবিন লীগ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় দুই দলসহ মোট চারটি দল নক-আউট পদ্ধতিতে মোকাবেলা করে সেমিফাইনাল খেলে।

রাউন্ড-রবিন লীগ

গ্রুপ 'এ' থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া ভারত একটি ম্যাচ জিতলেও পূর্ব আফ্রিকা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় একেবারে শূন্য হাতে, জয়বিহীন। অন্যদিকে গ্রুপ 'বি' থেকে সেমিফাইনালে পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হয় অস্ট্রেলিয়া। আর গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান একটি জয় পেলেও, শ্রীলঙ্কা বিদায় নেয় কোনো ম্যাচ না জিতেই।

সেমিফাইনাল

স্বাগতিকরা স্বপ্ন দেখছিল ফাইনালে খেলার। কিন্তু গ্যারি গিলমোর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় ইংলিশরা। ২৪ বছর বয়সী এই পেসার মাত্র ৩৯ রানে ৬ উইকেট তুলে নিলে, প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৯৩ রানে অলআউট করে অস্ট্রেলিয়া। আর চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের ৬ উইকেটে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নেয় অজিরা। আরেক সেমিফাইনালও ছিল একপেশে। নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৫৮ রানে আটকে রাখে ক্যারিবিয়ান পেসাররা। জবাবে গর্ডন গ্রীনিজ ও কালিচরণের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনাল

ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসের ফাইনালে, দর্শকদের সাক্ষী হন ক্ল্যাসিক এক ম্যাচের। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও, গ্যারি গিলমোরের দারুণ বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার। তবে ব্যাতিক্রম ছিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। ৮৫ বলে ১২ চার ও ২ ছয়ে তিনি খেলেন ১০২ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ২৯১ রানের সংগ্রহ। স্নায়ুচাপে ভোগা অজিদের ৫ ব্যাটসম্যান রান আউট হন। এতে ২৭৪ রানে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া। আর প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই আসরে ছিল না সিরিজ সেরার কোনো পুরস্কার। তবে ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল হন ক্যারিবিয় অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড।

সেরা খেলোয়াড়

নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার ৩৩৩ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান ও অস্ট্রেলিয়ার গ্যারি গিলমোর ১১ উইকেট তুলে নিয়ে হন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD