ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিপাকে ম্যারাডোনা

ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিপাকে ম্যারাডোনা

ভেনেজ়ুয়েলার বামপন্থী রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর প্রশংসা এবং আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিপাকে পড়েছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর তীব্র প্রতিবাদ করে ফেডারেশনের কোড অফ এথিক্স ভঙ্গের অভিযোগ ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এখন মেক্সিকোর দ্বিতীয় বিভাগের দল দোরাদোস দে সিনালোয়ার কোচ। তাঁর ক্লাব রবিবার তাম্পিকো মাদেরোকে ৩-২ গোলে হারানোর পরে ম্যারাডোনা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘এই জয় আমি নিকোলাস মাদুরো আর ভেনেজ়ুয়েলার মানুষকে উৎসর্গ করছি। যারা এই মুহূর্তে অসম্ভব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেশনের একাধিক নৈতিক আচরণ বিধি ভঙের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ম্যারাডোনা সে সব বিধির পরোয়া করেননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একেবারে সরাসরি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দুনিয়ার শেরিফ মনে করে। দাবি করে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ওদের কাছে আছে। আর যে কোনও সময় তা যে কোনও জায়গায় ফেলে আসতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন আমাদের সঙ্গে সেটা কিছুতেই হতে দেব না।’

একটা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে এসে ম্যারাডোনা কার্যত রাজনৈতিক নেতার মতো বক্তব্য দেন। ভেনেজ়ুয়েলার বামপন্থী নেতা মাদুরোর সঙ্গে তাঁর খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেদেশে গিয়ে ম্যারাডোনা বন্ধুর হয়ে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। যে নির্বাচনকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলে দিয়েছে অবৈধ এবং অনৈতিক। এই মুহূর্তে ভেনেজ়ুয়েলা তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে সক্রিয় ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে পঞ্চাশের বেশি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে বিরোধী নেতা খুয়ান গুয়ায়দোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। যা মানেনি রাশিয়া, তুরস্ক, চিনের মতো দেশ। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকেই ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট মনে করছে। এমনকি সে দেশে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টাও করছে বলে অভিযোগ। যে কারণে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাদুরো পুনর্নিবাচিত হলেও সেই নির্বাচনকে বলা হচ্ছে অবৈধ।

ম্যারাডোনার সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার অন্য বামপন্থী নেতাদের সম্পর্ক চিরকালই ভাল। এক সময় তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোকে নিজের ‘দ্বিতীয় পিতা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। হাভানায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াতও ছিল। এক সময় চিকিৎসার জন্য সেখানে তিনি দীর্ঘদিন থেকেছিলেন।

এদিকে, মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ম্যারাডোনার মন্তব্যের তদন্ত শুরু করেছে। ফেডারেশনের একটি ধারায় বলা আছে, ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সবাইকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তদন্তে ‘দোষী’ প্রমাণিত হলে ছিয়াশির বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলার নির্বাসিত হতে পারেন। অথবা হতে পারে আর্থিক জরিমানা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD