মতিন ম্যাজিকে শিরোপা বসুন্ধরার

মতিন ম্যাজিকে শিরোপা বসুন্ধরার

স্পোর্টস রিপোর্টার

মৌসুমের তিনটি শিরোপা জয়ের টার্গেট নিয়েই দল গড়েছিল বসুন্ধরা কিংস। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দেশী-বিদেশী তারকা ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছিল দলটি। কিন্তু প্রথম টুর্নামেন্টেই হতাশ হতে হয় তাদের। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে ঢাকা আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছিল নবাগতদের। প্রথম ট্রফি জিততে না পারলে ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের শিরোপার স্বাদ ঠিকই নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আজ বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে তারা ২-১ গোলে পরাস্ত করে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। ম্যাচের প্রথম ৯০ মিনিট ছিল ১-১ গোলে অমিমাংশিত। অতিরিক্ত সময়ে মতিন মিয়া দারুণ এক গোল করে বসুন্ধরাকে শিরোপা জেতান।

ফাইনালের আগে দুই দলের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল বসুন্ধরাই। কারন ফেডারেশন কাপের সেমি ফাইনালে শেখ রাসেলকে হারিয়েই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল উইলিয়ান ব্রুজুইনের শিষ্যরা। তাছাড়া তারকা নির্ভর দলটিরই কথা ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলটা উপহার দেবার। কিন্তু সেই খেলাটা শুরু করে শেখ রাসেলই। ম্যাচের আট মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আরিফুল ইসলামের ডান পায়ের পাসে পোস্টের খুব কাছ থেকেই আক্রমণ শানান রাসেলের ডিফেন্ডার খালেকুর জামান। কিন্তু বল অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি। শুরুর দিকেই দু’টি কর্ণার আদায় করে নিয়ে যেখানে এগিয়ে যাবার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলো শেখ রাসেল, সেখানে ১৭ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের কোনাকোনি শটে বল জালে জড়িয়ে বসুন্ধরাকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মার্কোস ভিনিসিয়াস (১-০)। মৌসুমের সেরা গোলগুলোর একটি। আচমকা গোলে হতবাক হয়ে যান শেখ রাসেলের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাও। বলের গতি বুঝতে পারেননি তিনি। আনন্দে মেতে উঠে বসুন্ধরা শিবির। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার পাচেক সমর্থকও দলীয় পতাকা, ঢাক-ঢোল নিয়ে নাচতে শুরু করেন।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে শেখ রাসেল। ২৯ মিনিট সেই সুযোগও এসেছিল তাদের সামনে। কিন্তু তাদেরকে হতাশ করেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল দা সিলভার ডান পায়ের কোনকোনি শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। একের পর এক আক্রমন করা শেখ রাসেল কেসি অবশেষে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের বসুন্ধরার জাল ভেদ করে ম্যাচে ফিরে আসে শেখ রাসেল কেসি। গোল করেন দলটির নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল উদুইন। টপ অব দ্যা বক্স থেকে জোড়ালো শটে জিকুকে পরাস্ত করে দলকে আনন্দে ভাসান এ বিদেশী (১-১)। চলতি এ আসরে এটা তার দ্বিতীয় গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দু’দলই আক্রমনে গিয়েছিল। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সাডেন ডেথে’র খেলায় জয় তুলে নেয় বসুন্ধরা। অতিরিক্ত সময়ের পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের ভেতর থেকে কোনাকূণী শটে বল জালে জড়ান বদলী হিসেবে মাঠে নামা মতিন মিয়া (২-১)। ৬২ মিনিটে সাদ্দাম হোসেনের বদলী হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন অর্ধকোটি টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া এ ফুটবলার। স্বাধীনতা কাপে এটা তার দ্বিতীয় গোল।

পিছিয়ে পড়া শেখ রাসেল আবারো চেষ্টা করেছিল ম্যাচে ফিরতে। কিন্তু বসুন্ধরা তাদের রক্ষণ দেয়ালে চিড় ধরাতে দেয়নি। জমাট রক্ষনের কারনেই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়ে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠে নবাগতরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD