পারবেন কি দেশী স্ট্রাইকাররা

পারবেন  কি দেশী স্ট্রাইকাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার

সদ্য সমাপ্ত ফেডারেশন কাপ ফুটবলে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি দেশী স্ট্রাইকাররা। বিদেশীদের ভিড়ে অনেকটাই ম্লান ছিলেন মামুনুল, মতিন মিয়া, বিপলু আহমেদরা। অর্ধলাখ টাকা খরচ করে যেসব দেশী স্ট্রাইকারদের দলে নিয়েছিল ক্লাবগুলো, সেই স্ট্রাইকারদের এমন হতাশাজনক পারফমেন্সে হতাশ ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফেডারেশন কাপে গোল না পাওয়ার দু:খ ঘুচিয়ে চলতি স্বাধীনতা কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের প্রমান করবেন বলেই আশায় বুক বেঁধে আছেন সবাই। দেশীদের পা থেকে গোল দেখার আশা সমর্থকদেরও।

মৌসুমের প্রথম ফুটবল আসর ফেডারেশন কাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রথম ছয়জনের তালিকাতে নেই কোন বাংলাদেশী ফুটবলার। সবার উপরে আছে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড সানডে চিজুবার নাম। তিনি ৬ গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ম্যাচেও দুই গোল পেয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। এরপরেই আছেন নবাগত বসুন্ধরা কিংসের বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল কলিন্ড্রেস। তিনি পেয়েছেন পাঁচ গোলের দেখা। ফাইনালের আগে করেছিলেন চার গোল। সানডের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি পিছিয়ে পড়েন। তবে বিশ্বকাপ খেলা এ তারকা নিজের পায়ের জাদুতে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। একই দলে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস তিন গোল করে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। সমান গোলের দেখা পেয়েছেন ঢাকা মোহামেডানের গাম্বিয়ান ফুটবলার ল্যান্ডিং ডারবো, সাইফ এসসিতে খেলা রাশিয়ান ফরোয়ার্ড ড্যানিস বোলসাকোভ ও টিম বিজেএমসির উজবেক ফুটবলার ওটাবেক।

বিদেশী তারকাদের ভিড়ে ফেডারেশন কাপে দুটি করে গোল করেছেন স্থানীয় মাত্র চার ফুটবলার। এরা হলেন- শেখ জামালেন দিদারুল আলম, বসুন্ধরা কিংসের মতিন মিয়া, আরামবাগের শাহরিয়ার বাপ্পি ও বসুন্ধরা কিংসের আরেক ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ। স্থানীয় স্ট্রাইকারদের এমন ব্যর্থতায় হতাশ সবাই। এজন্য অবশ্য লিগের সিষ্টেমকেই দায়ী করছেন দেশের ফুটবলবোদ্ধারা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘লিগের জৌলুস এবং ট্রফি জয়ের জন্য ক্লাবগুলো কোটি কোটি টাকা অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে তারকা ফুটবলার নিয়ে আসছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু একসঙ্গে চার বিদেশী মাঠে নামানোটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এখন বাফুফে ফিফা, এএফসি’র দোহাই দিয়ে চার বিদেশী খেলানোটা হালাল করেছে। সব দলই চাইবে ম্যাচে জিততে এবং মিডফিল্ডে ও আক্রমনভাগে চার বিদেশীকে খেলাতে। কারন তারাই আসলে পার্থক্য গড়ে দেয় ম্যাচে। এ কারনে সেরা একাদশে দেশী স্ট্রাইকার কিংবা মিডফিল্ডাররা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে না এবং গোলের দেখা পাচ্ছে না। তাদের সুযোগ দিতে হবে। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় স্ট্রাইকার সংকট প্রবলভাবে দেখা দিবে আগামি কয়েক বছরের মধ্যেই।’

ফেডারেশন কাপে ব্যর্থতার বেড়াজালে বন্দি থাকলেও সদ্য শুরু হওয়া স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে দেশী স্ট্রাইকারদের মধ্যে। মাত্র পাঁচ ম্যাচ শেষে হওয়া এ টুর্নামেন্টে জোড়া গোল করে সবার উপরে আছেন, ঢাকা আবাহনীর ফয়সাল মাহমুদ সিটুল। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিরুদ্ধে বদলী হিসেবে মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জোড়া গোল করেছিলেন এ ফরোয়ার্ড। এ পর্যন্ত সাত ফুটবলার গোল পেয়েছেন স্বাধীনতা কাপে। এরমধ্যে তিনজনই বাংলাদেশী। সুযোগ পেলে যে দেশীরাও জ্বলে উঠতে পারে সেটা প্রমান করেছেন সিটুল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD