আরেকটি রেকর্ডের অপেক্ষা মাশরাফীর

আরেকটি রেকর্ডের অপেক্ষা মাশরাফীর

ফারদিন আল সাজু

বাংলাদেশ ক্রিকেটে অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মর্ত্তোজা। ইত্যেমধ্যেই ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২০০ ম্যাচ খেলে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৫ বছর বয়সী ওয়ানডে অধিনায়ক। আগামীকাল মঙ্গলবার ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে স্পর্শ করতে যাচ্ছেন আরেকটি মাইলফলক। এই ম্যাচে টস করলেই বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেবার রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলবেন নড়াইল এক্সপ্রেস। পেছনে ফেলবেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের রেকর্ডকে।

২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন বাশার। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল মঙ্গলবারে ওয়ানডে দিয়ে হাবিবুল বাশারে সমান ৬৯ ম্যাচের নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফী।

২০০১ সালে অভষিকেরে পর চোট-আঘাতরে সঙ্গে নিত্য যুদ্ধ করে এগিয়ে নিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ার। দলের নেতৃত্ব পান ২০০৯ সালে। কিন্তু নেতৃত্ব নিয়ে প্রথম টেস্টেই আবার চোট পেয়ে ছিটকে পড়েন দল থেকে। সেই চোট কাটিয়ে ফিরে ওয়ানডেতে প্রথম নেতৃত্ব করার স্বাদ পান ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে। তার অধিনায়কত্বে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ঐতিহাসিক এক জয় পায় বাংলাদশে। ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সব টেস্ট খেলুড়ে দলকে ওয়ানডেতে হারানোর বৃত্ত পূরণ করে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ও নেদার‍ল্যান্ডস মিলিয়ে সেবার ইউরোপ সফরে ৬টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেন মাশরাফী। ঐ বছরের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবার নেতৃত্ব দেন তিনি দেশের মাটিতে। কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই আবার আঘাত পেয় চলে যেতে হয় মাঠের বাইরে। ২০১৪ সালে দেশের ক্রিকেটকে টানা ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধানে আবারও মাশরাফীকে দেয়া হয় পথ দেখানোর দায়িত্ব। রঙিন পোশাকে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে রঙিন অধ্যায়ের সূচনাও সেই থেকে। মাশরাফীর নেতৃত্বেই অভাবনীয় সাফল্যের গৌরবোজ্জ্বল পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। 

ক্যারয়িারের এই নতুন অধ্যায়ে বিস্ময়করভাবে চোটের কারণে বাইরে থাকেননি একটি ওয়ানডেতে‌ও। চোট-আঘাত এই সময়েও এসেছে, কিন্ত লড়াই করতে করতে নিজের শরীরকে খুব ভালোভাবে চিনে ফেলা মাশরাফী শিখে গেছেন তখন সবকিছু সামলে নে‌ওয়ার মন্ত্র‌ও। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে এবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে, এই সময়ে বাংলাদেশের ৬৪ ম্যাচের ৬১টিতেই টস করছেনে তিনি। কেবল বিশ্রাম ও দলের মন্থর ওভার রেটের নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে খেলতে পারেননি তিনটি ম্যাচে (২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচ ও গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ)। অধিনায়ক হিসেবে সাফল্যে বাংলাদেশের সবাইকে মাশরাফী ছাড়িয়ে গেছেন বেশ আগেই। ৬৮ ওয়ানডেতে অধিনায়ক মাশরাফীর জয় ৩৯টি। ৬৯ ম্যাচে হাবিবুল বাশারের জয় ছিল ২৯টি। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ৫০ ম্যাচে জয় এসেছে ২৩টিতে। ৩৭ ম্যাচে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের জয় ১১টিতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচই খেললে শেষ ওয়ানডেতে ধরা দেবে আরও একটি মাইলফলক। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ ওয়ানডে খেলার পর একই সঙ্গে নেতৃত্বের রের্কডে ছাড়িয়ে যাবেন হাবিবুলকে। অথচ এই মানুষটিকেই চোটের কারণে অপারশেন টেবিলে যেতে হয়েছে সাতবার। এরপরও দেশকে ভালোবেসে খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেট। দেশের ক্রিকেটে মাশরাফির অবদান কখনো ভোলার নয়।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD