স্পন্সর পাননি সালমান

স্পন্সর পাননি সালমান

স্পোর্টস রিপোর্টার

আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপালে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। আসন্ন এ আসরে সিনিয়র ও জুনিয়র বিভাগে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এ টুর্নামেন্টে খেলে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা কিছুটা উন্নতি করতে পারেন শাটলাররা। অথচ আসন্ন এ আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নে‌ওয়ার জন্য ফেডারেশন থেকে কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না দেশসেরা পুরুষ শাটলার সালমান খান। নিজ খরচেই যেতে হচ্ছে নেপালে। দুই মহিলা শাটলার এলিনা সুলতানা ও শাপলা আক্তার স্পন্সর পেলেও সালমানকে বিমান টিকিট কাটতে হচ্ছে ঘাটের পয়সা খরচ করে।

নেপালের এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মহিলা শাটলাররা প্রতি বছরই একটা না একটা রেজাল্ট নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু এবার ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন থেকে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র কোন দলকেই স্পন্সর করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। ফেডারেশনের এমন বক্তব্যের পর জুনিয়র দলের স্পন্সর হিসেবে এগিয়ে আসেন এক শাটলারের মা। ফেডারেশনের তরফ থেকে দলের ম্যানেজার হয়ে নেপালে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েই ব্যক্তিগতভাবে ঐ খেলোয়াড়ের মা স্পন্সর করতে রাজী হন। জুনিয়রদের পর সিনিয়র দুই মহিলা শাটলারেরও স্পন্সর প্রদান করেন একই ব্যক্তি।

অন্য সবার স্পন্সরের ব্যবস্থা হলেও দেশসেরা পুরুষ শাটলার সালমান এখনো স্পন্সর পাননি। তাই ঘরে বসে অলস সময় কাটানোর পক্ষে নন জাতীয় এককের এ চ্যাম্পিয়ন। সিলেট থেকে ছুঁটে এসেছেন ঢাকায়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত ক্যাম্পে যোগ দিয়ে অনুশীলন করছেন প্রতিদিন। আজ রোববার উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে সালমান জানালেন, ‘নেপালের এ টুর্নামেন্টে খুব বেশী টাকা খরচ হবে না। কিন্তু নিজেদের খরচে সেখানে অংশ নেয়াটা অপমানজনক। কিন্তু কি করবো। নিজেদের যোগ্যতা প্রমানের জন্য যেতেই হচ্ছে। ফেডারেশন সরাসরি বলেই দিয়েছে স্পন্সর করতে পারবে না। সবারই স্পন্সর হয়েছে- কেবল আমারটা ছাড়া। বিমান টিকিট কাটতে হচ্ছে নিজেকেই। নেপালে পৌঁছানোর পর বাকী খরচ বহন করবে টুর্নামেন্ট কমিটি।’

দেশসেরা এ পুরুষ শাটলার আরো বলেন, ‘আমরা নিজেরা বছরব্যাপি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নিজেদের খরচেই খেলে থাকি। এক একটি টুর্নামেন্টে আমাদের প্রায় সত্তুর থেকে আশি হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। মনের টানেই ব্যাডমিন্টন খেলছি। এখানে প্রাপ্তি বলতে সম্মান। দেশের বাইরের এই একটি টুর্নামেন্টেই আমরা ভালো করে থাকি। অথচ এখানে নাকি আমাদের নিজ খরচে খেলতে যেতে হবে। ফেডারেশন আমাদের কতোটা অসম্মান করলে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারে! আমরা ফেডারেশনের কাছে ‘বোতলবন্দি’ হয়ে পড়েছি। তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছুই করতে পারি না।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারনেই এবার ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্পন্সর করা যাচ্ছে না। তাই আমরা শাটলারদের বলেছিলাম নিজ উদ্যেগেই স্পন্সর যোগাড় করতে। এরই মধ্যে জুনিয়র ও সিনিয়র দুই মহিলা শাটলারের স্পন্সর হয়ে গেছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD