ফাইনালে আবাহনীর সঙ্গী বসুন্ধরা

ফাইনালে আবাহনীর সঙ্গী বসুন্ধরা

স্পোর্টস রিপোর্টার

চরম উত্তেজনার সেমিফাইনালে অবশেষে জয় পেয়েছে নবাগত বসুন্ধরা কিংস। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ০-১ গোলে পরাজিত করে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নাম লেখায় দলটি। জয়সূচক গোলটি করেন তৌহিদুল আলম সবুজ। ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে গোল করে প্রথমবারের মতো পেশাদার লিগ খেলতে আসা দলটি ফাইনালে নিয়ে যান কক্সবাজারের এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের মূল সময়ে ছিল গোল শূণ্য ড্র। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের ২৭ মিনিটেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দল। অবশেষে ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে গোল করে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান সবুজ। আগামী শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালের মহারণে ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা।

গ্রুপ ‘ডি’তে থাকা বসুন্ধরা কিংস দুই জয় ও এক ড্র’য়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দল হিসেবেই কোয়ার্টারে পা রেখেছিল। শেষ আটের লড়াইয়ে তারা পরাস্ত করেছিল টিম বিজেএমসিকে। ৫-১ গোলে পাওয়া ঐ জয়ের পর বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল জোসফ আফুসির শিষ্যরা। মাঠেও তার প্রমান পাওয়া গেছে। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শেখ রাসেলকে চেপে ধরেছিল। বল মাঠে গড়ানোর ৮ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল বসুন্ধরা। কিন্তু দলকে গোল উপহার দিতে ব্যর্থ হন মাহবুবুর রহমান সুফিল। ছোট বক্সের সামনে থেকে আলতো টোকায় গোলরক্ষক আশরাফুল রানার মাথার উপর দিয়ে বল তুলে দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু রানার চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি। ফিরিয়ে দেন দারুণভাবে। ফিরতি বলে আবারো শট নেন মাসুক মিয়া জনি। সেই বলটি একেবারে গোল লাইন থেকে প্রতিহত করে বসুন্ধরার সমর্থকদের হতাশ করেন শেখ রাসেলের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ওদুকা এলিসন।

১৫ মিনিট পর আবারো সুযোগ হাতছাড়া হয় বসুন্ধরা কিংসের। এবার বাম প্রান্তে ডি বক্সের ভেতর থেকে মিডফিল্ডার মো: ইব্রাহিমের নেয়া শট শেখ রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম ফিস্ট করে প্রতিহত করলে গোলবঞ্চিত হয় দলটি। প্রথমার্ধের অথিরিক্ত সময়ে পরিকল্পিত একটি আক্রমন রচনা করেছিল শেখ রাসেল কেসি। কিন্তুফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদের নেয়া হেড বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমনাত্মক ছিল শেখ রাসেলের ফরোয়ার্ডরা। বারবার কয়েক আক্রমনও করেছিল। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। এ অর্ধে দুই দলের ফুটবলাররা বেশ কয়েকবার তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন মাঠে। ফুটবলারদের কথার লড়াইটা রেফারি দক্ষ হাতেই সামাল দেন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বসুন্ধরার স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জর্জ গুতরের দূর পাল্লার জোড়ালো শেখ রাসেলের গোলরক্ষক আশরাফুল রানা মিস করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে আবারো হতাশ হতে হয় নবাগত দলটিকে। এবং গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয় মূল সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায়। এ পরীক্ষাতেও যেনো ভাগ্যসায দিচ্ছিল না। শেখ রাসেলের জমাট রক্ষনে কিছুতেই ফাঁটল ধরাতে পারছিলেন না কলিন্ড্রেস-মতিন মিয়ারা। বারবার হতাশ হতে হচ্ছিল তাদের। কোচের কোন টোটকাও যেনো কাজে আসছিল না।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে শেখ রাসেলের জালে বল পাঠিয়ে মৌসুমের প্রথম আসরের ফাইনালে কিংসকে নিয়ে যান তৌহিদুল আলম সবুজ (১-০)। দলের অধিনায়ক কলিন্ড্রেসের প্রথম প্রচেষ্টায় নেয়া শটটি পোষ্টে লেগে ফিরে আসলেও ফিরতি বলে ভুল করেননি সবুজ। প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে জার্সী খুলে উন্মত্ত উৎসবে মেতে উঠেন। তার সঙ্গে নেচে উঠে পুরো গ্যালারী। এই একটি গোলের জন্য কতোটা যে হাহাকার করতে হয়েছে তাদের, সেটা উৎসব দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জয় দিয়ে প্রথমবারের মতো ফেডকাপের ফাইনালে নাম লেখায় বসুন্ধরা কিংস।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD