স্বপ্নার সাফল্যে শিরোপা চাইছে বাংলাদেশ

স্বপ্নার সাফল্যে শিরোপা চাইছে বাংলাদেশ

সিরাত জাহান স্বপ্না, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার। তার অনুপস্থিতি দলকে কতটুকু ভোগাতে পারে তা গত শুক্রবার সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বে নেপালের বিপেক্ষ দ্বিতীয়ার্ধেই স্পষ্ট হয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় এলেও শুরুতে লিড নেয়া বাংলাদেশকে এরপর ভুটানিরা চেপে ধরে। কারণ লাল-সবুজদের ফরোয়ার্ড লাইনে এমন কেউ ছিলেন না যিনি প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক ছড়াতে পারেন।

অবশ্য এই কাজেই দক্ষ স্বপ্না। নেপাল ও পাকিস্তানকে তো একাই কাবু করেছিলেন এই ফুটবলার। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ গোলের জয়ের সাতটিই আসে স্বপ্না’র পা থেকে। নেপালের বিপক্ষে তার গোলেই লিড নেয়া এবং শেষ পর্যন্ত দল পায় ২-১ গোলে জয়। আজ রবিবার বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দ্বিতীয় সাফ শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, অন্যদের সঙ্গে লাল-সবুজদের এই স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে স্বপ্নাকেও।

গোল করলে স্বপ্না যেমন এগিয়ে যাবেন সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডন বুট’ জেতার দৌড়ে, তেমনি বাংলাদেশও চলে যাবে শিরোপার কাছে। তহুরা খাতুন অবশ্য থিম্পুতে আগের বয়সভিত্তিক সাফে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। রানার্স আপেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল।

রংপুর জেলার মেয়ে স্বপ্না অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের মতো সিনিয়র জাতীয় দলেরও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার। ২০১৬ ভারতের শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সিনিয়র মহিলা সাফে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৫ গোল করেন তিনি। এর মধ্যে ছিল সেমিফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। গ্রুপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ গোল করেন। ফাইনালের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার অভ্যাস আছে তার। সেই সাফেই ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে সমতা সূচক গোল স্বপ্নার পা থেকে। যদিও বাংলাদেশ হেরেছিল ১-৩ গোলে। সুতরাং আজ নেপালের বিপক্ষে তার মানসিক চাপে থাকার কথাও নয়। শনিবার পুরো বাংলাদেশ দলকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে অনেকটা চাপ মুক্তির জন্যই। টানা তিন ম্যাচ খেলার ক্লান্তি দূর করতে। একই সাথে এই থিম্পুতে আগস্টের অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের শিক্ষাটাও মনে করানো হয়েছে মৌসুমী- মারিয়াদের।

ফাইনালেও যে গোল করতে হবে তা ভালো করেই জানেন স্বপ্না। জানান, ‘একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আমার কাজই হবে গোল করা। সুযোগ পেলেই কাজে লাগাতে হবে। কোনোভাবেই সুযোগগুলো মিস করা যাবে না।’ আরো জানান, নেপাল শক্তিশালী দল। ফিজিক্যাল ম্যাচ বেশি খেলে তারা। জিততে হলে আমাদের সর্বশক্তি দিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশ দলের হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ গোল স্বপ্নার। শুরুটা ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফেস্টিভাল ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে। সে ম্যাচে এক গোল তার। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ডাক পেলেও খেলা হয়নি এএফসির আসরে। ২০১৬ সালে খেলেছেন, তবে পাননি গোল। এরপর সেই বছর সিনিয়র সাফে স্বরূপে ফেরা এই দ্রুতগতির স্ট্রাইকারের। সেই সাফে ৫ গোল করার পর এবার অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে এ পর্যন্ত ৮ গোল। নেপালের রেখা পাউডেলের গোল ৭টি। দু’জনের মধ্যে শনিবার তাই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইও থাকবে।

২০১১ সালে রংপুরের পালিচড়া স্কুলের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে খেলা স্বপ্না ২০১৩ সালে প্ল্যানের দেশব্যাপী ক্যাম্পে বাফুফের কোচদের নজরে আসেন। স্বপ্নার বিষয়ে কোচ ছোটনের বক্তব্য, ও খুব আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। গতির সাথে গোল করতেও দক্ষ। বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির মতে, স্বপ্না প্রতিপক্ষের জন্য খুবই বিপজ্জনক ফুটবলার। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় সে।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD