বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফাইনাল মানেই টান টান উত্তেজনা। রোমাঞ্চ আর ব্যক্তিগত ‌ও দলগত ক্রীড়াশৈলির মনরোম এক প্রদর্শনী। একপেশে খেলা হলে কারই বা ভালো লাগে। উত্তেজনাকর ফাইনালের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ফিলিস্তিন। ১২০ মিনিট গোল পায়নি কোন দলই। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলের জয় পায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। ম্যাচের নায়ক ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক রামি হামাদা। টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানের দুই ফুটবলার তাবরেজি ও কমরনের শট প্রতিহত করে দলকে শিরোপা স্বাদ পাইয়ে দেন এই গোলরক্ষক।

দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটা তৃতীয় শিরোপা। এরআগে, এএফসি চ্যালেঞ্জ ও দেশের মাটিতে একটি ট্রফি জয় করেছিল তারা। ফাইনাল শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাফুফে’র সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটবলের উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন মহিলা দল ও ভুটানে সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশীপে অপরাজিত চ্যাস্পিয়ন হওয়া তহুরা-মার্জিয়াদের অভিনন্দন জানান।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা যুদ্ধে ময়দানে নামে উভয় দল। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এদিন ফাইনালের স্বাক্ষী হতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন হাজার পনের দর্শক। শুরু থেকেই আক্রমন-প্রতি আক্রমনে জমে উঠে ম্যাচ। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুলয়েভ ফাতখুলু লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে জমে উঠে ম্যাচ। ফিলিস্তিনের মিডফিন্ডারের সামিহ মারাবা সঙ্গে বল দখলের সময় পড়ে গিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাজিক অধিনায়ক। এ সময় উভয় দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। তিন মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর রেফারী মিজানুর রহমান লাল কার্ড দেখান তাজিক কাপ্তানকে। দশ জনের দলে পরিনত হলেও ম্যাচের বাকী সময় নিজেদের জালে বল প্রবেশ করতে দেয়নি তারা। ফিলিস্তিনের জালেও বল পাঠাতে পারেনি তারা। তবে এ সময়টাতে প্রতিপক্ষের উপর বেশ চাপ প্রয়োগ করে খেলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নেমেই দশ জনের তাজিকদের উপর কিছুটা চড়াও হয়েছিল ফিলিস্তিনির ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাঁটল ধরাতে পারেনি। ৫৮ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে একা পেয়েও গোল আদায়ে ব্যর্থ হন ফিলিস্তিন ফরোয়ার্ড জাহাঙ্গীর। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করতে বসেছিল র‌্যাংকিংয়ের একশ তম স্থানে থাকা ফিলিস্তিন। কপালটা বেশ সুপ্রসন্ন তাদের। তাজিক ডিফেন্ডার নাজারুভ আখতামের নেয়া শটটি ক্রসবারের কোনায় লেগে ফিরে আসলে বেঁচে যায় তারা। ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তেও গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় ফিলিস্তিন। এবার অবশ্য ভুলটি ছিল তাজিকিস্তানের ফরোয়ার্ড বজোরুভের। ডানপ্রান্ত দিয়ে ডিফেন্ডার আব্দুগাফারভের আড়াআড়ি শটে ছোট বক্সের ভেতরে দাঁড়ানো এ ডিফেন্ডার বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। অবশেষে গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয় ৯০ মিনিট।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৬ মিনিটেই তাজিকদের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির মিডফিল্ডার পাবলো ব্রাভো। তার নেয়া দূরপাল্লার জোড়ালো শটে তাজিক গোলরক্ষক রুস্তম পরাস্ত হলেও বল সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। দশ জনের দল নিয়ে লড়াই করা তাজিকরা এ সময়টা বেশ রক্ষনাতœক হয়ে খেলতে থাকে। তাদের লক্ষ্যই ছিল পেনাল্টি শুট আউট। তাদের সে লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গোলরক্ষক বেহরুজকে মাঠে নামান কোচ। কিন্তু পেনাল্টি শুট আউটে কোন ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি এ গোলরক্ষক। উল্টো ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক রামি হামাদা প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলারের শুট ফিরিয়ে দিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতিয়ে তোলেন দলকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD