হকিকে গুডবাই জানালেন চয়ন

হকিকে গুডবাই জানালেন চয়ন

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার। এশিয়ান গেমসই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে অনেকেই তখন বিশ্বাস করেননি। ভেবেছিলেন রাগে-ক্ষোভে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু না, সবাইকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ শেষে অবসরটা নিয়েই ফেললেন পেনাল্টি স্পেশালিষ্ট মামুনুর রহমান চয়ন। ভবিষ্যতে ফেডারেশনের অনুরোধেও জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে তুলে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার এ শূণ্যতা অনেক দিন ভোগাবে জাতীয় দলকে। ম্যাচ শেষে দু’দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের ষ্টিক তুলে গার্ড অব অনার জানান প্রায় দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা হকি খেলোয়াড়কে। এরপর মাঠেই তার হাতে জাতীয় পতাকা আাঁকা ক্রেষ্ট তুলে দেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবদুস সাদেক। আগামীকাল এশিয়ান গেমস হকির সমাপনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে চয়নের হাতে। তার নেতৃত্বেই মার্চপাষ্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা।

এক যুগ আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গড়ানো চয়নের বয়স মাত্র ৩০। এরচেয়েও অধিক বয়সে হকি খেলা সম্ভব। বাংলাদেশ দলেই আছেন তেমন বয়স্ক প্লেয়ার। অথচ ফিটনেস থাকার পরও হঠাৎ করেই কেনো তিনি অবসরের ঘোষণা দিলেন, সেটা কারো বোধগম্য নয়। তবে অন্য কোনো কারনে নয়, নিজ সন্তানকে সময় দেয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে জানালেন চয়ন। বিকেএসপি থেকে উঠে আসা এ হকি তারকার জীবনে কোন অতৃপ্তি নেই, ‘হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। চারটি এশিয়ান গেমস খেলার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেছে। আমি তৃপ্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে। আমার আর কোনো ইচ্ছে নেই। হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। হকি খেলেছি বলেই আমি চয়ন আজ সবার কাছে পরিচিত। দেশের সেরা দশজন তারকা খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসলে সেখানে আমার নামটিও নেয় মানুষ। আমি হকি না খেললে হয়তো কেউ আমাকে চিনতো না।’

বিদায়ের মুহূর্তটা স্মরণ করে এ তারকা বলেন, ‘আমি আর ন্যাশনাল টিমে খেলতে পারবো না- এটা ভেবেই খুব খারাপ লাগছে। গতকাল রাত থেকেই আমি ঘুমাতে পারিনি। কারন ন্যাশনাল টিমের ফ্ল্যাগটা আর আমার বুকে থাকবে না। কিন্তু আমার সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা আজ যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ।’

অবসর নেয়ার মতো বয়স যে এখনো হয়নি সেটা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন চয়ন, ‘আমি হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো কিছু দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু ছেলের কারনেই অবসর নিচ্ছি। তিন বছর বয়সী আমার ছেলেকে যখনি ভিডিও কল দেই তখনি ও মন খারাপ করে থাকে। এখন আমি পুরোটা সময় আমার সন্তানকে দিতে চাই।’

ক্যারিয়ারের স্মরনীয় মুহূর্ত হিসেবে ওয়ার্ল্ড হকি লীগে চীনের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টাকে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে কাতার এশিয়াড দিয়ে শুরু। এরপর ২০১০ সালে গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়াডে অংশ নিয়েছেন তিনি। চয়নের আগে একমাত্র হকি খেলোয়াড় হিসেবে চারটি এশিয়াডে অংশ নেয়ার কৃতিত্ব ছিল ডিফেন্ডার মুসা মিয়ার। আর তিনটি এশিয়াডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক খেলোয়াড় জামাল হায়দার, মুসার ভাই ইছা মিয়া ও হাবুলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD