কাল শুরু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের লড়াই

কাল শুরু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের লড়াই

কবিরুল ইসলাম, সিলেট থেকে

আগামীকাল সোমবার পর্দা উঠছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ছয় জাতীর এ শিরোপা লড়াই। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লাওস। বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহের কোন কমতি নেই। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এরইমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে সবগুলো দল। প্রতিটি দলই নিজ নিজ জাতীয় দলকে নিয়ে ঢাকায় আসলেও ফিলিপাইন এসেছে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। ২০জনের মধ্যে মাত্র এগারোজনকে নিয়ে সিলেটে এসেছে তারা। ফিলিপাইনের জাতীয় দল বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছে। সেখানে ওমানের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলার কারনে পুরো দল নিয়ে ঢাকায় আসা সম্ভব হয়নি বলে জানান দলের ম্যানেজার জোসেফ মারি মালিনে। তবে কালই হেড কোচসহ বাকী খেলেয়াড়রা চলে আসবেন বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি।

ছয় দলের এ ফুটবল লড়াইয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ লাওস ও ফিলিপাইন। আর ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপাল, প্যালেস্টাইন ও তাজিকিস্তান।

এ আসরকে সামনে রেখে স্বাগতিক বাংলাদেশ মাত্র এগার দিন প্রস্তুতির সময় পেয়েছে। দিনের হিসেবে প্রস্তুতিটা একেবারে কম হলেও জাতীয় দল গত কয়েক মাস ধরেই রয়েছে ব্যস্ততার মধ্যে। গত মাসে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান গেমসের পর ঘরের মাটিতে খেলেছে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল করলেও সাফে নিজেদের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয় জেমি ডে’র শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বের বাঁধাই টপকাতে পারেনি। সেমি ফাইনালে উঠার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ভুলে।

সাফের সেই হতাশা নিয়েই সোমবার আবারো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মাঠে নামতে হচ্ছে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। এ টুর্নামেন্টকে দেখা হচ্ছে সাফের ‘দু:খ মোচনের’ আসর হিসেবে। সদ্য সমাপ্ত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে থাকা সাত ফুটবলার বাদ পড়েছেন এ আসর থেকে। গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের বাদ পড়াটা ছিল অনুমিত। তবে দল থেকে জাফর ইকবালের ছিঁটকে পড়াটা ছিল অকল্পনীয়। এছাড়াও বাদের তালিকায় আছেন সোহেল রানা, ফয়সাল মাহমুদ, সুশান্ত ত্রিপুরা, সা’দ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও সাখাওয়াত হোসেন রনি।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপকে নিজেদের জন্য বড় একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্বাগতিক অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সাফের ব্যর্থতা ভুলে সিলেটে ঘুঁরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা তার। চারদিন আগে পূণ্যভূমিতে এসে অনুশীলন শুরু করেছেন সুফিল-মতিন মিয়া-তপু বর্মনরা। সিলেটের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতেই কিছুটা আগে চলে আসা। সাফের দল থেকে বর্তমান দলটিতে আমূল পরিবর্তন আসলেও লাওসের বিরুদ্ধে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। আত্মবিশ্বাসের সূর কোচ জেমি ডে’র কণ্ঠেও। যদিও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১৫ ধাপ এগিয়ে এশিয়ার দেশটি। অতীত রেকর্ডও খুব একটা সুখকর নয়। দুই ম্যাচের একটিতে হার, অপর ম্যাচে ড্র। তবুও লাওসের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দিয়েই সেমি ফাইনালের পথ কিছুটা পরিস্কার রাখতে চান জেমি ডে।

এদিকে, টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে স্থানীয় আয়োজকরা বেশ তৎপর। পুরো শহর জুড়েই চালানো হচ্ছে প্রচারনা। স্টেডিয়ামের পাশেই তিনটি বুথ করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিটের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৫০ টাকা। ২৫ হাজার দর্শক ধারন ক্ষমতার স্টেডিয়াম হলেও টিটিক ছাড়া হচ্ছে ২২ হাজার। বাকী তিন হাজার টিকিট বাফুফে, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ ক্লাবগুলোকে সৌজন্য হিসেবে দেবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD