পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে উঠেছে ভারত। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে জোড়া গোল করেন মানভির সিং। আর একটি গোল আসে ভারতের ফরোয়ার্ড সুমিত পাসির পা থেকে। পাকিস্তানের হয়ে ব্যবধান ঘোঁচানো একমাত্র গোলটি করেন হাসান বাশির। এ নিয়ে এগারোবারের মতো ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেলো ভারত।

শুধুমাত্র ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতীয়দের। এদিকে, দিনের প্রথম সেমি ফাইনালে নেপালকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে মালদ্বীপ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে দল দু’টি মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়।

মর্যাদার এ লড়াইটি ছিল বেশ ঘটনা বহুল। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে দু’দলের ফুটবলাররা জড়িয়ে পড়েছিলেন হাতাহাতিতে। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে ঘটে এ ঘটনা। আর তাতেই রেফারি ভারতের লালিয়ানজুয়ানা চাংতে ও পাকিস্তানের মহসীন আলীকে লাল কার্ড দেখান।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। গ্যালারীতে দর্শক থাকবেই। থাকবে কথার লড়াই। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও দেখা গেছে সেই একই চিত্র। স্বাগতিক বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকে ছিঁটকে পড়ার পরও প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক উপস্থিত ছিলো সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে। প্রিয় দলের পতাকা, ভুভুজেলা আর ঢোল-বাদ্য নিয়ে গ্যালারী মাতিয়ে রেখেছেন তারা।

শক্তির বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি দলটি গত কয়েকটি আসরেই নিজেদের মূল দলকে না পাঠিয়ে বয়সভিত্তিক দলকে সাফ খেলার জন্য প্রেরণ করে। এবারো এর ব্যতয় হয়নি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পাঠিয়েছে লড়াইয়ের জন্য। গ্রুপ পর্বে দূর্দান্ত খেলা ভারত আজও ছিল ছন্দে। কর্দমাক্ত মাঠে শুরু থেকেই চেপে ধরে পাকিস্তানকে। একের পর পর আক্রমন করলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখেনি তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়ে যায় সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। বাঁপ্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার আশিকের মাইনাসে দৌড়ে এসে দারুন এক প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে উৎসবে মাতিয়ে তুলেন মানভির সিং (১-০)।

২১ মিনিট পর আবারো গোল করে ব্যবধান ২-০তে নিয়ে যান মানভির। দুই মিনিট আগে বদলী হিসেবে মাঠে নামা লালিয়ানজুয়ানা চাংতের পাসে বল পেয়ে যান ভিনিত রায়। তার মাইনাসে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

এরপরও যেনো গোলের ক্ষুধা থামছিল না ভারতের। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে বাঁদিক থেকে আশিক কুরুনিয়ার লবে দৌড়ে এসে দারুন এক হেড গোল করেন বদলী হিসেবে মাঠে নামা সুমিত পাসি (৩-০)।

দুই মিনিট পরই ঘটে যায় ন্যাক্কারজনক ঘটনা। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে লালিয়ানজুয়ানা চাংতে পাকিস্তানী এক ফুটবলারকে ঘুষি ছুঁড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে তাকে পাল্টা আঘাত করেন পাকিস্তানী মহসীন আলী। রেফারি শিভাকর দু’জনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেন।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে পাকিস্তান। হাসান বশির বাঁ পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ঘুঁচিয়ে আনেন (৩-১)। কিন্তু পরাজয় এড়ানোর জন্য যা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় দিয়েই ফাইনালে পা রাখে ভারত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD