হতাশার মধ্যেও স্বপ্নজাল বুনছেন সুমী

হতাশার মধ্যেও স্বপ্নজাল বুনছেন সুমী

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে 

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে আবারো হিটেই বাদ পড়লেন বাংলাদেশী স্প্রিন্টার সুমী আক্তার। বির্বণ হয়েছে তার স্বপ্ন। ৮০০ মিটারে আজ সোমবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু দৌড় শেষ করলেন ২ মিনিট ২৬.৫৯ সেকেন্ডে। তাতে এক নম্বর হিটে সাত জনের মধ্যে সবার পেছনেই ছিল তার নাম। দৌড় শেষ করে অন্যান্য প্রতিযোগিরা যখন ট্র্যাকে বসে বাতাস খাচ্ছিলেন, তখনও দৌড়ে যাচ্ছিলেন লাল-সবুজের পতাকাবাহী এই স্প্রিন্টার। যদিও এটা তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং।

ইভেন্টের হিট রাউন্ড শেষে দেখা গেছে ২০ জন প্রতিযোগির মধ্যে ১৮তম হয়েছেন তিনি! আবু তালেবের পর বাংলাদেশী এই অ্যাথলেটকেও হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশে। হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কোচ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন সুমী ও আবু তালেব। জাকার্তা থেকে হতাশা নিয়ে ফিরলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুমী। তার লক্ষ এখন এসএ গেমস। আগামী বছর নেপালে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের ৮০০ মিটারে স্বর্ণ পদক জয় করতে চান তিনি।

নারী অ্যাথলেট হিসেবে সুমী আক্তার যখন জাকার্তায় আসেন, তখন ৮০০ মিটারে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড। উন্নতি চোখে পড়েছে প্রায় ৪ সেকেন্ড। বাংলাদেশী এ অ্যাথলেট যখন নিজের ৪ সেকেন্ড উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, তখন এশিয়ার অন্য দেশের প্রতিযোগিরা হিট শেষ করেন দুই মিনিট ৪ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড সময়ে। হিট রাউন্ডে এক নম্বর হওয়া বাহরাইনের মার্তা ইয়োতার সঙ্গে সুমী’র ফারাকটা যে কতোটা বিশাল, সেটা স্ক্রিনেই ভেসে উঠেছে।

তবুও নিজের টাইমিং এবং উন্নতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘এখানে আমরা পদক জিততে আসিনি। আমাদের লক্ষই ছিল নিজেদের সেরাটা দিয়ে উন্নতিটা প্রমান করার। আমাদের মূল লক্ষ এসএ গেমস। আজ ট্র্যাকে নিজের সেরা টাইমিংয়ের ৪ সেকেন্ড আগে শেষ করেছি ৮০০ মিটার। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে আগামী এসএ গেমসে পদক জিতবই।’ তবে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন নিজেদের দূর্বলতার কথা, ‘এশিয়ার অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ওদের সঙ্গে আমাদের এ দূরত্বটা কমাতে হলে অনুশীলনে আরো উন্নতি করতে হবে।’

৪০০ মিটারে ১৬ বারের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সুমীর কোচ রাজিয়া সুলতানা অনু স্বপ্ন দেখছেন তাকে ঘিরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি ইভেন্টে খেলে চারটিতেই সোনা সুমির। তাঁর ভালোর জন্য যে কোন একটি বেছে নেয়ার পরামর্শ অনুর,‘ আমার মনে হয়, সুমীর একটি ইভেন্টেই জোর দেয়া উচিত। একটি ইভেন্টে খেললে আরও ভালো করতে পারবে। ৪০০ মিটার বেশ দ্রুত গতির, তুলনায় ৮০০ মিটার ধীর আর কঠিন। সমন্বয় করা কঠিন।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD