বাংলাদেশের হকি ও একজন তাহির জামান

বাংলাদেশের হকি ও একজন তাহির জামান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আগামি ১ সেপ্টেম্বর স্থান নির্ধারনী ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ এখনও অজানা। তবে তার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামতে হবে লাল-সবুজদের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের কোন লক্ষ্য নেই গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। যত কম গোল হজম করা যায় ততই মঙ্গল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুখকর কোন উদাহরন নেই বাংলাদেশের। ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপেই সবচেয়ে বড় সাফল্য পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেবার মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সাফল্য ঠিক তার দশ বছর পর। ১৯৯৫ সালে সাফ গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল লাল-সুবজ জার্সীধারীরা। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সবগুলি গোলই দিয়েছিল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। দেশের হয়ে দুটি গোল করেছিলেন আব্দুস সাদেক ও মুসা মিয়া।

তাহির জামান

বর্তমানে ওমান হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তাহির জামান। গতবছর বাংলাদেশে এসে কোচিং করিয়ে গেছেন। তারা চেয়ে ভালো বাংলাদেশকে আর কেউ চেনার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের পার্থক্য নিরুপন করতে গিয়ে পাকিস্তানের এ লিজেন্ড বলেন, ‘ক'দিন আগেও তোমাদের দেশে ঘুরে এসেছি। পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানে রয়েছে পিছিয়ে। তবে হ্যাঁ একটা দিকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সেটি হলো তারা ভয়কে জয় করতে শিখেছে। আগে যেমন সারাক্ষন ডিফেন্সিভ খেলায় মনোনিবেশ করতো এখন তারা আক্রমন করতে শিখেছে। বড় ব্যাবধানে পিছিয়ে থাকার পরও রক্ষনাত্মক না থেকে আক্রমনে যেতে চেষ্টা করে।’

বাংলাদেশের মাটিতে খেলেছেন তাহির জামান। প্রতিবারই মোহামেডানের জার্সী গায়ে ছিল তার। প্রতিবারই মোহামেডানের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। জার্সী তুলে রাখার পর ঢাকায় এসেছিলেন উষা ক্রীড়া চক্রের কোচ হয়ে। সেবারও চ্যাম্পিয়ন উষা। ওই সময়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনায় তাহির জামান বলেন, ‘আমাদের সময়ে স্কিল ছিল এখন যেটা গতির কাছে পরাজিত। বর্তমান প্লেয়ারদের গতির সাথে স্কিল থাকা জরুরী। তা না হলে ছিটকে পড়বে। আরো একটি ব্যাপার হলো আর্থিক। আমরা ছুটেছি মাঠের জন্য এখন ওরা ছুটে টাকার জন্য।’

একটা সময় এশিয়া শাষন করতো হকি। বর্তমানে ইউরোপ রাজত্ব করছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, এশিয়া পিছিয়ে থাকার একটা টেকনিক্যাল কারনও রয়েছে। নুতন নিয়মগুলি আসার আগে থেকেই তারা এটিকে চর্চা করে। এশিয়ায় যখন নিয়মগুলি পালন করতে শুরু করে তখন ইউরোপের ওরা পুরোপুরিভাবে নিয়মগুলি আয়ত্ব করে নেয়। পিছিয়ে থাকার এটিও একটি কারন। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা একটু অলসও বটে। করি-করছি- করবো ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। তবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তান একটু নড়ে চড়ে বসবে বলেই ধারণা করছি। ইমরান খান পাকিস্তানের হাল ধরেছেন। খেলার মাঠের মতোই তার নেতৃত্বে সচল হবে পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হকি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD