ট্র্যাকেও হতাশ করলেন অ্যাথলেটরা

ট্র্যাকেও হতাশ করলেন অ্যাথলেটরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

কাবাডি, হকি, ভারোত্তোলন, কুস্তির পর এশিয়ান গেমস অ্যাথলেটিক্সেও হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হিট থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে দুই স্প্রিন্টার আবু তালেব ও সুমি আক্তারকে। এশিয়াড অ্যাথলেটিক্সে কখনোই পদকের আশা থাকে না বাংলাদেশের। নিজেদের সেরাটা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় মঞ্চ হিসেবেই এ আসরকে বেছে নেয় লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে এশিয়ার সেরা এথলেটদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো খুজে বের করার চেষ্টা থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সের পুরুষ ও মহিলাদের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেয়ার জন্য আবু তালেব ও সুমি আক্তার এসেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। আজ শনিবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন সেনা বাহিনীর অ্যাথলেট আবু তালেব। কিন্তু ট্র্যাকে নেমেই লজ্জায় ডুবিয়েছেন দেশকে। ২৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম! সময় নিয়েছেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড! শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে ফিরেছেন ট্র্যাক থেকে। আরেক স্প্রিন্টার সুমি আক্তারও সুবিধা করতে পারেননি ট্র্যাকে।

আজ শনিবার জিবিকে মেইন স্টেডিয়ামে সকালে ৪০০ মিটার দৌড়ে ট্র্যাকে নামেন বাংলাদেশী অ্যাথলেট আবু তালেব। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিন নম্বর লেনে। হিটে ছিলেন মোট ছয়জন প্রতিযোগী। দৌড়ের শুরুতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। এরপর আর এগিয়ে যেতে পারেননি। শেষ করতে হয়েছে সবার শেষে থেকেই। ফিনিসিং লাইন টাচ করেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। একরাশ হতাশা নিয়ে দৌড় শেষ করে বিশ্রাম নিতে চলে যান দিনাজপুরের এ স্প্রিন্টার। এমন পারফর্ম্যান্স হয়তো আশা করেননি আবু তালেব নিজেও। দেশের হয়ে পদক জয়ের স্বপ্নতো দূরের থাক, চূড়ান্ত পর্বেও অংশ নেয়ার আশা করেননি। তবে প্রত্যাশা ছিল অন্তত নিজের বেষ্ট টাইমিং ছাড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্নটা‌ও পূরন হয়নি। নিজের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারেননি জাকার্তায়। বরং আরো বেশী সময় নিয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে একই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ী এ স্প্রিন্টার সময় নিয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময়।

দৌড় শেষে আবু তালেব বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। আজ আমি মোটেও ভালো করতে পারিনি। আমি আমার টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ঠ নই। ফিনিসিং আরো ভালো করা উচিত ছিল। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে আমার বেষ্ট টাইমিং ছিল ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড। কিন্তু আজ সেটাও আমি করতে পারিনি।’ নিজের সেরা টাইমিং উৎরে যেতে না পারার কারন হিসেবে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে আসার জন্য আমার প্রস্তুতি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু আসার কিছু দিন আগে আমি বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য ছিলাম। আসার পরও ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি অসুস্থ্যতার কারনে। আমার বাঁ পায়ের মাসলের দিকে ব্যথা ছিল। সে ব্যথা নিয়েই আজ ট্র্যাকে নেমেছিলাম। সব কিছু মিলিয়ে আমি হতাশ।’

উল্লেখ্য, এবারের আসরে আবু তালেবের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু জহির রায়হানের ইনজুরির কারনেই কপাল খোলে তার। সে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। নিজেকে প্রমানের বড় মঞ্চ থেকে ফিরেছেন হতাশা সঙ্গী করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD