ফ্রান্স আবার‌ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ফ্রান্স আবার‌ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ইতিহাসের পাতায় আবারো ফরাশিরা। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ^কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ফাইনালে তারা ৪-২ ব্যবধানে হারায়, ক্রোয়েশিয়াকে। এই জয়ে তৃতীয় খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন, ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশাম।

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইটা যেনো গ্রিজম্যান-এমবাপের সঙ্গে মড্রিচ-মাঞ্জুকিচের নয়, ছিল ফরাশি বিটোভেনের সঙ্গে ‘বলকান মোজার্টের’। মাঠে নেমে শৈল্পিক মূর্চ্ছনায় ক্রোয়েশিয়ার জয়রথ থামিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফ্রান্স। এতে ২০ বছর পর পর বিশ^কাপে নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রীতিটাও মিথ্যে করে দিলো ‘লা ব্লুজ’রা। জানিয়ে দিলো, পারফরমেন্স আর পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে যেকোনো সময় শিরোপা জেতো সম্ভব।

অবশ্য দিনটি যে ক্রোয়েশিয়ার নয়, খেলার ১৮ মিনিটেই বুঝা গিয়েছিল। মাঞ্জুকিচের আত্মঘাতি গোলে লিড পায় ফ্রান্স।

তবে নাটকীয়তার শুরু এর পরই। শিরোপা জয়ের অদম্য ইচ্ছায় ২৮ মিনিটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া, পেরিসিচের দারুণ গোলে। আনন্দ উপলক্ষ খুঁজে পায় ক্রোয়াট সমর্থকরা।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ফাইনাল। ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে পেরিসিচ নিজেদের বিপদসীমায় হাতে বল ঠেকালে, ভিএআর’এর কল্যাণে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিকে দলকে ২-১ এ এগিয়ে দেন, গ্রিজম্যান।

এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাসিরা। ১৯৭৪ সালের পর, এবারই বিশ^কাপের কোনো ফাইনালের প্রথমার্ধে তিন গোল হলো।

প্রথমার্ধে লিড পাওয়া বিশ^কাপে কোনো ম্যাচ হারেনি ফ্রান্স। এমন ইতিহাস নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে পল পগবার গোলে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নেয়, লা ব্লুজ’রা।

রুদ্ধশ^াস থ্রিলারের মত ম্যাচকে একপেশে করে তুলে এমবাপে ম্যাজিকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
পরে আর ক্রোয়াট শিবিরে খুব একটা আক্রমণে যায়নি ফ্রান্স। সে সুযোগে, ফ্রান্স গোলকিপার লরিসের ভুলে ব্যবধান ৪-২-এ নামিয়ে আনেন, মারিও মাঞ্জুকিচ।

গোল শোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি ক্রোয়েটরা। আর তাতে নতুন ইতিহাস লেখা হলোনা ক্রোয়েটদের। রানারআপ হয়েই বাড়ি ফিরতে হলো। অন্যদিকে, দুই যুগ পর আবারও বিশ^ সেরা ফ্রান্স।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD