প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। খেলার ১০৯ মিনিটে অসাধারণ গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। তাই তো চলতি বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ ম্যাচে প্রথমে এক গোল হজম করেও, পরে গোল দিয়ে ম্যাচে ফেরার নজির স্থাপন করল তারা। চলতি বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করেও, ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়লো ক্রোয়েশিয়া। আর তাতেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় ক্রোয়াটরা। এতে বিশ্বকাপ জয়ে ইংলিশদের প্রতীক্ষাটা আরো বাড়লো।

ইংল্যান্ডের বক্সের মধ্য থেকেই বলটা প্রথমে ফিরে আসে। লাফ দিয়ে আলতো করে হেডে আবারও ইংল্যান্ডের জালের সামনে বলটা ঠেলে দেন ইভান পেরিসিচ। জন স্টোন্সকে পেছনে ফেলে বলটির নিয়ন্ত্রণ নেন মারিও মানজুকিচ। গোলরক্ষক পিকফোর্ডও বলের কাছে আর পৌঁছাতে পারলেন না। তার আগেই মানজুকিচ বাম পায়ের অসাধারণ এক গোল।

অবশ্য তার আগে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, ৫২ বছর পর আবার‌ও বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে এসে ম্যাচের কেইরান ট্রিপারের গোলে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। খেলার ৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়ক লুকা মড্রিচ ডি বক্সের বাইরে ডালে আলিকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। সরাসরি শটে গোল করে নিজ দলকে এগিয়ে দেন ট্রিপার। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল পায় ইংল্যান্ড। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে সেট পিসে করা তাদের নবম গোল এটি।

অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার সুখস্মৃতিকে আরো বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্যে খেলতে নামা ক্রোয়েশিয়া, পিছিয়ে পড়ে হয়ে পড়ে ছন্নছাড়া। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়াকে তখন‌ও খুঁজে পাওয়া যায় নি। খেলার ধারার বিপরীতে ৬৮ মিনিটে পেরেসিচের লম্বা পায়ের ছোঁয়া থেকে বাচতে পারেনি ‘৬৬র বিশ্বকাপ জয়ীরা। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে সিমে ভ্রাসালকোর ক্রসে ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারের মাথার উপর পা তুলে দিয়ে বল জালে জড়ান পেরেসিচ। ম্যাচে ফেরে ১-১ গোলের সমতা। গোল দিয়ে যেন নিজেদের ফিরে পায় ক্রোয়েশিয়া। তবে নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরুর পর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে ইংলান্ড। ৯৯ মিনিটে প্রায় গোল দিয়েই বসেছিল তারা। কিন্তু নিশ্চিত এক গোল থেকে দলকে বাচান সিমো ভ্রাসালকো। কেইরান ট্রিপারের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ হেড নিয়েছিলেন জন স্টোনস। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়েছিল বলটি। জালে প্রবেশের মুহূর্তে দাঁড়িয়েছিলেন ভ্রাসালকো। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় হেড করে সেই বলটি ঠেকিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল থেকে তিনি বাঁচিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়াকে। সে সঙ্গে বেঁচে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন‌ও।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD