কোলিন্দা গ্র্যাবার: ফুটবল-পাগল রাষ্ট্রপতি

কোলিন্দা গ্র্যাবার: ফুটবল-পাগল রাষ্ট্রপতি

বিশ্বকাপ শুরুর আগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচের নাম কেউ শুনেছেন বলে জানা নেই। তবে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিও জিতে নিয়েছেন বিশ্ববাসীর হৃদয়। নক আউটে ক্রোয়াটদের লড়াই মানেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বল কোলিন্দা। তবে ন্যাটো-বৈঠকের জন্য থাকতে পারেননি সেমিফাইনালে‚ ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে। সেই অনুপস্থিতি সুদে-আসলে উশুল করেছেন ফাইনালে‚ ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া মহারণে।

ফুটবল মাঠে গেছেন আপাদমস্তক ফুটবলপ্রেমী হয়ে। তার জন্য প্রোটোকল ভাঙতে দ্বিধা করেননি। ভিআইপি বক্সে‚ যেখানে বসে কোলিন্দা খেলা দেখেন‚ মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সেখানকার পোশাকবিধি হল লম্বা গাউন জাতীয় ফর্ম্যাল পোশাক। কিন্তু কোলিন্দা সবসময় ঝলমল করছেন লাল-সাদায়। অর্থাৎ দেশের জাতীয় পতাকার বা জাতীয় প্রতীকের পোশাকে। বাকি ক্রোয়াট সমর্থকরা যেভাবে একাত্ম হয়েছেন‚ সেভাবেই মাঠের আবহের সঙ্গে মিলেমিশে যেতে চেয়েছেন এবং পেরেওছেন তিনি।

৫০ বছর বয়সী কোলিন্দার জন্ম সাবেক যুগোস্লাভিয়ায়। ১৯৬৮-র ২৯ এপ্রিল। জাগরেব‚ ভিয়েনা‚ ওয়াশিংটন এবং হার্ভার্ড- বিভিন্ন শহরের নামী প্রতিষ্ঠানে শেষ করেছেন উচ্চশিক্ষা। জানেন একাধিক ভাষা। ক্রোয়েশিয়ান ছাড়াও সাবলীলভাবে বলতে পারেন ইংরেজি‚ স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ।

১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে যোগদান‚ Croatian Democratic Union-এ। দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন দলের বিভিন্ন দায়িত্ব। অবশেষে ২০১৫ সালে র্নিবাচিত হন দেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি দেশের চতুর্থ তথা প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। এক সময় আমেরিকায় ক্রোয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূত হয়ে কর্মরত ছিলেন। ছিলেন ন্যাটো-র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিও। এরপর ইভো জোসিপোভিককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হারিয়ে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি হন তিনি। এত গুরুগম্ভীর কূটনৈতিক দায়িত্বে থেকেও ১৯৯৬ সাল সংসারী জীবন শুরু করেন। বিয়ে করেছেন জ্যাকব কিতারোভিচকে। ১৭ বছরের মেয়ে ক্যাটারিনা এবং ১৫ বছর বয়সী ছেলে লুকা-র স্নেহময়ী মায়ের ভূমিকাতেও সমান উজ্জ্বল রাষ্ট্রপতি কোলিন্দা।

২০১৬ সালে একবার বিতর্কও উঁকি দিয়ে গিয়েছিল কোলিন্দার জীবনে। হঠাৎ করে মার্কিন মডেল কোকো অস্টিনের সঙ্গে তাঁর চেহারাগত সাদৃশ্য নিয়ে আলোড়িত হয় ইন্টারনেট। অস্টিনের বিকিনি পরা ছবি ঘুরতে থাকে কোলিন্দার ছবি বলে। সেসব বিতর্ক এখন ম্লান। কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচ এখন জাতীয় পতাকায় শোভিত এক ফুটবল-পাগল রাষ্ট্রপতি। যিনি দেশের লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবেন বলে রাশিয়া উড়ে যেতেও দ্বিধা করেন না।

এত সবকিছুর পরেও বৃষ্টিভেজা মাঠে তাঁর উষ্ণ আলিঙ্গন নিয়ে কটাক্ষ চলতেই থাকবে। আলোচিত হবে তাঁর গালে ফরাশি প্রসিডেন্ট মাক্রনের চুম্বন। নিন্দুক চোখ দেখবে না ঐ আলিঙ্গনে কতটা সৌহার্দ্য ছিল। দেখবে না বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় লুকা মড্রিচকে জড়িয়ে ধরার সময় কোলিন্দার চোখেও জল ছিল। হাত ছোয়া দূরত্ব থেকে কাপ হারানোর বেদনাও ছিলো।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD