টিম টু ওয়াচ: মেক্সিকো

টিম টু ওয়াচ: মেক্সিকো

বিশ্বকাপ ফুটবল আসর শুরু হতে খুব একটা বেশি দেরী নেই। দলগুলো নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করেছ। বেশিরভাগ দলই বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। যারা এখন‌ও করেনি আগামী ৪ জুনের মধ্যে তারা‌ও চূড়ান্ত করে ফেলবে দল। বিশ্বকাপের দলগুলোর কথা জানাচ্ছেন, ফারদিন আল সাজু। আজ রয়েছে, মেক্সিকোর কথা।

উত্তর আমেরিকার অন্যতম ফুটবল শক্তি মেক্সিকো। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে অনেক। মেক্সিকো এখন‌ও পর্যন্ত ১৬ বার ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। ১৯৯৪ ‍বিশ্বকাপ থেকে এখন প্রর্যন্ত টানা বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছে তারা। বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় সাফল্য দুইবারা (১৯৭০ ‌ও ১৯৮৬ সালে) কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়া। এছাড়াও প্রথমবার (১৯৩০) বিশ্বকাপ খেলার গৌরব আছে মেক্সিকানদের। তারা কোপা আমেরিকাতে দুইবার রানার্স আপ ও একবার তৃতীয় হয়েছিল। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৫ তম অবস্থানে আছে তারা।

প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে মাঝারি মানের ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামে মেক্সিকো। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে উত্তর আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে প্রথম রাশিয়ার টিকিট পায় মেক্সিকানরা। তাছাড়া খাতা-কলমের হিসেবে, দলটি ফেভারেটদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।প্রতিপক্ষকে রুখতে তাদের দলে আছে নামিদামি সব তারকা।

মেক্সিকোর সর্বোচ্চ গোলদাতা হার্নান্দেজ তো আছেনই। এছাড়াও অভিজ্ঞ রাফায়েল মারকুয়েজ, জিওভানি সান্তোসরা দলে রেখে দিয়েছেন কোচ। তরুণদের মধ্যে দারুণ খেলছেন রাউল জিমেনিজ আর লোজানোরা। অধিনায়ক আন্দ্রেস গুয়ার্দাদোর উপর অনেকটা ভরসা কোচ ওসোরিও। সবমিলিয়েই দুর্দান্ত এক দল মেক্সিকো। এদিকে কিছুটা চমক দিয়েই এবারে বিশ্বকাপের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন মেক্সিকো কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিও। তবে এখনো ২৩ সদস্যার চূড়ান্ত দল ঘোষণা হয়নি। দলে রাখা হয়েছে ৩৯ বছর বয়সী বার্সেলোনায় সাবেক মিডফিন্ডার রাফায়েল মার্কুয়েজকে। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা যদি বিশ্বকাপের ২৩ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়ে যান, তাহলে তিনি হবেন ৫টি বিশ্বকাপ খেলা তৃতীয় ফুটবলার।বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড় ১৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন। শেষ খেলেছেন ২০১৭ সালের কনফেডারেশন্স কাপে।

মেক্সিকো দলের তালিসমান বলা হয় হাভিয়ের হার্নন্দেজকে। ম্যানচেস্টার ইউনাটেড হয়ে খেলা ২৯ বছর বয়সি এই স্টাইকারে একাই্ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ধ্বসিয়ে দিতে পারেন। তার পায়ের জাদু ইতোমধ্যেই দেখেছে বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা। তিনি ক্লাবের হয়ে ২৭২ ম্যাচে গোল করেছেন ১৪৪ টি। আর মেক্সেকোর জার্সি গায়ে ১০০ ম্যাচে গোল করেছেন ৪৯ টি। এছাড়া তিনি ২০১১ কনকাকাফ গোল্ডকাপে সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তাকে কনকাকাফ কাপের সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত ঘোষণা করে। মূলত তিনিই হলেন মেক্সিকোর সাফল্যের অন্যতম প্রাণ ভোমরা।

তাই র্নিদ্বিধায় বলা যেতেই পারে মেক্সিকোর সব আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেন হার্নন্দেজক। তার সাথে আক্রামবিভাগে রাখা হয়েছে হ্যাভিয়ের অ্যাকুইনো, হিসুস করোনা, রাউল জিমেনেজ, ওরিবে পেরালতা, , কার্লোস ভেলা, হার্ভিং লোজানো ও ইয়ুর্গেন ড্যামকে। আর তাদের সাথে মাঝ মাঠে সামলাবেন হেক্টর হেরেরা, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, রাফায়েল মার্কুয়েজ, জোনাথন ডস সান্তোস, মার্কো ফ্যাবিয়ান, হেসুস মোলিনা, এরিক গুতিয়েরেজ, জিওভানি ডস সান্তোস। রাশিয়া বিশ্বকাপে কোচ কার্লোস ওসোরিও এবার ভরসা রাখছেন বেশিরভাগ অভিঞ্জ ফুটবলারের উপর। সে হিসেবে গোলপোস্ট সামলাবেন গুইলের্মো ওচোয়া। তার সামনে দিয়েগো রেয়েস, কার্লোস স্যালসেদো, হেক্টর মোরেনো, ওসওয়ালদো অ্যালানিস, নেস্তর আরাউজো, মিগুয়েল, লাইয়ুন, হেসুস গ্যালার্ডো, হুগো আয়ালা, এডসন আলভারেজরা তো থাকবেন। তাদেরকে টপকে বিশ্বের যে কোন দলের ফরোয়ার্ডদের গোল করতে পেতে হবে বেগ।

বিশ্বকাপে মেক্সিকো আছে ডেথ গ্রুপ ‘এফ’এ। যেখানে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেন। ১৭ জুন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মেক্সিকানরা। তবে আপাতত এই গ্রুপকে ‘গ্রুপ অফ ডেথ‘ই বলা হচ্ছে। কারণ প্রতিটি দলেরই একে অন্যকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD