বাংলাদেশের স্বপ্নের শ্যূটিং শুরু আগামীকাল

বাংলাদেশের স্বপ্নের শ্যূটিং শুরু আগামীকাল

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

যে কোনো গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরতার ডিসিপ্লিন হচ্ছে শ্যূটিং। বড় আসরগুলোতে শূটাররাই কোনো না কোনো পদক দেশকে উপহার দেন। এবারও ২১তম কমনওয়েলথ গেমসে শ্যূটিংই বাংলাদেশের শেষ ভরসা। ঢাকা থেকে অনেক বড় গোলা নিয়ে বাংলাদেশ শ্যূটিং দল এসেছে সূদুর অস্ট্রেলিয়ায়। আব্দুল্লাহ হেল বাকিই হচ্ছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা। বাজির ঘোড়া তিনিই। কারণ গত কমনওয়েলথ গেমসে রূপা জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই শ্যূটার। তাকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় প্রত্যশা। ২৬ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে বাংলাদেশ এসেছে গোল্ড কোস্টে। এর মধ্যে ১২জনই শ্যূটার। এতে আর বুঝতে বাকি নেই বাংলাদেশ নির্ভর করছে শ্যূটিং দলের উপর। আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ‘স্বপ্ন পুরণ’ এর এই শ্যূটিংয়ের।

সাঁতার আর ভারোত্তোলন থেকে কোন সুখবরই পায়নি বাংলাদেশ। লাল-সুবজের জার্সিতে ওই দুটি ডিসিপ্লিনে মোটেও ভাল করেনি। আজ মহিলাদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে মাবিয়া আকতার সীমান্ত ১৩ জনের মধ্যে হন ষষ্ঠ। কমওয়েলথ গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় আসে কিছুদিন আগেই। লক্ষ্য এখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে হবে লড়াই। আগামীকাল লক্ষ্যভেদের লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশের শ্যূটার রাব্বি হাসান মুন্না, আবদুল্লাহ হেল বাকী, আরদিনা ফেরদৌস ও আরমিন আশা। এদের মধ্যে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুন্না ও বাকী। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে লড়বেন আরদিনা ও আশা।

বাংলাদেশ শ্যূটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলেন, ‘শ্যূটাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। প্রস্তুতিও ভাল হয়েছে। তবে ইংল্যান্ড, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মত দেশগুলোও জোড়ালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। সুতরাং আমাদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে।’ শ্যূটিংয়ে ভারতকেই প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবছে বাংলাদেশ। অপু বলেন, ‘ভারত ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তাদের অলিম্পিক শ্যূটাররাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এসেছে। আমরা যেখানে ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে অলিম্পিকে যাই, সেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোয়ালিফাই হয়। গত আসরেও তাদের আটজন শ্যূটার কোয়ালিফাই হয়ে অলিম্পিকে লড়েছে। যদিও পদক আনতে পারেনি। যেহেতু তারা যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে অলিম্পিকে খেলে, তাই তাদের সঙ্গে টেক্কা দেয়া কঠিন হবে।’ তবে অপু আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘তারপরও আমরা প্রস্তুত। ভালভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন সঠিক দিনে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করতে পারলে পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’

১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এয়ার পিস্তল থেকে স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন তারা। এটিই এই গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পদক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্ট থেকে লাল-সবুজদের শিবিরে স্বর্ণপদক এনে দেন আসিফ হোসেন। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত গেমসে বাংলাদেশ দলগতভাবে রৌপ্য এবং ২০১০ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। সবশেষ ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসে এই শ্যূটিং থেকেই বাংলাদেশকে রৌপ্য পদক এনে দেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। যাকে ঘিরেই এবারো পদক জয়ের স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। যে কারণে শ্যূটারদের পদক প্রাপ্তির বিপরীতে আগাম অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ফেডারেশন ও বিওএ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD