সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক আশরাফুলের

সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক আশরাফুলের

প্রতিভার কোন কমতি ছিলো না। কমতি ছিলো শুধু ধারাবাহিকতার। এরপরও একটা সময় আশরাফুলকে ছাড়া জাতীয় দল কল্পনা করা যেতো না। বিসিবির সাবেক এক প্রধান নির্বাচক অনেকটা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আশরাফুল এমন এক ক্রিকেটার যাকে দলে নিলেও সমালোচনা শুনতে হয়, অবার না নিলেও সমালোচনা শুনতে হয়।’

কারণ আশরাফুল যে দিন ছন্দে থাকেন, সেদিন গুড়িয়ে যায় যে কোন প্রতিপক্ষ। এর প্রমাণ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেটের পাওয়ার হাউস। ২০০৫ সালে কার্ডিফে ত্রিদেশীয় ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে সেঞ্চুরি করে রিকি পটিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এনে দিয়েছিলেন আশরাফুল। এর পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ রানে বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আর ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার লিগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৭ রানে ইনিংসে জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের চলতি মৌসুমে, সেই মোহাম্মদ আশরাফুল আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তিনি ফর্মে থাকলে অতীতে যা হতো, এবারও তাই হচ্ছে। আজ রোববার রেলিগেশন রাউন্ডে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে করেন সেঞ্চুরি (১০২*)। এনিয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। অর্থাৎ সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিকর পর সবমিলিলে এবারের লিগে এটি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের পঞ্চম সেঞ্চুরি। লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডও এটি। এবছর এই পাঁচ সেঞ্চুরিতে অনেকগুলো নতুন রেকর্ড গড়েছেন আশরাফুল।

চার সেঞ্চুরি নিয়ে এ বছর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যৌথভাবে পাকিস্তানের আসাদ শফিক ও ভারতের কর্নাটকের আগারওয়ালের সঙ্গে অবস্থান ছিলো তাঁর। আজ বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে ব্রাদার্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আশরাফুল।

ঢাকা লিগের এক আসরে সর্বোচ্চ ৫ সেঞ্চুরি করার রেকর্ড আছে কলাবাগানের পাকিস্তানি রিক্রুট জহুর এলাহীর। যদিও সেই রেকর্ডের ঠাঁই নেই লিস্ট ‘এ’ রেকর্ডসে। কারণ, ১৯৯৯-২০০০ সালে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট লিগ মর্যাদা পায়নি লিস্ট ‘এ’- র। লিস্ট ‘এ’-র মর্যাদা পাবার পর, আগের ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে এক আসরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন আশরাফুল। এতে আবাহনীর লিটন দাস ও নাজমুল হাসান শান্তর তিন সেঞ্চুরিকে পেছনে ফেলে, এক আসরে সর্বাধিক সেঞ্চুরির র্কীতি গড়েন তিনি।

লিস্ট ‘এ’ মর্যাদার পর আগের চার আসরের কোনটিতেই দুটির বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিলো না কার‌ও। ২০১৩-১৪ মৌসুমে আবদুল মজিদ ও ইংল্যান্ডের রবি বোপারার ২টি সেঞ্চুরি ছিল আলোচিত। পরের বছর ২টি করে সেঞ্চুরি ছিলো চামারা কাপুগেদারা, এনামুল হক বিজয়, রাজিন সালেহ, মেহেদী মারুফ ও রনি তালুকদারের।

এক মৌসুম পর ২০১৬ সালে একই র্কীর্তি গড়েছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, মাহমুদুল্লাহ, আবদুল মজিদ, ইমতিয়াজ তান্না ও তামিম ইকবাল। পরের মৌসুমে ২টি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন ৮জন।

এ বছর ২০১৭-১৮ মৌসুমে ভেঙ্গে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। এর আগে যেখানে ২টির বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিলো না, সেখানে এবার মোহাম্মদ আশরাফুল করেছেন ৫ সেঞ্চুরি। আর তিন সেঞ্চুরি করে আশরাফুলের পেছনে আছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। উপর্যুপরি তিন সেঞ্চুরি করে আশরাফুল পেছনে ফেলেছেন উন্মুক্ত চাঁদকে। এর আগে টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান।

লিস্ট ‘এ’ মর্যাদার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়ে আশরাফুল জানান দিলেন, তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় জীবনে প্রত্যাবর্তনকে স্মরনীয় করে রাখলেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD