সৌরভ গাঙ্গুলির সাক্ষাৎকার

সৌরভ গাঙ্গুলির সাক্ষাৎকার

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির সদ্য প্রকাশিত বই ‘আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। তবে বইটি সম্পর্কে নিজেই পরিষ্কার করে দিচ্ছেন, আত্মজীবনী নয়, মাইন্ডবুক৷ আধুনিক প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে লেখা৷ ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক বসু'র নেয়া সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে সৌরভের প্রকাশিত বই ছাড়াও উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ৷ বাংলাদেশের খেলা ডট কমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো, সেই সাক্ষাতকারটি।

প্রশ্ন: খেলা ছাড়ার এত দিন পর বই লেখার সিদ্ধান্ত কেন?

সৌরভ: এটা কোনও আত্মজীবনী নয়৷ মাইন্ডবুক বলতে পারেন৷ এত দিন পরে কারণ, হাজার জিনিসে ব্যস্ত থাকি তো, তাই লেখা হয়ে ওঠেনি৷

প্রশ্ন: তা হলে ভবিষ্যতে কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীও দেখা যেতে পারে?

সৌরভ: কেন নয়? অটোবায়োগ্রাফি, বায়োপিক সবই হতে পারে৷ জীবন অনেক বড়৷ এখনও অনেক ঘটনা ঘটবে৷ দেখা যাক…৷

প্রশ্ন: জীবনে প্রথম বই এই ফরমেটে লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

সৌরভ: এটা আমি লিখেছি আধুনিক প্রজন্মের কথা ভেবে৷ সবার জীবনে চাপ থাকে৷ সবাই সফল হতে চায়৷ কিন্তু জীবনে ওঠা -পড়া দুই থাকে৷ আমারও ছিল৷ সে গুলোই বইয়ে শেয়ার করেছি৷

প্রশ্ন: এত লড়াইয়ের পর আপনি থেমে থাকেন না৷ আপনার প্রেরণা কে?

সৌরভ: ভালো করার ইচ্ছে৷ আপনার মধ্যে এই ইচ্ছেটা থাকতে হবে৷ লড়াই সবারই থাকে৷ কার লড়াই নেই? যে কোনও কম্পিটিটিভ ওয়ার্ল্ডেই এগুলো হবে৷ এগুলো নিয়েই চলতে হবে৷

প্রশ্ন: বইয়ে লিখেছেন, কেকেআর ক্রিকেটার রিপ্লেস করে ফেলেছিল আপনাকে না জানিয়ে৷ এটা কি আইপিএলের কালচার?

সৌরভ: এটা সব কিছুর কালচার৷ টপ লেভেলে এটাই কালচার৷ হঠাত্ সরিয়ে দেওয়া৷ যে কোনও কারও জীবনে এটা হতে পারে৷ ওয়ান ফাইন মর্নিং আপনাকেও বলা হতে পারে, এবার আপনি আসুন৷ তবে কর্পোরেটে অপশন থাকে৷ এক্স না হলে ওয়াই কোম্পানি আছে৷ ক্রিকেটার হিসেবে আমার হাতে কোনও অপশন ছিল না৷ ন্যাশনাল টিমের তো আর বিকল্প হয় না৷ আমি বিশ্বাস করি, একটা সুযোগ যদি যায়, তা হলে আর একটা সুযোগ আসবেই৷ শুধু নিজের কাজটা সত্ভাবে করতে হবে৷ এই দর্শনই আমার বারবার কামব্যাকের কারণ৷

প্রশ্ন: ক্যামবাকের প্রসঙ্গে বইয়ে একটা চ্যাপ্টারের নামই রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে পানীয়ের বিজ্ঞাপনের কোটেশনটা৷ ম্যায় সৌরভ গাঙ্গুলি, ভুলে তো নেহি৷

সৌরভ: ওই কোম্পানির সঙ্গে সেটাই শেষ বিজ্ঞাপন৷ আর কখনও করিনি৷ কারণ ওই কমার্শিয়ালের কনটেন্টটা আমার ভালো লাগেনি৷ তখন করতে হয়েছিল কন্ট্র্যাক্ট ছিল বলে৷ তারপর আর রিনিউ করিনি৷

প্রশ্ন: একটা অন্য প্রশ্ন৷ একজনকে বাছতে হলে কাকে বাছবেন ফেডেরার না নাদাল? মেসি না রোনালদো?

সৌরভ: ফেডেরার৷ ও পুরোপুরি চ্যাম্পিয়ন৷ ফুটবলের কথা হলে মারাদোনা৷ আমার কাছে স্কিল আর অ্যাচিভমেন্ট অনুযায়ী মারাদোনাই সেরা৷ ধারে-কাছে কেউ নেই৷

প্রশ্ন: জীবনে নিজের সেকেন্ড ইনিংসে পারফর্ম করতে হঠাত্ সিএবিতে আসা কেন?

সৌরভ: মিস্টার ডালমিয়া জোর করে নিয়ে এলেন৷ আমাকে বললেন, ক্রিকেটকে সাহায্য করতে তোমাকে প্রয়োজন৷ সে জন্য ২০১৪ সালে সিএবিতে আসা৷ সেই থেকে চলছে৷

প্রশ্ন: প্রশাসক তো ঠিক আছে, ভবিষ্যতে কি ভারতের কোচ হিসেবে দেখা যেতে পারে?

সৌরভ: জানি না, কী হবে৷ ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারে না৷ এখন আমার জীবন অন্য খাতে বইছে, তাই কোচিং নিয়ে ভাবছি না৷

প্রশ্ন: ম্যাচ উইনার হিসেবে সচিনের চেয়ে বিরাটকে এগিয়ে রাখা যায়?

সৌরভ: একেবারেই নয়৷ সচিন প্রচুর ক্রুসিয়াল ম্যাচ দেশকে জিতিয়েছে৷ বিরাটও বড় ক্রিকেটার৷ তবে ম্যাচ উইনার হিসেবে সচিনকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলার জায়গা নেই৷ দু’জনের মধ্যে তুলনা করা যায় না৷ একজনের সঙ্গে আমি খেলেছি, আর একজনকে খেলতে দেখছি৷

প্রশ্ন: বিরাট না স্টিভ স্মিথ, কাকে এগিয়ে রাখবেন?

সৌরভ: অবশ্যই বিরাট৷ কারণ বিরাট শুধু তিনটে ফর্ম্যাটে ভালো খেলছে না, ডমিনেটও করছে৷ স্মিথ অবশ্যই বড় ক্রিকেটার৷ তবে ওভারঅল দেখলে বিরাটই এগিয়ে৷ বিরাট সব ফরমেটেই ম্যাচ উইনার৷

প্রশ্ন: এই স্মিথকে প্রথম ভারতে আপনিই নিয়ে আসেন৷ আইপিএলে পুনের হয়ে৷ তখন স্মিথ সম্পর্কে কেউ সেভাবে জানতেন না…

সৌরভ: হ্যা, মনেহয় আমার প্রতিভা খুঁজে নেওয়ার চোখটা আছে৷ সেভাবেই সেবাগ খেলেছে৷ ধোনি এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটে৷ যারা পরে ভারতীয় ক্রিকেটকে সার্ভিস দিয়েছে, দিচ্ছেও৷ অনেকদিন খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে এই চোখটা তৈরি হয়৷

প্রশ্ন: টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী?

সৌরভ: অবশ্যই ডে-নাইট টেস্ট৷ দর্শকদের মাঠে নিয়ে আসতে গেলে টেস্টকে দিন-রাতের করতেই হবে৷ দিনের বেলা সবার কাজ থাকে, স্কুল থাকে৷ সন্তাহের মধ্যে সবার পক্ষে সব ছেড়ে মাঠে আসা সম্ভব নয়৷

প্রশ্ন: সেই পিঙ্ক বল টেস্টে ভারতের খেলার সম্ভাবনা কতটা৷ সেখানে শিশির সমস্যাই বা মোকাবিলা করা যাবে কী করে?

সৌরভ: ভারত কবে খেলবে সেটা বোর্ডের অফিসিয়ালরা বলতে পারবেন৷ তবে শিশিরটা বড় সমস্যা নয়৷ এই সমস্যা তো লিমিটেড ওভার ক্রিকেটে ডে-নাইট ম্যাচেও থাকে৷

প্রশ্ন: আগামী বছর বিশ্বকাপ হচ্ছে নতুন ফরমেটে৷ দশটা টিম সবার সঙ্গে খেলছে৷ কতটা কঠিন হবে বিশ্বকাপ?

সৌরভ: খুবই কঠিন হবে৷ আর সেরা চারটে টিমই সেমিফাইনাল খেলবে৷ কমজোর ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেলাম, আর একটা জিতে সেমিফাইনাল, সেটা হবে না৷ যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলবে, তারাই জিতবে৷ সবচেয়ে বড় কথা, অনেকগুলো ভালো ম্যাচ দেখা যাবে৷

প্রশ্ন: এ তো ভারতের কথা৷ কিন্তু বাংলায় সৌরভের পর কে?

সৌরভ: এভাবে বলা মুশকিল৷ আমি মন থেকে চাই বাংলা থেকে কেউ ১০০টা টেস্ট খেলুক৷ এখন ঋদ্ধি, সামি খেলছে৷ বাংলা থেকে কেউ ১০০টা টেস্ট খেললে আমি একই রকম গর্বিত হব৷ বলতে পারব, এটা আমার প্লেয়ার৷ ইডেনের স্পোর্টিং উইকেট বানানোও কিন্তু বাংলা থেকে ভালো ব্যাটসম্যান তুলে আনার জন্য৷ পেস আর বাউন্সের মধ্যে খেললে আমরা আরও ভালো ব্যাটসম্যান তৈরি করতে পারব৷ এই যে মুম্বাই থেকে এত ক্রিকেটার উঠে আসছে, সেটাও ওয়াংখেড়ের উইকেটের জন্য৷

প্রশ্ন: ভিশন ২০২০-এ আপনাদের লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালে আরও বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে বাংলা থেকে টেস্ট খেলানো৷ দু’বছর আগে দাঁড়িয়ে কী বলবেন?

সৌরভ: ওই নামটা আমার দেওয়া নয়৷ ভিশন ২০২০ একটা প্রসেস৷ যেটার লক্ষ্য হচ্ছে, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ভালো করার জন্য ওদের গাইড করা৷ ঈশ্বরন ভালো খেলছে, ঈশান পোড়েল অনূর্ধ্ব-১৯ -এ ভালো করেছে৷ ভিশন ২০২০ হল সেন্টার ফর এক্সেলেন্স৷ সবাইকে এক সঙ্গে রাখাটাই ভিশন৷ প্লেয়ারদের ছেড়ে দিলেই ছন্নছাড়া হয়ে যাবে৷ যেভাবে এগোচ্ছি, তাতে ভালো হতেই হবে৷

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD