সাতে চোখ মেজবার

সাতে চোখ মেজবার

বাংলাদেশের স্প্রিন্ট ট্র্যাককে নিজের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেছেন মেজবাহ আহমেদ। ২০১৩ সালে জিতেছিলেন প্রথম স্বর্ণপদক। প্রথমবার দ্রুততম মানবের মর্যাদা পান বাংলাদেশ গেমসে। তারপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি। কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেননি তার শ্রেষ্ঠত্ব। দুই বা তিনবার নয়, দ্রুততম মানব হয়েছেন ছয়বার। এবার সেই সংখ্যাকে বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তার সামনে।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স। লক্ষ্যে অবিচল মেজবাহ সপ্তমবার হতে চান দেশের দ্রুততম মানব। ১০০ মিটারে মেজবাহর ছয়টি স্বর্ণ এসেছে- জাতীয় আসরে তিনটি, জাতীয় সামারে দুটি ও বাংলাদেশ গেমস থেকে একটি। এবার আরও একটি স্বর্ণপদকের হাতছানি। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে মেজবাহ বলেন, ‘প্রস্তুতি ভালো। আশা করা যায় এবারও ভালো কিছু হবে। সবকিছু আগে বলা কঠিন। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে সপ্তমবার জিততে পারবো।’

আত্মবিশ্বাসী মেজবাহর চোখ রেকর্ড সাতবার দ্রুততম মানব হওয়ায়। দেশের সাবেক দ্রুততম মানব মোশাররফ হোসেন শামীম সাতবার প্রথম হয়ে সবার ওপরে আছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দাপট ছিল তার। তার রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন মেজবাহ? দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিলেন গত ছয়বারের দ্রুততম মানব, `শামীম ভাইয়ের রেকর্ড স্পর্শ করার ইচ্ছা আছে। সেই লক্ষ্যে আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন চলছে আমার।’

আরও একটি ব্যাপার মেজবাহকে ভালো করার তাগাদা দিচ্ছে। এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাহলান আল হামাদ থাকবেন এবারের ইভেন্টে। তার সামনে ভালো কিছু করতে চান মেজবাহ। আর সবচেয়ে বেশি দ্রুততম মানব হওয়ার রেকর্ডটা এককভাবে দখল করার ইচ্ছা তার। তারপরই হয়তো জীবনের অন্য অধ্যায় শুরু করবেন তিনি, ‘এবার শামীম ভাইয়ের রেকর্ড ছুঁতে চাই। তারপর আগামী বছরে আরও একটা মিট আছে। সেখানে জিতে নতুন রেকর্ড গড়ে অবসরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে। রেকর্ড গড়েই ট্র্যাক ছাড়তে চাই। তাছাড়া এবার এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসেছেন। তার সামনে সেরা হতে পারলে আরও ভালো লাগবে।’

এবার মেজবাহর প্রতিদ্বন্দ্বী তার দল নৌবাহিনীর আবদুর রউফ এবং সেনাবাহিনীর শরিফুলসহ আরও কয়েকজন। এবার ইলেকট্রনিক্স টাইমিংয়ে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স হওয়ার কথা আছে। ২০১৪ সালে ২০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী মেজবাহ আশাবাদী টাইমিংয়ের ব্যাপারেও, ‘আমার টাইমিং আগের মতো ভালোই আছে। এখন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কী হয় দেখা যাক। সবার টাইমিং তো এক হয় না।’

অনেক সময় হ্যান্ড টাইমিংয়ে গড়ে ফল হয়। টাইমিং যার মাধ্যমেই হোক না কেন, সবার আগে ফিনিশিং লাইন পার হওয়াই মেজবাহর একমাত্র লক্ষ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD