‌শ্যূটার সাদিয়া অগ্নিদগ্ধ

‌শ্যূটার সাদিয়া অগ্নিদগ্ধ

রান্না করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে কমনওয়েলথ শ্যূটিংয়ের স্বর্ণ জয়ী সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা শরীর। গত ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে তার মুখমন্ডল ও তার নিচের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ঘটনার পরপরই সাদিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বাসনালী আক্রান্ত হওয়ায় এইচডিইউ’তে রাখা হয়েছে এ শ্যূটারকে।

সম্প্রতি পারিবারিকভাবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সাথে সাদিয়া সুলতানার আঁকদ সম্পন্ন হয়। কিছুদিন পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুড় বাড়িতে পা রাখার কথা। তাই তার মা তাকে রান্নার কাজটা শেখার জন্য অনুরোধ করেছিল। রান্না শিখতে গিয়েই গ্যাসের চুলা থেকে ওড়নাতে আগুন লেগে যায়। সে আগুনে তার মুখমন্ডল ও তার নিচের অংশ ঝলসে যায় বলে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা সারোয়ার হোসেন।

তিনি আরো জানান, ‘সাদিয়ার শারীরের ২০-২১ শতাংশ পুড়ে গেছে। কয়েকদিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ চিকিৎসার পর গত ১৮ অক্টোবর ঢামেকে নিয়ে আসা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। এখন সে কিছুটা শঙ্কামুক্ত।’

উল্লেখ্য, গত সাড়ে চার বছর ধরে প্রতিযোগিতা মুলক কোনো শ্যূটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি সাদিয়া। চট্টগ্রামে নিজ বাড়িতে থাকতেন পরিবারের সাথে। ২০১০ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ শ্যূটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে শারমিন আক্তার রতœার সঙ্গে জুটি গড়ে দেশকে এনে দিয়েছেন দলগত সোনা। একই বছর ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে দলগত সোনা জয় করেছিলেন সাদিয়া। ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ গেমসে সোনা জেতেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। ওটাই ছিল তাঁর শেষ প্রতিযোগিতা। এরপর আর রেঞ্জে নামা হয়নি সাদিয়ার। মানসিক কষ্ট থেকেই নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। বার কয়েক আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই সে রাস্তা থেকে তাকে সরিয়ে আনতে পেরেছিল পরিবারের সদস্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD