মিরপুরে আরেকটি ইতিহাস

মিরপুরে আরেকটি ইতিহাস

১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০১৫ সালে বেঁকে বসায় সেই সিরিজ হয় ২০১৭ সালে। আর এই ম্যাচেই অসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের ‘অভিষেক’ হয়েছে। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিমও প্রথমবার অসিদের বিপক্ষে ২২ গজে নামলেন। ঢাকা টেস্ট শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার নামার আগে রোমাঞ্চিত ছিলেন। এই রোমাঞ্চই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় এনে দিল। হলো আরেকটি ইতিহাস।
গত বছর মিরপুরে প্রথমবারের মতো সিংহ বধ করেছিল টাইগাররা। এবার সেখানে বধ হলো ক্যাঙ্গারুরা। চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টার পরই ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যেতে থাকে। সাকিব-তাইজুল-মিরাজদের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ক্যাঙ্গারুরা। আর তাতেই ২০ রানের জয় ধরা দেয় স্বাগতিকদের মুঠোয়।
তবে এটাকে অবিশ্বাস্য বলার কোনও সুযোগ নেই। মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা ঠিক এমনি কঠিন। এই কঠিনতম উইকেটে স্মিথ-ওয়ার্নাররা কাজটা অনেক সহজ করে ফেলেছিল বলে বাহবা পেতেই পারেন সফরকারীরা। তবে প্রথম সেশনের এক ঘণ্টা পর বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেছে তার জন্য তারাও স্যালুট পাবার যোগ্য।
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল উইকেটে বৈচিত্র্যপূর্ণ আচরণের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘উইকেট আনপ্রেডিক্টেবল। যে কোনও সময় যে কোনও কিছু হতে পারে। আমাদের ধৈর্য্য ধরে চতুর্থদিনের সকালটা শুরু করতে হবে। আগের ইনিংসগুলোতে একটা উইকেট পড়লে, আরও দুই তিনটা উইকেট পড়ে গিয়েছিল।’
চতুর্থদিনের সকালে তামিমের কথা ভালো ভাবেই ফলেছে। দিনের শুরু থেকে স্বাগতিক বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন ওয়ার্নার ও স্মিথ। অসি অধিনায়ক কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে খেললেও ডেভিড ওয়ার্নার ছিলেন আক্রমণাত্মক। সাকিব-মিরাজ-তাইজুল বিভিন্ন ডেলিভারিতে তাকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না।
অবশেষে আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যার জন্য গোটা বাংলাদেশ অপেক্ষায় ছিল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একটি ব্রেকথ্রু খুবই প্রয়োজন ছিল। সেই ব্রেকথ্রু প্রথম ঘণ্টার দশ মিনিট আগে এনে দেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। ১১২ রান করা ওয়ার্নারাকে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান সাকিব। আর তাতেই পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায় অতিথিদের। এরপর আশা-যাওয়ার মিছিল চলতে থাকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের।
এই মিছিল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কোনও ব্যাটসম্যানই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। লেট অর্ডার বেশ খানিকক্ষণ ক্রিজ আঁকড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হার বাঁচানোর জন্য তাদের লড়াই যথেষ্ট ছিল না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে; প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে হার দেখতে হয়েছে ক্যাঙ্গারুদের।
পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সাকিব। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরি করার পর বল হাতে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তার এই পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ লিড পায় ৪৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে কিছু করতে না পারলেও বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে ম্যাচটি বের করে এনেছেন সাকিবই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওয়ার্নার, স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল ও ওয়েডের উইকেট তুলে নেন। যদিও আগের দিন তুলে নিয়েছেন উসমান খাজার উইকেট। সবমিলিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে সাকিব কেন বিশ্বসেরা সেটাই প্রমাণ করলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD