জার্মানিতে ভালো করায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে : সিদ্দিকুর রহমান

জার্মানিতে ভালো করায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে : সিদ্দিকুর রহমান

ক্যারিয়ারের প্রথম ইউরোপিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্টে চমক দেখিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। জার্মানির পোরশে ওপেনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন শিরোপা রেসে, পরে তৃতীয় হন এ আসরে তিনি। ভারত ও ফিজিতে পরের দুটি আসরে অবশ্য ভালো করতে পারেননি সিদ্দিক। এ পারফরম্যান্স নিয়েই কথা বলেছেন দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান।

প্রশ্ন : প্রথম ইউরোপিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্টেই শিরোপা লড়াইয়ে থাকলেন, এতটা ভালো হবে কি ভাবতে পেরেছিলেন?
সিদ্দিক : সত্যি বলতে, টুর্নামেন্টটার আগে আমি বেশ নার্ভাস ছিলাম। এত লম্বা কোর্স! বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোর্সগুলোর মধ্যে হামবুর্গের এটা ষষ্ঠ। আমরা তো এশিয়ান ট্যুরের ছোট ছোট কোর্সে খেলে অভ্যস্ত। ওখানে কী হবে! এমন দুশ্চিন্তা থেকে কথা বললাম মনোবিদ আলী খানের সঙ্গে। উনার সঙ্গে বেশ কিছুদিনই হলো কাজ করছি। তো, তাঁর সঙ্গে আলোচনার পর আমার নিজের কাছে বিষয়টা অনেক হালকা হলো, আত্মবিশ্বাস পেলাম। সেভাবেই খেলে গেছি।

প্রশ্ন : কোর্স ছাড়া আর কি পার্থক্য এশিয়ান ট্যুরের চেয়ে ওখানে?
সিদ্দিক : ইউরোপিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্টগুলো শতভাগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। লিডারবোর্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো ভালো খেলোয়াড়। যে কেউই টুর্নামেন্ট জিতে যেতে পারে। আর আবহাওয়া, পরিবেশের একটা বদল তো আছেই। ঠাণ্ডা, বাতাস বড় প্রতিবন্ধকতা ওখানে। মোট কথা সব দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় ওখানে এশিয়ান ট্যুরের খেলোয়াড়দের।

প্রশ্ন : ওখান থেকে ফিরে ভারত ও ফিজিতে দুটি টুর্নামেন্টে ভালো হলো না কেন?
সিদ্দিক : এটা আসলে হয়েছে ভ্রমণক্লান্তির জন্য। ভারতের টুর্নামেন্টটায় তো আমি খেলতেই যাইনি। তার পরও নাম এন্ট্রি করা ছিল বলে খেলেছি। ফিজিতেও আমার ভালো করা-না করার সম্ভাবনা ছিল ফিফটি-ফিফটি। জার্মানিতে শর্ট গেম খুব ভালো হয়েছিল। সেটা এখানে একেবারেই হয়নি।

প্রশ্ন : জার্মানির টুর্নামেন্টটায় অনেকটা হুট করে অংশ নিয়েছেন, আগে থেকে পরিকল্পনা করেননি?
সিদ্দিক : আসলে আমার এখন ইউরোপিয়ান ট্যুরের যে কার্ড, তাতে এমন হুট করেই খেলার আমন্ত্রণ পাব। কোনো টুর্নামেন্টে আমাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে এটা খুব বেশি আগে থেকে জানার উপায় নেই। জার্মানিতে যেমন এশিয়ান ট্যুরের শীর্ষ পাঁচজনের খেলার সুযোগ ছিল, আমি ছিলাম অতিরিক্ত তালিকায় সেখান থেকেই সুযোগটা হয়ে গেল। ভিসা করে রেখেছিলাম। এখন তা-ই করতে হবে, যেসব টুর্নামেন্টে খেলার সম্ভাবনা থাকবে, সেসব দেশের ভিসা করে রাখতে হবে আগে থেকে।

প্রশ্ন : সুইজারল্যান্ডে ওমেগা মাস্টার্স খেলতে যাচ্ছেন?
সিদ্দিক : হ্যাঁ, এই আসরটায় আমি টানা কয়েক বছর ধরে খেলেছি। এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানটা পাইনি। এবার জার্মানিতে ভালো করায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, দেখা যাক ওখানে কী হয়। এরপর নেদারল্যান্ডসেও খেলতে পারি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD