হতশ্রী ব্যাটিংয়ে বড় হার

হতশ্রী ব্যাটিংয়ে বড় হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন বিশ্রামে। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল তামিম ইকবালকেও। বাকিরাও মাঠে ছিলেন বেশ গা ছাড়া। ফলাফল, বোলিংটা হলো ছন্নছাড়া, ব্যাটিংটা হতশ্রী। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল পর্ব শুরুর আগে বড় পরাজয়ে কিছুটা হলেও তাই ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের দেওয়া ৩২৫ রান তাড়া করতে নেমে ২২ রানেই ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৮৪ রানে। আর ম্যাচ হেরেছে নিজেদের রানের তিনগুণ বড় ব্যবধানে, ২৪০ রানে!

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে মঙ্গলবার বড় লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটাই হয়েছিল জোড়া ধাক্কায়। চতুর্থ ওভারে উমেশ যাদবের পাঁচ বলের মধ্যে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন সৌম্য। তবে বল তার ব্যাটে লেগেছে কি না, সেটা নিয়ে ছিল সংশয়! চার বল পরেই যাদবের ইনসুইঙ্গারে বোল্ড সাব্বির।

জোড়া ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ফিরেছেন ইমরুল কায়েসও। ভুবনেশ্বর কুমারের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড অনে উমেশ যাদবকে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দলের ১১ রানে দাঁড়িয়েই ফিরেছেন তিন ব্যাটসম্যান!

সপ্তম ওভারে আবার জোড়া ধাক্কা। এবার ভুবনেশ্বর কুমারের তিন বলের মধ্যে ফিরলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। ডানহাতি পেসারের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে রোহিত শর্মাকে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। উইকেটকিপার দিনেশ কার্তিকের দারুণ এক ক্যাচে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে উইকেটে টিকতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেনও। উমেশ যাদবের গুড লেংথ বলে উইকেটকিপার দিনেশ কার্তিককে ক্যাচ দিয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান। তখন ৭.৩ ওভারে ২২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে বাংলাদেশ! দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি কেউই!

বাংলাদেশের স্কোর পঞ্চাশ হওয়া নিয়েই তখন দুশ্চিন্তা। দলকে ৪৭ পর্যন্ত টেনেছেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপরই সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন মুশফিক। মোহাম্মদ শামির বলে রবীন্দ্র জাদেজাকে ক্যাচ দেওয়ার আগে মুশফিক করেছেন ১৩।

মিরাজই ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা একটু লড়েছেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান জাসপ্রীত বুমরাহকে টানা তিন চারে স্বাগত জানান।  অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৪ রান তারই। ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চারের মার।

এরপর ৮৩ থেকে ৮৪, ১ রানের মধ্যে শেষ ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সানজামুল ইসলাম করেন ১৮ রান। ভারতের ভুবনেশ্বর ও উমেশ নেন ৩টি করে উইকেট। শামি, বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন এই ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া সাকিব। অবশ্য বোলিং নিয়ে ভারতকে বেশ চাপেই ফেলেছিল বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যেই রোহিত শর্মা ও অজিঙ্কা রাহানের উইকেট তুলে নেন যথাক্রমে রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

কিন্তু শুরুর ছন্দটা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া দিনেশ কার্তিকের ৯৪, শিখর ধাওয়ানের ৬০ ও শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়ার ৫৪ বলে অপরাজিত ৮০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২৪ রান তোলে ভারত।

৯ ওভারে ৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার রুবেল। সানজামুল নেন ২ উইকেট, তবে বাঁহাতি স্পিনার ৯ ওভারে রান দেন ৭৪। মুস্তাফিজ ৮ ওভারে ৫৩ রানে নেন একটি উইকেট। মিরাজ কোনো উইকেট না পেলেও কিপটে বোলিং করেছেন, ৯ ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ৩৯। পরে ব্যাটিংয়েও মিরাজই যা একটু লড়লেন!

একই মাঠে আগামী ১ জুন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এজবাস্টনে ৪ জুন ‘বি’ গ্রুপে ভারতের প্রথম ম্যাচ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ৩২৪/৭

বাংলাদেশ: ২৩.৫ ওভারে ৮৪

ফল: ভারত ২৪০ রানে জয়ী।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD