ইংলিশ বধের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঢাকায়

ইংলিশ বধের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঢাকায়

কাছাকাছি শক্তির জিম্বাবুয়ে আর ‘এ’ দলের খোলসে জাতীয়দল নামধারী ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় ছাড়া টেস্টে আর কারো বিরুদ্ধেই জয় ছিল না বাংলাদেশের। এ ধারার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে অবশেষে ক্রিকেটের কোনো এক পরাশক্তিকে প্রথম টেস্টে হারানো।

তাও ক্রিকেটের জনক ও অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে; এর চেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ আর কী হতে পারে? এমন জয়ের উল্লাস-উচ্ছ্বাস হবে বাঁধভাঙ্গা। খুশির ফলগুধারা বইবে। আর থামবে না। শেরে বাংলার মাঠ, ড্রেসিং রুম ও র‌্যাডিসন (টিম বাংলাদেশ এ সিরিজে সেখানেই আছে) হোটেল হয়ে উঠবে উৎসবের প্রাণকেন্দ্র।

তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে এমন উল্লাস হবে, যা কেউ আগে কখনো দেখেনি; কিন্তু একি! মুশফিক, তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজরা তেমন বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়লেন না।

হয়ত বলবেন, ১০৮ রানের বিরাট ও সহজ জয়ের পর আর কিই বা বাড়তি উল্লাস করবে? মেহেদী হাসান মিরাজের বলে যখন ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান স্টিভেন ফিন আউট হলেন, তখন আনন্দ-উল্লাসে মেতে না উঠে দল বেঁধে ইংল্যান্ড ড্রেসিং রুমের দিকে যাওয়া। অ্যালিস্টার কুক বাহিনীর সবার সঙ্গে সৌজন্যতা বিনিময় করে নিজেদের ড্রেসিং রুমে চলে আসা। দু-এক মিনিটের ছোট্ট বিরতি। তার পর পরই ভিক্টরি ল্যাপ।

উইকেট তুলে মাঠে ঢুকে হৈ হুল্লোড় করে আবার ড্রেসিং রুমেই ফিরে যাওয়া। সেখানে গিয়ে কোচ কোর্টনি ওয়ালশের জন্ম দিনের কেক কাটা। মোদ্দা কথা, এমন অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক জয়ে ঠিক যেমন উল্লাস হওয়ার কথা ছিল; টাইগাররা তা করলেন না।

এমনকি খেলা শেষে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম যে কথা বললেন, সেখানেও কোন বাড়তি আবেগ-উচ্ছ্বাস ছিল না। এমন কেন? শুনবেন?

মুশফিকুর রহীমের কথা ও শরীরি ভাষা বলে দিচ্ছিল, এ জয় আকাশ কুসুম কল্পনার বাস্তব রুপ নয়। ইংলিশদের হারানোর একটা সুপরিকল্পনা ছিল। তার কথায় পরিষ্কার, আগে কোনো দিন না হলেও এবার বাংলাদেশ জিততেই চেয়েছিল। ম্যাড়মেড়ে ড্র নয়।

সে জয়ের জন্য কি কি দরকার ? তা ভেবে চিন্তে এগিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ধরে নেয়া হয়েছে, ইংলিশরা স্পিনে দূর্বল। উইকেট তৈরি করতে হবে স্পিন সহায়ক বা টার্নিং। ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপে বেশ কজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, তাই একাদশে একজন স্পেশালিষ্ট অফস্পিনার নেয়া। টিম কম্বিনেশন ঠিক করার পর লক্ষ্য বা পরিকল্পনা স্থির।

চট্টগ্রামে টার্নিং উইকেটে প্রায় সাফল্যের হাতছানি দিলেও অল্পের জন্য ধরা দেয়নি। অবশেষে ‘হোম অব ক্রিকেটে’ মিললো জয়ের নাগাল। ‘এমন সাফল্যর কথা কি কখনো চিন্তা করেছিলেন?’

এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক যা বলেছেন, ওপরের কথাগুলো তারই সারমর্ম। মুশফিকের ভাষায়, ‘আসলে স্বপ্ন না থাকলে কোন বড় কিছু বাস্তবে করে দেখানো কঠিন। আমাদের স্বপ্ন ছিল। বিশ্বাস এবং আস্থাও ছিল- আমরা যদি স্পিনিং ট্র্যাক তৈরি করতে পারি এবং নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যরে সঠিক প্রয়োগ ঘটানো যায়, তবে সাফল্যের দেখা মিলবে’।

পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে মুশফিক একটা চমকৎকার কথা বলেন, ‘ইংল্যান্ড আসার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যে, এমন উইকেট বানাবো সেটা যেন তিন থেকে চার দিনের বেশি স্থায়ী না হয়। যে উইকেটে আমাদের স্পিনাররা অনেক হেল্প পাবে এবং ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের প্রচুর সমস্যা হবে’।

অমন উইকেটে আমরা চট্টগ্রাম টেস্টে অনেক ভালো খেলেছি। তবে সত্যি বলতে কি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ দিন পর্যন্ত খেলা গড়ানোয় আমি অবাক হয়েছি। আমি অনেক সারপ্রাইজড যে, উইকেটটাতে আমরা দুটি দলই পাঁচদিন ধরে অনেক ফাইট করেছি। ওটা যে উইকেট ছিল তিন বা সাড়ে তিনদিনের বেশি খেলা গড়ানোর কথা ছিল না।’

টাইগার অধিনায়কের অনুভব, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং তার দল মিলে যে পরিকল্পনা করেছিলেন, মাঠে তার সঠিক ও সফল প্রয়োগ হয়েছে। তারই ফল এ জয়।’

মুশফিক তাই খুশি। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। অনেক সাধনার পর কোনো একটা জিনিস পাওয়া গেলে অবশ্যই ভালো লাগে। আর এটাও তার ব্যতিক্রম কিছ না’।

তার শেষ কথা, আমি বলবো এটা পূর্ব পরিকল্পিতই ছিল, আমরা এমন অবস্থা তৈরি করবো যাতে ইংলিশ বধ সম্ভব। চট্টগ্রামে অল্পের জন্য না পারার পর বলেছিলাম, আগামীতে যেন জয়ের অবস্থা তৈরি হলে বিজয়ী না হয়ে মাঠ না ছাড়ি’।

এবার সত্যি সত্যিই মুশফিক বাহিনী জয়ের বেশে মাঠ ছেড়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD