লড়লেন কেবল মোসাদ্দেক

লড়লেন কেবল মোসাদ্দেক

প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে আফগানিস্তান জানান দিল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে স্বাগতিকদের জন্য। অতিথিদের কাছে ৬৬ রানে বিসিবি একাদশ হারলেও নিজের সামর্থ্যটা ঠিকই দেখিয়েছেন প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন।

শুক্রবার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভার ২ বলে ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস। জবাবে ৩৮ ওভার ১ বলে ১৬৭ রানে mosaddekঅলআউট হয়ে যায় বিসিবি একাদশ।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বিসিবি একাদশের। পেসার করিম জানাতের লেগ স্টাম্পের বল ফ্লিক করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।

এনামুল হক ও সাব্বির রহমানকে বিদায় করেন আরেক পেসার ফরিদ আহমেদ। আগের বলে বোলারদের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার এক চার হাঁকানো এনামুল ফিরেন বাজে শট খেলে। এগিয়ে এসে স্টাম্পের বল তুলে মারতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান।

গত প্রিমিয়ার লিগে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারা সাব্বির রহমান প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

লিগের শেষের দিকে এসে রানের দেখা পাওয়া লিটন দাসও পারেননি দুই অঙ্কে যেতে। মোহাম্মদ নবির বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যান কেবল মোসাদ্দেক। ৩৯ রানে চার উইকেট হারানো বিসিবি একাদশকে কক্ষপথে রাখেন ২০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারই।

গত প্রিমিয়ার লিগে এমন পরিস্থিতি থেকে কয়েকবার দলকে উদ্ধার করা মোসাদ্দেক খেলেছেন ৭৬ রানের নজর কাড়া এক ইনিংস। শুরুতে বেশ কিছুটা সময় নেন এই তরুণ। পরে স্পিনে অসাধারণ ফুটওয়ার্কে দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য।

খেলেছেন দারুণ কিছু শট। ১৯তম ওভারে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন মোসাদ্দেক। স্লিপের পাশ দিয়ে চার হাঁকিয়ে শুরু। মাঝে ইন-সাইড আউটে দারুণ এক চার। শেষটায় লং লেগ দিয়ে আবার বল সীমানা ছাড়া করেন তিনি।

তিন ওভার পর চড়াও হন লেগ স্পিনার রশিদ খানের ওপর। ওয়াইডিশ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাকানোর পর কাট করে হাঁকান আরেকটি চার।

প্রতিরোধ গড়া ৫৬ রানের জুটি ভাঙে মেহেদি হাসান মিরাজের রান আউটে।

শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা শুভাগত হোম চৌধুরীর (৩৪) সঙ্গে মোসাদ্দেকের ৫৯ রানের আরেকটি জুটি আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল স্বাগতিকদের।

৩০তম ওভারে লেগ স্পিনার রহমত শাহকে কাট করে চার হাঁকান মোসাদ্দেক। এক বল পর পুল করে মিডউইকেট দিয়ে হাকান বিশাল এক ছক্কা। অর্ধেক পূর্ণ গ্যালারিতে তখনই প্রথমবারের মতো শোনা যায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শ্লোগান।

৩তম ওভারে মিডউইকেট দিয়ে আরেকটি বিশাল ছক্কা হাঁকান মোসাদ্দেক। তার ও শুভাগর দাপুটে ব্যাটিংয়ে এক সময়ে ছয় ছুঁই ছুঁই রানের প্রয়োজনীয়তা তখন নেমে আসে পাঁচের নিচে।

তখনই আঘাত হানেন মোহাম্মদ নবি। তার বল কব্জির মোচড়ে ঘুরাতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মোসাদ্দেক। ১১২ বলে খেলা তার ৭৬ রানের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও তিনটি ছক্কায়।

৩৪তম ওভারে মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর বেশিদূর এগোয়নি বিসিবি একাদশের ইনিংস। ১৩ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। শেষ চার ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সেরা বোলার বাঁহাতি স্পিনার নবি। দুটি করে উইকেট নেন ফরিদ ও রশিদ।

এর আগে স্বাগতিকদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকে রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয় আফগান ব্যাটসম্যানদের। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান নওরোজ মঙ্গল ও রহমত শাহ।

ঝড় তোলার আগেই ফিরে যান মোহাম্মদ শাহজাদকে। এগিয়ে আসা এই মারকুটে ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন আলাউদ্দিন বাবু।

৪৭ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো অতিথিরা প্রতিরোধ গড়ে হাশমতুল্লাহ শাহিদির ব্যাটে। অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে ৬৩ ও রশিদ খানের সঙ্গে ৪১ রানের দুটি জুটি গড়েন তিনি।

দুটি জুটিই ভাঙেন প্রথম দুই ওয়ানডের দলে জায়গা না পাওয়া মেহেদি হাসান মিরাজ। স্তানিকজাই (৩১) ও রশিদ (৩০) উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সীমানায়।

হাশমতুল্লাহর ৬৯ রানের চমৎকার ইনিংস শেষ হয় আলাউদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে। পরে দৌলত জাদরানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অতিথিদের ইনিংস গুটিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করা মিসওয়াইস আশরাফ অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে।

বিসিবি একাদশের আলাউদ্দিন ও মেহেদি তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট নেন দুই পেসার আবু হায়দার ও শুভাশীষ রায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ৪৯.২ ওভারে ২৩৩ (মঙ্গল ১০, শাহজাদ ১৭, রহমত ৮, হাশমতুল্লাহ ৬৯, স্তানিকজাই ৩১, রশিদ ৩০, নুরি ১০, আশরাফ ৩২*; নবি ৬, জানাত ৬, দৌলত ০; আলাউদ্দিন ৩/৩২, হায়দার ২/২২, শুভাশীষ ২/৪৪, মোসাদ্দেক ০/১২, সানজামুল ০/৩৭, রাব্বি ০/৩২, মেহেদি ৩/৪৮)

বিসিবি একাদশ: ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ (ইমরুল ৮, এনামুল ৫, সাব্বির ৯, মোসাদ্দেক ৭৬, লিটন ৬, মেহেদি ১৫, শুভাগত ৩৪, আলাউদ্দিন ০, আল আমিন ৫, হায়দার ০, সানজামুল ০*; ফরিদ ২/১৯, জানাত ১/২৮, আশরাফ ০/৪, নবি ৪/২৪, হামজা ০/৪৩, রশিদ ২/২৫, রহমত ০/২১)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD