বর্ষসেরার পুরস্কার পেলেন আজাদ মজুমদার

বর্ষসেরার পুরস্কার পেলেন আজাদ মজুমদার

তিনজন তিন প্রজন্মের, তিন মাধ্যমের। সাংবাদিকতার জগতে মুজনেবীন তারেকের পদচারণা বছর পাঁচেকের, নোমান মোহাম্মদের অভিজ্ঞতা ১৫ বছরের আর আজাদ মজুমদার সাংবাদিকতা পেশায় আছেন ১৯৯৭ সাল থেকে। তারেকের কর্মক্ষেত্র যমুনা টিভি, নোমান কাজ করেন বাংলা দৈনিকে আর আজাদ ইংরেজি দৈনিক ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থায়। ২০১৫ সালের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন তালিকায় ঠাঁই পাওয়া ছাড়াও তাঁদের জীবনের আরেকটা মিল লক্ষণীয়! তাঁরা তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। ক্রিকেটারদের সাফল্যের পেছনে যদি আঁতুড়ঘর বিকেএসপির গৌরব বাড়ে, তাহলে সাবেক এই তিন শিক্ষার্থীর হাত ধরে হয়তো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডও খানিকটা কৃতিত্বের দাবিদার। ফুটবলে পাতানো ম্যাচের প্রতিবেদন করেছিলেন তারেক, নোমানের লেখায় উঠে এসেছিল ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ‘১৬ কোটির ১৫’ জনের বৃত্তান্ত আর আজাদ তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে বছরজুড়েই জন্ম দিয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর খবরের। সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত এই তিনের ভেতর থেকে চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন আজাদই, বাকি দুজনও সন্তুষ্ট সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসতে পেরে।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের ক্রীড়া সম্পাদক আজাদ ২০১৫ বিশ্বকাপ কাভার করতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে গিয়ে মাঠের খেলার খবরের পাশাপাশি খুঁজেছেন ক্রিকেটারদের খেলার বাইরের দুনিয়াটাও। এই নিয়ে তাঁর ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরিজ অব ২০১৫’ ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের করা অন্যতম সেরা প্রতিবেদন। এ ছাড়া মেলবোর্নে ভারতের সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক হারের পর ‘মেলবোর্ন গিভস অ্যান্ড থ্রোজ ইট অ্যাওয়ে ফ্রম মাশরাফি’ লেখাটিও ধারণ করেছিল সমর্থকদের মর্মবেদনা। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বাংলাদেশ সফরে এসে অনুশীলনে ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার অনেকেই দেখেছেন চমক হিসেবে। আজাদ সেই চমকে না ভুলে খতিয়ে বের করেছেন, বিনা অনুমতিতে ড্রোন ওড়ানো বাংলাদেশে আইনের লঙ্ঘন। বার্তা সংস্থা এএফপির কল্যাণে খবরটি ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী। দীর্ঘ কর্মজীবনে সাংবাদিকসুলভ দৃঢ়তা দেখানো আজাদ তাই বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিক পুরস্কারের যোগ্য বিজয়ী।

বছরজুড়ে নোমান মোহাম্মদের লেখা কালের কণ্ঠের পাঠকরা পড়েছেন। তাঁর উপমার ব্যবহারে মুগ্ধও হয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের পেছনের গল্পগুলো খুঁজে আনা বা আন্তরিক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন খেলার কীর্তিমানদের জীবনের গল্প তুলে আনার যে মুনশিয়ানা তিনি দেখিয়ে যাচ্ছেন, কালের কণ্ঠের ক্রীড়া বিভাগের পাঠকপ্রিয়তার পেছনে এই গুণের অবদান কম নয়। এবার প্রথম রানার-আপ হয়ে থাকা নোমান জানিয়েছেন, এই মনোনয়ন থেকেই তিনি এবং তাঁর অন্য সহকর্মীরা খুঁজে নেবেন আরো ভালো করার প্রেরণা।

তারেকের প্রতিবেদনের জের ধরে শাস্তি হয়েছে দোষীদের, একজন সাংবাদিকের এটাই বড় পাওয়া। তাই দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েও আক্ষেপ নেই তাঁর। সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো কাজ করার প্রেরণাই ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইট থেকে খুঁজে পেয়েছেন তারেক, প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন এ কথাই। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস সম্মাননা জানিয়েছে দুই অগ্রজ ক্রীড়ালেখক হাসান মাহমুদ বাবলী ও মুজিবুল হককে। তাঁদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইটের প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএসপিএ প্রেসিডেন্ট মোস্তফা মামুন। প্রধান অতিথির ভাষণে ওবায়দুল কাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএসপিএ ও বিজয়ীদের। সেই সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকার দিনগুলোও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD