ইতিহাস গড়ে বোল্টের রিও জয়

ইতিহাস গড়ে বোল্টের রিও জয়

স্পোর্টস ডেস্ক : দৌড়ালেন সবাইকে ছাড়িয়ে, গড়লেন ইতিহাস। ১০০ মিটার ¯িপ্রন্টে টানা তৃতীয় অলিম্পিকে সোনা জিতে নিলেন উসাইন বোল্ট। ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং করতে পারেননি বোল্ট, তবু ইতিহাস গড়েছেন। তার ট্র্যাকে নামা মানেই নিশ্চিত সোনা, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। তিনি বলে কয়েই যেন সোনা জয় করলেন।

 
রিও অলিম্পিকের দশম দিনে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটা ২৫ মিনিটে আসরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ইভেন্টে জ্যামাইকার এই গতি দানবের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিন।

 
এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো অলিম্পিকে ১০০ মিটার ¯িপ্রন্টে সোনা জয় করেন জ্যামাইকান তারকা। অলিম্পিকে ১০০ মিটারে যা বোল্টের ‘হ্যাটট্রিক’ সোনা। অলিম্পিকের ট্র্যাকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে এর আগে টানা তিনটি সোনা জিততে পারেনি কোনো অ্যাথলেট। বোল্ট দৌড় শেষ করেন ৯.৮১ সেকেন্ডে। আবারও তার পেছনে থাকতে হলো লন্ডনে গত আসরে ব্রোঞ্জ জেতা গ্যাটলিনকে (৯.৮৯ সেকেন্ড)। ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন কানাডার অঁদ্রে দে গ্রাস। বেইজিংয়ে গত বছরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ফিনিশিং অর্ডার এটাই ছিল। ১০০ মিটারে তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অবশ্য তার বার্লিনে ২০০৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গড়া বিশ্ব রেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডের ধারে কাছে আসতে পারেনি।

 

 

তবে বোল্ট নিজের পুরো ফর্মে না থাকলেও তাকে হারানো প্রায় অসাধ্যই। সেমি-ফাইনালে অনায়াসে দৌড়ে ৯.৮৬ সময় নিয়ে বোল্ট ফাইনালে ওঠায় বোঝা গিয়েছিল ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ফাইনালে ধীর শুরুর পর ৭০ মিটার পর্যন্ত পিছিয়ে ছিলেন। তবে বড় বড় পদক্ষেপে শেষ দিকে ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে সোনাজয়ী গ্যাটলিনকে ছাড়িয়ে যান বিশ্বের দ্রুততম মানব। সেই ১২ বছর আগে জেতা অলিম্পিক খেতাবটা পুনরুদ্ধার করা আর সুযোগ পাচ্ছেন না ৩৪ বছর বয়সী গ্যাটলিন। ডোপিংয়ের অভিযোগ দুইবার নিষিদ্ধ থাকার পর ফিরে এসে এই বয়সেও বোল্টকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য তার, তা রিওর দর্শকরা যতই তাকে ধুয়ে দিক। অন্যদিকে বোল্ট মাঠে আসার পরই স্টেডিয়ামজুড়ে দর্শকদের মুখে কেবল তার নাম। গ্যাটলিন জিতলে ব্রাজিলের দর্শকদের আচরণে বিব্রতকর অবস্থাতেই পড়তে হতো আয়োজকদের।

 

২০০৮ সালে বেইজিং ও ২০১২ সালে লন্ডনে ১০০, ২০০ ও ৪ী১০০ মিটার রিলেতে জয়ী বোল্টের অলিম্পিক সোনা হলো ৭টি। এই আসরে ২০০ আর ৪ী১০০ মিটারের সোনা জিতলে হবে ঐতিহাসিক ‘ট্রিপল ট্রিপল’। ২০০৮ সালের অলিম্পিকে বিশ্বকে মোহিত করার পর অলিম্পিক আর অ্যাথলেটিক্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়শিপের মতো বড় আসরে একবারই কেবল তার তিনটি ইভেন্টের কোনো একটিতে সোনা হাতছাড়া হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়শিপে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন। এছাড়া গত চারটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার ১১টি ইভেন্টের মধ্যে ১১টিতেই সেরা বোল্ট।
রিও ডি জেনেইরোর এই আসর হতে যাচ্ছে ২৯ বছর বয়সী বোল্টের শেষ অলিম্পিক। ২৯ বছর বয়সি বোল্ট গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন ২০১৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসরে যাবেন।

 

সে ক্ষেত্রে আরেকবার ১০০ মিটার ট্র্যাকে নামার সুযোগ তো পাচ্ছেন দ্রুততম গতি দানব। এর আগে রিওতে বাকি দুটো ইভেন্টে সোনা জিতে বোল্টের ইতিহাস গড়ার চেষ্টায় চোখ থাকবে পুরো বিশ্ববাসীর। স্থানীয় সময় আগামী বৃহস্পতিবার হবে ২০০ মিটার দৌড়ের ফাইনাল। তবে নিজের পারফরম্যান্সে খুশি নন বোল্ট। বিবিসিকে দৌড় শেষ করে বোল্ট বলেন, প্রত্যাশা ছিল আরো দ্রুত দৌড় শেষ করতে পারব। কিন্তু পারিনি। আমি জিতেছি- এ জন্য আমি খুশি। এখানে পারফর্ম করতে এসেছি। সেটাই করেছি।

 
গতি কমছে গতিদানবের :
২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক            ৯.৬৯ (বিশ্ব রেকর্ড)
২০০৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, বার্লিন    ৯.৫৮ (বিশ্ব রেকর্ড)
২০১২  লন্ডন অলিম্পিক               ৯.৬৩ (অলিম্পিক রেকর্ড)
২০১৩  বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, মস্কো    ৯.৭৭
২০১৫  বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, বেইজিং  ৯.৭৯
২০১৬  রিও ডি জেনেইরো অলিম্পিক ৯.৮১

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD