‘বিষাক্ত’ মুস্তাফিজকে মনে রাখবে আইপিএল

‘বিষাক্ত’ মুস্তাফিজকে মনে রাখবে আইপিএল

মাহফুজ রাহমান : গত কয়েক বছর ধরে আইপিএল-এ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান। তবে চলতি আসরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তরুণ টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আইপিএল-এ সেরা উইকেট শিকারি তার সতীর্থ ভুবনেশ্বর কুমার হলেও ‘হট কেক’ ছিলেন মুস্তাফিজ-ই।
আইপিএল-এর নিলামে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোর জন্য লড়াই হয়েছিল হায়দরাবাদ ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে। ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ রুপি হলেও শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে পাওয়ার জন্য এক কোটি ৪০ লাখ রুপি দাম ওঠে। নিলামে তাকে কিনে নেয় হায়দরাবাদ। এখন সে জন্য বড্ড আফসোস করতেই পারেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি!
স্কোয়াডে বর্তমান বিশ্বক্রিকেটের ভীতি জাগানিয়া সব ব্যাটসম্যান। আইপিএল জেতার মতো সব রসদই ছিল কোহলির অস্ত্রাগারা। কেবল একজন মুস্তাফিজ ছাড়া। মুস্তাফিজ হিন্দি জানেন না, ইংরেজিতেও নাকি তার ভীষণ ভয়। কিন্তু ক্রিকেটের নিজস্ব ভাষা যে মুস্তাফিজের বেশ রপ্ত! সেই ক্রিকেটীয় ভাষাতেই নিজের কাজটা করে গেলেন নিপুণভাবে। তার প্রধান অস্ত্র ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কার। সঙ্গে কাটার ও স্লোয়ারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের গলা চেপে ধরেছেন মুস্তাফিজ।
তবে দাপুটে বোলিং করলেও ভাগ্য সহায় না থাকায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি নন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর তার চাপ সৃষ্টির ফায়দা তুলে নেন অপর প্রান্তে থাকা হায়দরাবাদের আরেক পেসার ভুবনেশ্বর কুমার।
মুস্তাফিজের ইয়র্কার সামলাতে না পেরেই মাটিতে কুপোকাত হয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। যা ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এখনও ভাসছে। মুস্তাফিজের ওই ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কারও মনে রাখবে আইপিএল।

এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিশ্বব্যাপি নতুন করে নজর কেড়েছেন অভিষেকে হইচই ফেলে দেওয়া ‘দ্য ফিজ’। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেটবিশ্বের রথী-মহারথীরা। ঘোরতর বাংলাদেশ বিরোধী বলে পরিচিত নভোজ্যাৎ সিং সিধুর কণ্ঠেও শোনা গেছে মুস্তাফিজ স্তুতি। কাটার মাস্টারকে নিয়ে তার উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কবিতাও লিখেছেন তিনি। মুস্তাফিজের প্রশংসায় সিধু মেতেছেন এভাবে, ‘মুস্তাফিজ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আর সে এখানে এসে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাকি সবাইকে। হি ইজ অ্যাবসলিউটলি মাইন্ডব্লোইং!’

ভারতীয় সাবেক মিডিয়াম পেসার মনোজ প্রভাকর বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ ইয়র্কার ও কাটার সব কিছুই দারুণভাবে আয়ত্ব করেছে। তার কব্জির ব্যবহার আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে তাকে আটকানো মুশকিল হয়ে যাবে। সে সুইংটাকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’

অ্যালান ডোনাল্ডের ভাষ্য, ‘সে আসলে অসাধারণ আবিষ্কার। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন একজন বোলারের অপেক্ষায়। তাকে মারার আগে ব্যাটসম্যানদের দুইবার ভাবতে হবে। এ ছাড়াও তার চমৎকার ইয়ার্কার আছে। গতির পরিবর্তন করে দারুণভাবে। বয়স কম হলেও সবকিছু চমৎকারভাবেই করে।’

সাবেক অসি পেসার ডার্ক ন্যানেস বলেন, ‘এখনও মুস্তাফিজের বল কেউই রিড করতে পারেনি। যেভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে ও সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়। যেটা অনবদ্য। আমার বিশ্বাস অনেকদিন ক্রিকেট মাঠ দাঁপানোর জন্যই এসেছে মুস্তাফিজ।’

বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে পরিচিত রমিজ রাজা বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে জেমস অ্যান্ডারসন আর ডেল স্টেইন খুবই ভালো বোলার। তবে এই মুহূর্তে সীমিত ওভারে মুস্তাফিজই সেরা পেসার।’ সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মতে, ‘ক্রিকেট বিশ্বে মুস্তাফিজের চেয়ে ভালো কেউ নেই। কিন্তু মুস্তাফিজকে সেরাদের সেরা হতে আরও লম্বা সময় ধরে পারফর্ম করতে হবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ড্যারেন সামি বলেন, “এই ছেলেটি আমাকে অবাক করে দিয়েছে। কী নিখুঁত তার বোলিং। ‘ফিজ’ তুমি এগিয়ে যাও, সামনে তোমার অনেক বড় দিন আসতে চলেছে।”

আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ তার বোলিং ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে, সে ১৪৫ কি.মি গতিতে খুব সহজেই বল করতে পারে। তার স্লোয়ারগুলো দুর্দান্ত। আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে সে তার বোলিংয়ের অ্যাকশন ও রানআপ পরিবর্তন করে না। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তার বল খেলা খু্বই কঠিন।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD