জয়তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ

জয়তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ

এম এস সহাব : ক্যারিবীয়রা এমনিতই ফুর্তিবাজ। নাচে-গানে উৎসবে মেতে থাকাই যেন তাদের ধর্ম। এই মেতে থাকার মাত্রা কতটা বেপরোয়া হবে তা জানতে ক্যাবিরীয় দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে চোখ রেখেছেন, তারা নিশ্চয় অনুমান করতে পারবেন কি রকম উৎসব হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। উৎসব হওয়াই বাঞ্জনীয়। মেয়েদের পর একই দিনে ছেলেরাও জিতেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। ইতিহাস গড়া দিনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা চার ছক্কা মেরে মাঠেই নেচে উঠেন স্যামি-গেইল-স্যামুয়েলরা। সাথে ছিল তাদের প্রমীলা দলও। যারা দিনের প্রথম ম্যাচে ফাইনালে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে জিতে নেয় ট্রফি। ইডেন গার্ডেন্সেই হয়েছে ছেলেদেরও ফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। শেষ ওভারে জেতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। প্রথম চার বলেই বেন স্ট্রোকসের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফাইওভার দুঘর্টনায় ‘শোকের শহর’ পরিণত হওয়া কলকাতাকেও নাচিয়ে তুললেন কার্লোস ব্রাথওয়েইট। একদিকে ইতিহাস গড়ার আনন্দ অন্যদিকে ইংলিশদের শোক। হাতে আসা ট্রফিটা সত্যিই কেড়ে নিলেন স্যামি-মারলন স্যামুয়েলসরা।
1
এই প্রথম কোনো পুরুষ ও মেয়ে দল টি-টোয়েন্টিতে এক সাথে শিরোপা জিতেছে, একই দিনে। এছাড়াও ২০ ওভারেরই এই বিশ্বকাপ আসরের দুইবার শিরোপা (পুরুষ দল) জিতল স্যামির দল। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ড্যারেন স্যামি দ্বিতীয়বারের মতো হাতে নিলেন শিরোপা। এর আগে ২০১২ সালে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্যামিদের এমন ইতিহাসের দিনে মেয়েরাও জিতেছে শিরোপা। তাই ডাবল ডিলাইট! নিশ্চিত থাকুন, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এই বিজয় উদযাপন চলবে ‘ননস্টপ’। এমন আনন্দে ভেসে যাওয়া তো এদেরই মানায়। অসাধারণ পারফরম্যান্স। অভিনন্দন ওয়েস্ট ইন্ডিজ! শিরোপাটা এই দলের চেয়ে আর কারও বেশি প্রাপ্য ছিল না। কী দুর্দান্ত ম্যাচ, দুর্দান্ত ফিনিশিং! অসাধারণ খেলেছে ইংল্যান্ডও, কিন্তু অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে তাদের হারিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ওভারেই লড়াইটাই ধরুন, নিয়মিত উইকেট হারানো ক্যারিবীয়দের ম্যাচে ধরে রেখেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস (৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি)। কিন্তু বাজিমাত করলেন কার্লোস ব্রাথওয়েইট। ৬ বল খেলে ১০ করে স্ট্রাইকে ছিলেন তিনি। টানা চার বলে চার ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইণ্ডিজকে জিতিয়ে দিলেন ক্যারিবীয় স্টাইল!
শেষের তান্ডবে নায়ক ব্র্যাথওয়েট। তবে সেই মঞ্চটা গড়ে দেওয়ার নায়ক আরেকজন। যার হাত ধরে ফিরে এল ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, সেদিনের প্রেমাদাসা ফিরে এলো এদিনের ইডেনে। সেবার ফাইনালে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংসে দলকে এনে দিয়েছিলেন শিরোপা। আবারও অসাধারণ এক ইনিংসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ভাগ্য গড়ে দিলেন মারলন স্যামুয়েলস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিল স্যামুয়েলসের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস আর ব্র্যাথওয়েটের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় ক্যারিবিয়ানরা জিতে যায় ২ বল আগে।
একাধিকবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পূর্বসূরিদের সেই কীর্তি স্পর্শ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই দল। ছোট সংস্করণের বিশ্বকাপেও দুবার শিরোপা জয়ী প্রথম দল তারাই। দুটি বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে একটা জায়গায় কাইভ লয়েডের পাশে বসলেন ড্যারেন স্যামি।
নতুন বলে স্যামুয়ের বদ্রি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। তবে জো রুটের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরে ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েট-ব্রাভোদের উইকেট শিকার আবার থমকে দেয় ইনিংস। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারদের ব্যাটে ইংল্যান্ড পেল লড়ার মত রান। কিন্তু শেষ রা হয়নি।
নতুন বলে স্যামুয়েল বদ্রি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। তবে জো রুটের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরে ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েট-ব্রাভোদের উইকেট শিকার আবার থমকে দেয় ইনিংস। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারদের ব্যাটে ইংল্যান্ড পায় লড়ার মত রান। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে আগের ৫ ম্যাচের মতো ফাইনালেও টসে জিতে ড্যারেন স্যামি বেছে নেন পছন্দের রান তাড়া। টানা ১০টি-টোয়েন্টিতে তিনি জিতলেন টস! টুর্নামেন্টে আগের সব ম্যচের মতো এদিনও নতুন বল হাতে বদ্রি শুরুতেই ইংল্যান্ডকে দেন বড় ধাক্কা। ইংলিশদের সেমিফাইনালের নায়ক জেসন রয় ফাইনালে দেখছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। ম্যাচের প্রথম বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন জোড়ালো এলবিডব্লিউ আবেদন থেকে। তবে পরের বলেই বদ্রির দারুণ এক স্লাইডারে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড। পরের ওভারে আবারও দৃশ্যপটে বদ্রি। আন্দ্রে রাসেলের লেগ স্টাম্পে থাকা বাজে বলে টাইমিং দারুণ করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস। কিন্তু শট ফাইন লেগে বদ্রিকে ফাঁকি দিতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েই রিফেক্স ক্যাচ নেন বদ্রি। তৃতীয় উইকেটেও যথারীতি ছিলেন বদ্রি। এবার দারুণ এক গুগলিতে বিভ্রান্ত ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন নড়বড়ে ইংল্যান্ড।
ইনিংসটা কিছুটা থিতু করে পাল্টা আক্রমণ চালান রুট আর জস বাটলার। টার্গেট করেন তারা সুলিমান বেনকে। দীর্ঘদেহী বাঁহাতি স্পিনারকে টানা দু বলে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন বাটলার। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ৫১ রানের এই জুটি ভাঙেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। চতুর্থ ছক্কার চেষ্টায় আউট হন বাটলার (২২ বলে ৩৬)।
আরেক পাশে দারুণ খেলে ৩৩ বলে অর্ধশতক তুলে নেন ইংল্যান্ডের রান মেশিন রুট। স্টোকস এসেও সঙ্গ দিচ্ছিলেন ভালোই। তবে হঠাৎই আবার এলোমেলো ইংল্যান্ড। এক ওভারেই ডোয়াইন ব্রাভো ফেরান স্টোকস ও মইন আলিকে। ব্র্যাথওয়েটকে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন রুট (৩৬ বলে ৫৪)। ৪ বলের মধ্যে ১ রানে ইংল্যান্ড হারায় ৩ উইকেট!
ব্রাভোকেই পরে এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন ডেভিড উইলি। তার ১৩ বলে ২১ রান প্রাণ ফেরায় ইংলিশ ইনিংসে। ব্রাভোর বলেই আবার দারুণ এক ক্যাচে বদ্রি ফেরান লিয়াম প্লাঙ্কেটকে। হাতে ব্যথা নিয়ে মাঠও ছাড়তে হয় তাকে। শেষ ওভারে ক্রিস জর্ডান দলের রানকে নিয়ে যান দেড়শর ওপারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD