পেসারদেরই দাপট, স্পিনারদের ‘ভাত নেই’!

পেসারদেরই দাপট, স্পিনারদের ‘ভাত নেই’!

ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের প্রতি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের আলাদা একটু ঝোঁক আছে। খোঁজ খবর রাখেন বেশ। তবে এশিয়া কাপের পরিসংখ্যানের খোঁজ তাঁর না রাখলেই ভালো। এবারের আসরে বোলারদের তালিকায় অশ্বিনের অবস্থান ছয়ে, কিন্তু সেটি শেষ দিক থেকে! সব মিলিয়ে ৪৮ জন বোলার এবার উইকেট পেয়েছেন। উইকেটপ্রাপ্তির দিক দিয়ে তালিকায় ভারতীয় স্পিনারের অবস্থান ৪৩-এ!
২ ম্যাচে ৭ ওভার বোলিং করে ৪৪ রানে ১ উইকেট—এই হলো অশ্বিনের প্রাপ্তি। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা বোলার তিনি। এশিয়া কাপে খেলছেন এমন বোলারদের মধ্যে শীর্ষে। সেই অশ্বিন যেন এবার থই পাচ্ছেন না।
শুধু অশ্বিন? টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে চারে থাকা শহীদ আফ্রিদিও দুই ম্যাচে নিয়েছেন ১ উইকেট। অশ্বিন তবু ৭ ওভার বোলিং করেছেন, অধিনায়ক আফ্রিদি দুই ম্যাচে নিজেকে ৪ ওভারের বেশি বোলিং করানোর আত্মবিশ্বাসই যেন পাননি! র‍্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা ২ ম্যাচে নিয়েছেন ২ উইকেট। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা স্পিনারদের মধ্যে সাকিব আল হাসানই বলা যায় ব্যতিক্রম। ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট। এবারের আসরে স্পিনারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট আরব আমিরাতের রোহান মোস্তাফার। তবে ৬ উইকেট নেওয়া রোহান খেলেছেন ৬টি ম্যাচ।
এশিয়া কাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। কিন্তু এশিয়া কাপে উইকেট তো দূরের কথা, রানেও বাঁধ দিতে পারছেন না। গত ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থার মধ্যেও ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে অশ্বিন উইকেটশূন্য। ওই ম্যাচেই ভারতের পেসাররা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। বিশেষ করে দুই তরুণ পান্ডিয়া আর বুমরা ১৬ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যেন এবারের এশিয়া কাপেরই প্রতিচ্ছবি। যেখানে দাপট পেসারদেরই। স্পিনাররা থই পাচ্ছে না!
এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে ৯৯টি উইকেট পেসারদের। স্পিনারদের ঝুলিতে উইকেট প্রায় অর্ধেক—৫৪টি। এটি অবশ্য বাছাই পর্বের হিসাব ধরেই। জাদেজা-অশ্বিন-আফ্রিদিরা বাছাই পর্ব খেলেননি। বাছাই পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলে এসেছেন বলেই উইকেটপ্রাপ্তিতে শীর্ষে আরব আমিরাতের দুই পেসার আমজাদ জাভেদ আর মোহাম্মদ নাভিদ। কিন্তু তাতেও স্পিনারদের আড়াল করা যাচ্ছে না। মূল পর্বেও এসেও সর্বোচ্চ উইকেট আমিরাত অধিনায়ক জাভেদের। তা ছাড়া বাছাই পর্বে কি আর স্পিনাররা খেলেননি?
স্পিনারদের ধারহীনতার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ এশিয়ার এখনকার অন্যতম তিন সেরা স্পিনারের বোলিং। অশ্বিন-আফ্রিদি-জাদেজারা একদমই সুবিধা করতে পারেননি এখনো। শুধু উইকেট সংখ্যায় নয়, পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের গড়ও ভালো নয়। পেসাররা ১৯.৩৫ গড়ে উইকেট নিয়েছেন, স্পিনাররা নিয়েছেন ২৩.২৮ গড়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ২৭৭.৫ ওভার বোলিং করে ৬টি মেডেন পেসারদের, ১৮২ ওভার বোলিং করে স্পিনারদের মেডেন মাত্র একটি।
এবারই প্রথম এশিয়া কাপ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। কিন্তু তাই বলে স্পিনারদের রাজত্বও রাতারাতি এমন শেষ হয়ে যাবে! পেসারদের দাপট, তাদের সামনে ব্যাটসম্যানদের অসহায় চেহারার কারণেই এবারের উইকেট আলোচনায় আসছে বেশি করে। যদিও উইকেটকেই বেশি ‘কৃতিত্ব’ দিলে পেসারদের চেষ্টাকে অসম্মান করাই হয়।
গত এশিয়া কাপেও কিন্তু স্পিনাররা নিয়েছিলেন ৭৯ উইকেট, পেসাররা ৬৬টি। এবার পেসাররা ৯৯-৫৪ ব্যবধানে এগিয়ে!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD