তিন রৌপ্য শেষ দিনে

তিন রৌপ্য শেষ দিনে

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : মহিলা হ্যান্ডবল ও কাবাডির ফাইনালে উঠায় আগেই রৌপ্য পদক নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। স্বাগতিক ভারত যখন প্রতিপক্ষ তখন স্বর্ণ পদক যে লাল-সুবজ শিবিরের ভাগ্যে জুটবে না, সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। হয়েছেও তাই। সোমবার সোনাপুরের এলএনআইপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে মহিলা হ্যান্ডবলে ভারতের কাছে ৪৫-২৫ গোলে হেরে এসএ গেমসে প্রথমবারের মতো রৌপ্য জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আর মহিলা কাবডিতে মালেকা-পলিরা হেরেছে ভারতের কাছেই ৩৬-১২ পয়েন্টে। এদিন শ্যুটিংয়ের দলগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তল থেকে আরও একটি রৌপ্য এসেছে। আর মালদ্বীপকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল।
অপরদিকে, শিলং অনুষ্ঠিত জুডোতে দুটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। ৫২ কেজিতে তমা ও ৮১ কেজিতে হাবিবুর রহমান ব্রোঞ্জ দুটি জেতেন। এ নিয়ে গৌহাটি শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের দ্বাদশ আসরে চারটি স্বর্ণ, ১৪টি রৌপ্য ও ৫১ ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ১৮৩ স্বর্ণ, ৮৬ রৌপ্য ও ৩০ ব্রোঞ্জ নিয়ে সবার উপরে ভারত। ২৫ স্বর্ণ ৫৯ রৌপ্য ও ৯০ ব্রোঞ্জ নিয়ে দুই নম্বরে শ্রীলঙ্কা, ১০ স্বর্ণ ৩৩ রৌপ্য ৪৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে তিন নম্বরে শ্রীলঙ্কা। সাত স্বর্ণ, পাঁচ রৌপ্য ও ১৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে চারে উঠে এসেছে আফগানিস্তান। পুরুষ হ্যান্ডবলে ৩৭-২৫ গোলে নেপালকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ কপালে জুটেছে ছেলেদের।
রৌপ্যতেই খুশী হ্যান্ডবল
গত আট বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশ মহিলা হ্যান্ডবল দলের। এমন দলটিই কিনা এবারের এসএ গেমসে অপরাজিতভাবে ফাইনালে উঠেছিল। শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে ২৫-৪৫ গোলে হারের পরও আনন্দের কোন কমতি ছিল না লাল-সবুজদের। ম্যাচ শেষে পতাকা নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম ঘুরেছেন। ফটোসেশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলেছে। কোচ দিদার হোসেনও মেয়েদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তাদেরকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। এতো বড় ব্যবধানে হারের পরও দল এতো খুশী কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ দিদার বলেন, ‘আমরা এতো দূর আসতে পেরেছি, সেটাই বড় কথা। মেয়েরা দারুন খেলেছে। তাদের পারফরম্যান্সের কারণেই আমরা অপরাজিত থেকে ফাইনালে এসেছি।’ মায়ের মৃত্যুর কারণে হঠাৎ করে দেশে ফিরে যাওয়া দলের এক নম্বর গোলরক্ষক শীলা রায় সোমবার ফাইনাল খেলতে ভারতের এসে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না পারলেও দেশের জন্য লড়েছেন।
শ্যুটিং থেকে আরও একটি রৌপ্য
কাহিলি পাড়ার শুটিং রেঞ্চে সকালে আরদিন ফেরদৌসি, আরমিন আশা ও তুরিন দেওয়ান মিলে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে দেশকে রূপার পদক এনে দিয়েছেন। আরদিনা ফেরদৌস সাতটি সঠিক শুটঅফে ৩৭০, আরমিন আশা ছয়টি শুটঅফে ৩৬৯ এবং তুরিং দেওয়ান মাত্র সঠিকভাবে তিনটি শুটঅফে ৩৬৯ স্কোর করেন। ফলে বাংলাদেশ মহিলা দল ২৫টি শুটঅফে ১১০৩ স্কোরে দেশকে রুপা এনে দেয়।
ফুটবলে সান্ত¦নার ব্রোঞ্জ
এবারের গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি নবীব নেওযাজ জীবন। চার ম্যাচে তিন গোল করেছেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশকে লীড এনে দেন জীবন। ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে মালদ্বীপের আলী ফাসির ম্যাচে সমতা আনেন। ৬৫ মিনিটে ফাসিরের গোলে মালদ্বীপ ২-১ গোলে লীড নেয়। চার মিনিট পর সোহেল রানার গোলে আবার ম্য্র সমতায় ফেরে (২-২)। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোলের দেখা না মিললে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারেও লড়াই সমানে সমান। প্রথম চার শটেই গোল বাংলাদেশ মালদ্বীপের। অধিনায়ক আলী ফাসিরের নেয়া পঞ্চম শটটি পোস্টের উপর দিয়ে। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের শেষ শট। ধীর পায়ে হেটে যাচ্ছেন রায়হান হাসান। গোল হলেই ব্রোঞ্জ্। মিস হলে আবার সাডেন ডেথ পর্ব। ডিফেন্ডার রায়হান আর ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়াননি। গোল করে গেমসে বাংলাদেশের পদক তালিকায় একটি ব্রোঞ্জ বৃদ্ধি করেছেন। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী দলকে এবার ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD