শামীমার অভিজ্ঞতা অর্জন

স্পোর্টস রিপোর্টার, গোহাটি থেকে : প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম যখন মেরিকম, তখন বুঁকেতো কাঁপন কিছুটা ধরবেই। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে রিংয়ে নেমে বুঁকে কাঁপন ধরেনি, এমন বক্সার খুব কমই আছে উপমহাদেশে। অথচ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয়ী সেই বক্সারের বিরুদ্ধে রোববার আত্মবিশ্বাসের পারদটা উর্ধ্বমূখী করেই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে রিংয়ে নেমেছিলেন বাংলাদেশী বক্সার শামীমা আক্তার। স্বাভাবিক লড়াইটাই করতে চেয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী এ বক্সার। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো অন্যখানে, মেরিকম খেলেন সাউথ-পো (প্রতিপক্ষের বামদিক থেকে খেলা) পজিশনে। আর এমন পজিশনে খেলা বক্সারের বিরুদ্ধে খেলার কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না শামীমার। তাই শেষ চারের লড়াইয়ে খুব বেশি সময় টিকতেও পারলেন না। মাত্র ২ রাউন্ডেই পরাজয় মেনে নিয়ে রিং ছাড়তে হলো শামীমাকে।
নিজের অনভিজ্ঞতার কথা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন যশোরের এ বক্সার, ‘প্রতিপক্ষকে সেটা মূখ্য ছিল না। রিংয়ে নামার আগে এটা নিয়ে ভাবিওনি। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। ও (মেরিকম) খেলেন সাউথপো পজিশনে (বাম দিক থেকে খেলা)। এটাই ছিল সাউথপো পজিশনের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আমার প্রথম লড়াই। এ কারণেই পাঞ্চগুলো আমি লাগাতে পারিনি, হাতও গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। এতোদিন অর্থোডক্স ফাইটারদের বিপক্ষে খেলেছি। এ অনভ্যস্ততার কারণে পুরো ৪ রাউন্ড খেলতে পারিনি। আমার টার্গেট ছিল চার রাউন্ড পুরো খেলা। তাছাড়া এটাই ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। অনভিজ্ঞতার কারণেই আজ আমাকে হারতে হয়েছে।’
শামীমা আক্তার বাই পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে নাম লেখান। বক্সিংয়ে সেমিফাইনালে নাম লেখালেই ব্রোঞ্চ নিশ্চিত। শেষচারের লড়াইয়ের ২ রাউন্ডে শামীমা আক্তারকে হারিয়ে মেয়েদের ৫১ কেজি ওজন বিভাগে ফাইনালে উঠেছেন ৩২ বছর বয়সি মেরিকম। যিনি একমাত্র মহিলা বক্সার হিসেবে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। সে আসরে ব্রোঞ্চ পদক জয় করেন ভারতের মনিপুর থেকে উঠে আসা এ বক্সার। শনিবার রাতে ৫১ কেজিতে শামীমা আক্তারের মতো সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্চ পদক নিশ্চিত হয়েছে আরও ৩ ইভেন্টে। যার মধ্যে ৫৬ কেজি ওজন বিভাগে ওয়াহিদুজ্জামান রোববার স্বাগতিক ভারতের শিবা থাপার কাছে হেরে স্বর্ণ ও ব্রোঞ্চপদক নির্ধারনী ম্যাচের আগেই বিদায় নিয়েছেন। ৫৬ কেজি ওজন বিভাগে শিবাই ভারতের সেরা বক্সার। ৩ রাউন্ড তূমুল লড়াইয়ের পর ওয়াহিদুজ্জামানের বিপক্ষে যার জয় ছিল ১০-৮ পয়েন্টের। ওয়াহিদুজ্জামান গত এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী আবদুর রহিম ছাড়া ছেলেদের বিভাগে অন্যান্য বক্সাররা প্রথম রাউন্ডের গন্ডিই টপকাতে পারেননি।
প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন গত আসরের আরেক স্বর্ণ জয়ী জুয়েল আহমেদ জনি এবং শেখ মোহাম্মদ আসলাম, আল-আমিন, খোরশেদ আলম ও সজীব হোসেন। মেয়েদের বিভাগে শামীমা আক্তারের মতো বাসনা খন্দকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন শনিবার রাতেই। আবদুর রহিমের মতো গত রাতেই রিংয়ে নামার কথা বাসনা খন্দকারের। ম্যাচ জিতলে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকের লড়াইয়ে যাবেন, নইলে সন্তুষ্ট থাকতে হবে ব্রোঞ্চ পদক নিয়েই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD