মাবিয়ার হাত ধরে এল প্রথম সোনা

মাবিয়ার হাত ধরে এল প্রথম সোনা

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) এবারের আসরে বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দিয়েছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সোনার পদক জেতেন এই ভারোত্তোলক।
MABIA-1ed2
ভারতের গুয়াহাটির ভোগেশ্বরী ফুকানানি ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৯ কেজি তোলেন সীমান্ত। স্ন্যাচে ৬৭ কেজি ও ক্নিন অ্যান্ড জার্কে ৮২ কেজি তোলেন তিনি। এই ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার আয়েশা বিনোদানী (১৩৮ কেজি) রূপা ও নেপালের জুন মায়া চান্তিয়াল (১২৫ কেজি) ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। পদক নিতে মঞ্চে উঠে আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সীমান্ত। সোনার জয়ের আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বেদিতে উঠেন বাংলাদেশের এই ‘সোনার মেয়ে’।
মেয়েদের ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে রূপা জিতেছেন ফুলপতি চাকমা। স্ন্যাচ ও ক্নিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৪ কেজি তোলেন তিনি। স্ন্যাচে ৬৩ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৮১ কেজি উত্তোলন করেন তিনি। স্ন্যাচ ও জার্ক মিলিয়ে ফুলপতির চেয়ে ৪৩ কেজি বেশি তুলে এই ইভেন্টের সেরা হয়েছেন ভারতের স্বরসতী রৌত।
আগের দিন শনিবার ভারোত্তোলন থেকে দুটি ব্রোঞ্জ পায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারোত্তোলন থেকে একটি করে সোনা, রূপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছে বাংলাদেশ।
এসএ গেমসে এবারই প্রথম মহিলা ভারোত্তোলন সংযুক্ত করা হয়েছে। আর প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতে স্মরণীয় পারফরমেন্স করেছে বাংলাদেশ। দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করতে পেরে উল্লসিত মাবিয়া আক্তার। স্বর্ণ জয়ের পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন তিনি। দেশকে সম্মান এনে দিতে পেরে দারুণ খুশী এই বাংলাদেশী ভারোত্তোলক। এসএ গেমসে অংশ নেয়ার আগে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত কমনয়েলথ ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন সীমান্ত। ঐ আসর থেকে একটি রুপাও পেয়েছিলেন তিনি। এবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা মহিলা ভারোত্তোলকের খেতাবও জিতে নিলেন ১৮ বছর বয়সী মাবিয়া আক্তার। গোল্ডেন গার্ল সীমান্ত যখন বিজয় মঞ্চে আনন্দে কাঁদছে তখন আনন্দ অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি সেখানে উপস্থিত অনেক বাংলাদেশী। এসএ গেমসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্বর্ণ জয়ী মহিলা ভারোত্তোলক সীমান্তর গলায় স্বর্ণপদক পড়িয়ে দেন বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন আশিকুর রহমান মিকু। আর ফুল তুলে দেন বাংলাদেশ ভারোত্তোরন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ।
হাতে ব্যাথা ছিলো। খেলা নিয়েও ছিলো সীমান্তর সংশয়। তবু তার মনের জোড়ে নামেন খেলতে। আর বাংলাদেশকে স্বর্ণ উপহার দিতেই নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি। স্বর্ণপদক জয় করার পর অশ্রুসিক্ত নয়নে সীমান্ত মিডিয়াকে নিজ অনুভুতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিলো এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতবো। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবো। আল্লাহ আমার আশা পুরণ করেছেন। আমি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। স্বর্ণপদক জয় করতে পেরে কি যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমি খুব খুশী দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পেরে।’
তিনি আরও বলেন,‘আমার এই সাফল্য পাওয়ার পেছনে অবদান কোচ , ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন স্যার ও আমার পরিবারের। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এখন আমার লক্ষ্য অলিম্পিক গেমসের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে অংশ নেয়া। দেশকে আরো পদক উপহার দিতে চাই।’

Related Articles




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD