প্রত্যাশা আরও বেশি

প্রত্যাশা আরও বেশি

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : ৫০ মিটার পিস্তলে প্রায় দুই যুগ পর সাফে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরে শ্যুটার শাকিল আহম্মেদ স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন জাতিকে। দুই যুগের স্বর্ণ পদকের বন্ধাত্বতা ঘোঁচানোর পর এবার ১০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে নিয়েও স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সবাই। শকিল আহম্মেদের প্রিয় এ ইভেন্ট নিয়েই এখন আশার আলো দেখছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। আর স্বপ্ন দেখবেনই না কেন? এটাই যে খুলনার এ শ্যুটারের প্রিয় ইভেন্ট। শনিবার সকালেই গৌহাটির কাহিলিপাড়া শ্যূটিং রেঞ্জে নামবেন তিনি। আর শুক্রবার সকালে রেঞ্জে পদকের জন্য লড়াই করবেন দেশ সেরা শ্যুটার আব্দুল্লা হেল বাকী। তিনি নামবেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে।
কৃহস্পতিবার সকালে নিবিড় অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন শাকিল আহম্মেদ। আর বিকালে রেঞ্জে নিজেকে ঝালিয়ে নেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য এ দুই শ্যুটারকে এদিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দিতে চাননি। এমনকি অনুশীলনের সময়টাও জানাতে চাননি। মনোযোগ রেঞ্জের বাইরে চলে যেতে পারে, এ শঙ্কা থেকেই কর্মকর্তাদের এমন লুকোচুরি শাকিলকে নিয়ে।
অনুশীলন শেষে অল্প সময়ের জন্য নাগাল পাওয়া গিয়েছিল আগের দিন স্বর্ণ জয়ী শাকিলের। সেখানেই তিনি জানালেন, ‘আগের দিনের স্বর্ণটা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। কিন্তু কালকের (শুক্রবার) ইভেন্টটাই আমার প্রিয়। আমার বিশ্বাস এ ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ জয় করতে পারবো।’
গত বছর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশীপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন শাকিল। সেই থেকেই তার আত্মবিশ্বাসের পারদটা বেশ উর্ধ্বমূখী, ‘গতবার কি করেছিলাম, সেটা এখন আমার কাছে অতিতের মতো। আমি ঐ স্বর্ণ নিয়ে ভাবতে চাইছি না। আমার ভাবনায় এখন কেবল কালকের (শুক্রবার) ইভেন্ট। সবাই আমাকে নিয়ে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। মনোযোগ যেনো গেমস থেকে সরে না যায়, সে জন্য কর্মকর্তারাও আমাকে কারো সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।’
রেঞ্জে অনুশীলন শেষে দেশে থাকা মায়ের সঙ্গে সেল ফোনে কথা সেরে নিলেন শাকিল। দোয়া চাইলেন মায়ের কাছে। দেশকে যেনো আরও একটি স্বর্ণ এনে দিতে পারেন।
শুক্রবার সকালে রেঞ্জে নামবেন বাংলাদেশের আরেক আশার প্রতীক আব্দুল্লা হেল বাকী। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে স্বাগতিক ভারতের শ্যুটার গগন নারায়ন, জিনসেন, ইমরান খানদের। গগন নারায়ন তো দেশের হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। আর ইমরান খান ঢাকায় অনুষ্ঠিত গত এসএ গেমসের সোনা জয়ী শ্যুটার। এ ইভেন্টে লড়াইটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হবে। শুধু বাকীই নন, রিয়াসাত ও শোভন চৌধুরীও থাকবেন সহযোদ্ধা হিসেবে। তারপরও এই ইভেন্টে স্বর্ণের জন্য বাংলাদশের বাজি আবদুল্লা হেল বাকীর জন্যই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ শুটিংয়ের অন্যতম একটি নাম আবদুল্লা হেল বাকী। দেশের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অন্যতম সেরা শুটার। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসাগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ভারতের অভিনব বিন্দ্রার কাছে হেরে ২০২.১ স্কোর করে রুপা জিতেছিলেন বাকী। চলতি এ গেমসকে সামনে রেখে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই ঝালাই করেছেন স্বাগতিক শ্যুটাররা। তাই গগন-জিনসেনদের নিয়ে চিন্তিত বাকী নিজেও,-‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বি শ্যুটার বেশ শক্ত। একজন অলিম্পিয়ান পদক জয়ীও আছেন। তবে আমি আমার সেরাটাই দিতে চাই। শ্যুটিংয়ে ফাইনাল শটটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনাল শটে অনেক কিছুই নির্ভর করে। এটার জন্য মনোযোগ ধরে রাখাটা জরুরি।’ নিজের ইভেন্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী বাকী। স্বাভাবিক যে স্কোরটা তিনি এ ইভেন্টে করে থাকেন, সেটা করতে পারলেও নাকি স্বর্ণ জয়ের সম্ভবনা আছে তার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD