জলকন্যা মাহফুজার কড়া জবাব

জলকন্যা মাহফুজার কড়া জবাব

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : চলতি এসএ গেমসে যে তিনটি স্বর্ণ জয় করেছে বাংলাদেশ, তার দু’টিই এসেছে সাঁতারু মাহফুজা আক্তার শিলার হাত ধরে। অথচ ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারুর সঙ্গেই বিমাতা সূলভ আচরন করেছিলেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। নানা কারণেই তাকে অসহযোগিতা করতেন। এসএ গেমসের আগে ঠিক মতো অনুশীলনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি যশোর এ জলকন্যাকে। তাকে দিয়ে কিছুই হবে না বলে ভৎর্সনা করতেও ছাড়েননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেই সব কর্মকর্তাদের মুখে চুন-কালি লেপ্টে দিয়ে সোমবার আরও একটি স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। করেছেন রেকর্ড। ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকে নতুন এ রেকর্ডের মালিক হয়েছেন শিলা। তিনি সময় নিয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড। এর আগে এ রেকর্ডের মালিক ছিলেন শ্রীলঙ্কার রাহিম মায়ুমি। ২০০৬ সালে কলম্বো এসএ গেমসে ৩৪ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকের রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন লঙ্কান এ সাঁতারু। এক দশক পর তাকে পেছনে ফেলেন শিলা। গোহাটির ড. জাকির হুসেইন সুইমিং কমপ্লেক্সে দুই স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কঠিন জবাব দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারু। তিনি নিজের ক্যারিয়ার আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে চান।
ফেডারেশনের কর্মকর্তা এসএ গেমসের আগে অনেক অবজ্ঞা করেছেন। তাদের অবহেলার কারণেই একটা সময় সাঁতারই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন যশোরের এ জলকন্যা। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন যখন সাঁতারের কোচ হয়ে আসলেন। তিনি শিলাকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন। তার অনুপ্রেরণাতেই আবারো জলের সঙ্গে সখ্যতা শুরু করেন টানা দুই স্বর্ণ জয়ী মাহফুজা। তাই রেকর্ডের পর ফেডারেশনের সেই সমস্ত কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে ছাড়েননি এ সাঁতারু,- ‘পার্কের অনুপ্রেনাতেই আমি আবারো জলে নেমেছি। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আচরনে একটা সময় আমি সব ছেড়ে-ছুড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পার্ক আমাকে বারবার বলেছেন, তুমি ফেডারেশনের কথা না ভেবে দেশের কথা ভাবো। তোমার পক্ষে সম্ভব দেশকে কিছু দেয়া। তাছাড়া আমার টিম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সবাই আমাকে অনেক সাহস যুগিয়েছেন। আমার বাজে সময়টাতেও তারা আমাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন।’
স্বর্ণ জয়ের পর ফেডারেশনের উপর ক্ষোভটা ঝাড়লেন প্রকাশ্যেই, ‘আমি আজ যা করেছি, তা শুধুই আমার দেশের জন্য। ফেডারেশনের জন্য আমি কিছুই করিনি। ফেডারেশন আমাকে কোন সহযোগিতাই করেনি। তারা আমাকে অবহেলার চোখেই দেখেছে। আমার বয়স হয়ে গেছে, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না ইত্যাদি নানা কথা বলেছেন ফেডারেশনের আসনগুলোতে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা। তারা আমাকে বিদেশে খেলতেও নিয়ে যায়নি। আমি মনে হয় নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ফেডারেশনকে একটা জবাব দিতে পেরেছি। আমার মতো এমন অনেক এ্যাথলেটকে পেছনে ঠেলে দেয়া হয়। আমি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো মেয়েদের পেছনে ঠেলে না দিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিন।’ স্বর্ণ জয়ের পরই কথা বলেছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। তারাও মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে উদ্বেলিত। অনেকেই মাহফুজার জন্মস্থান যশোরের অভনগর থানার নওয়াপাড়ার বাসা ছুটে আসছেন অভিনন্দন জানাতে। সেটা বাবা-মাই তাকে ফোনে বলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD