সঞ্জিতকে নিয়ে মানসিকভাবে তৈরি ছিল বাংলাদেশ দল

সঞ্জিতকে নিয়ে মানসিকভাবে তৈরি ছিল বাংলাদেশ দল

খোলা চোখে সঞ্জিত সাহার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যে সংশয় জাগতে পারে, সেই ধারণা আগে থেকেই ছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। সংশয়টা সঞ্জিতের অ্যাকশনের ধরনের কারণেই। কোচ মিজানুর রহমানের বিশ্বাস, আদতে সহনশীলতার মাত্রা ছাড়ায় না এই অফস্পিনারের কনুই।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা ম্যাচে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের অফ স্পিনার সঞ্জিতের অ্যাকশন। তবে বাংলাদেশ দল খবরটি জানতে পেরেছে ম্যাচের পর পরই। সেটি খুব বড় বিস্ময় বা ধাক্কা হয়েও আসেনি দলের কাছে। কোচ মিজানুর রহমানের দাবি, দল এমন কিছুর জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিল টুর্নামেন্টের আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার সকালেই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এসেছে বাংলাদেশ দল। বিকেলে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় কোচ মিজানুর রহমান জানালেন, সঞ্জিতের অ্যাকশনের ধরনটাই সংশয়ের মূল কারণ। “সঞ্জিতের অ্যাকশন কিন্তু প্রথাগত না। একটু ব্যতিক্রমী অ্যাকশন; শ্রীলঙ্কায় যেমন প্রায়ই অপ্রথাগত স্পিনার বের হয়, তেমনই। এজন্যই সঞ্জিত নিজেও যেমন জানত, আমরাও জানতাম যে ওর অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ হতে পারে।”
আগে থেকে ধারণা থাকার পরও সঞ্জিতকে বাংলাদেশ খেলিয়েছে দল সংশ্লিষ্ট সবার বিশ্বাসের কারণে। সেই বিশ্বাসের ব্যাখ্যাটাও দিলেন কোচ মিজানুর। “ওর অ্যাকশন দেখে সন্দেহজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের সবার বিশ্বাস, ওর অ্যাকশন ঠিকই আছে। ল্যাবে পরীক্ষা করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে ১৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়ায় না ওর কনুই।” কোচ জানালেন, সংশয় থাকার পরও সঞ্জিতের সহজাত অ্যাকশন বদলানো হয়নি তার বোলিংয়ের স্বকীয়তা বজায় রাখতেই।
“ওর প্রথাগত অ্যাকশনে বদলে দেওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে ওর বোলিংয়ে আগের ধার নাও থাকতে পারে। অ্যাকশনের কারণেই ওকে খেলতে ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তি হয়, ওর বৈচিত্রগুলো ব্যাটসম্যানরা পড়তে পারে না। যেহেতু আমাদের বিশ্বাস, সে ১৫ ডিগ্রির বেশি সীমা ছাড়ায় না, আমরা চেয়েছি সহজাত অ্যাকশনে রেখেই বিভিন্ন ড্রিল করে ওর অ্যাকশন পরিশীলিত করতে। অনেক উন্নতিও করেছে সে।”
কোচের বিশ্বাস, যদি ল্যাবে পরীক্ষার পর সঞ্জিতের অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় সম্পদ হতে পারেন এই অফ স্পিনার। “আগেই বলেছি, আমরা অনেকটাই নিশ্চিত ওর অ্যাকশন ঠিকই আছে। এই অ্যাকশনটাই যদি ওর থাকে, শুধু যুব দল নয়, ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্যও বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে বড় সম্পদ হতে পারে ছেলেটি।”
ভবিষ্যত আপাতত দূরে। তবে বর্তমান নিয়েও নির্ভারই মনে হলো বাংলাদেশ কোচকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বোলারের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে আইসিসি স্বীকৃত কোনো ল্যাবে অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হয়। ফল না আসা পর্যন্ত বোলিং করা যায়। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ব্যাপারটি একটু আলাদা। আইসিসির একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বুধবারের ম্যাচে সঞ্জিতের বোলিংয়ের ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখবেন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন সঞ্জিত। বাংলাদেশ কোচ জানালেন, দিন তিনেকের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসির প্যানেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত না হলে অবশ্য টুর্নামেন্ট চলাকালে এই ঝামেলা পোহাতে হতো না সঞ্জিত বা বাংলাদেশ দলকে। ম্যাচ টিভিতে দেখানোয় ফুটেজ সহজপ্রাপ্য হয়ে গেছে বলেই ত্বরিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগে এতটা কড়াকড়িও ছিল না আইসিসির। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যেমন সংশয় উঠেছিল বাংলাদেশ দলের দুই স্পিনার আল আমিন ও নাঈম ইসলাম জুনিয়রকে নিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে বোলিং করে যাওয়ায় বাধা ছিল না তাদের। বিশ্বকাপে শেষে অ্যাকশনের পরীক্ষা হয়েছিল ওই দুজনের। তবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে অ্যাকশন নিয়ে একটু বেশি সতর্ক আইসিসি। সেটিরই প্রথম শিকার সঞ্জিত। প্রথম ম্যাচে ৮ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন সঞ্জিত। তবে এমনিতে দলের অন্যতম সেরা বোলার ১৮ বছল বয়সী এই অফ স্পিনার। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও তার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রোববার গ্রুপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই জানা যাবে সঞ্জিতের ভাগ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD