পরিশ্রমেই পুল শটের ‘মাস্টার’ পিনাক

পরিশ্রমেই পুল শটের ‘মাস্টার’ পিনাক

একটা সময় পুল শট খেলতেই পারতেন না পিনাক ঘোষ। কোচের সঙ্গে পুল শট নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার এখন এই শটেই হয়ে উঠেছেন ‘মাস্টার!’
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদশের জয়ের ম্যাচে টুকরো টুকরো বেশ কটি ছবি এখনও লেগে আছে অনেকের চোখে। জয়রাজ শেখের ফ্লিক, নাজমুল হোসেন শান্তর পরিণত ব্যাটিং, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার, চিতার ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ, সাঈদ সরকারের টার্ন ও বাউন্সে হতভম্ব প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ডায়ান গালিম, আর পিনাক ঘোষের চোখধাঁধানো দুটি ছক্কা!
দুটি ছক্কাই ছিল পুল শটে, দ্বিতীয় ছক্কায় বল পাঠিয়েছিলেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। মাঠে থাকা ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার ইয়ান বিশপ টুইট করেছিলেন, ভবিষ্যতের জন্য দারুণ এক ব্যাটসম্যান পাচ্ছে বাংলাদেশ।
পুল শটে পিনাকের দখল বুঝিয়ে দিতে ওই দুটি শটই যথেষ্ট। তবে পিনাকের ব্যাটিং যারা আগে থেকেই অনুসরণ করেছেন, বিষয়টি আলাদা করে নজর কেড়েছে সবারই। বরাবরই পুল শটে দুর্দান্ত বাঁহাতি এই ওপেনার।
শর্ট বল বা শর্ট অব লেংথে যতটা দ্রুত পজিশনে চলে যান পিনাক; যতটা নিয়ন্ত্রণ থাকে শটে, তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এই শট তার অনেকটাই সহজাত। তিনি নিজে কিন্তু শোনালেন উল্টো কথা।
শুক্রবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের পিনাক বলেন, “এটা আমার ন্যাচারাল শট ছিল না। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে যখন প্রথম আসি, তখন পুল শট একদমই খেলতে পারতাম না। বাবুল স্যার (কোচ মিজানুর রহমান) আমার পুল শট নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। অনেক চেষ্টা করে উন্নতি হয়েছে। এখন আমি আশিতেও (ঘণ্টায় ৮০ মাইল গতির বলেও) পুল শট খেলতে পারি সহজেই। এর পেছনে আছেন বাবুল স্যারই।”
তবে কিছুটা প্রকৃতিপ্রদত্ত ব্যাপার তো আছেই। কোচ কাজ করেন সব ক্রিকেটারকে নিয়েই। সবার তো পুল শট বা সব শটে সমান উন্নতি হয় না! ব্যাপারটি মেনে নিলেন পিনাকও।
“হ্যাঁ, আমার রেডি পজিশন ব্যাকফুটে খেলার জন্য একটু ভালো। সামনের বলগুলো থেকে পেছনের বলগুলো একটু ভালো পিক করতে পারি।”
ব্যাকফুটে পিনাকের সামর্থ্যের প্রমাণ মিলেছিল গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও। যুব ওয়ানডে সিরিজে ডারবানের চ্যাটসওয়ার্থ স্টেডিয়ামের বাউন্সি উইকেটে ১৫০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন আগ্রাসী এই ওপেনার। যুব ওয়ানডের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের যেটি একমাত্র দেড়শ’ রানের ইনিংস।
৬ মাস আগের চেয়ে এখন পিনাকের পুল শট যেমন আরেকটু ভালো হয়ছে, উন্নতি হয়েছে তার সামগ্রিক ব্যাটিংয়েও। তামিম ইকবালের দারুণ ভক্ত এই ওপেনার তাই স্বপ্ন দেখছেন নিজের দেড়শ’ রানের ইনিংসটিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার।
“ভালো করার ইচ্ছা সবারই থাকে। একটা রেকর্ড গড়লে তো সেই রেকর্ড ভাঙার ইচ্ছে থাকেই। আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব ছাড়িয়ে যেতে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD