ওয়ালটন ৭ম জাতীয় তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতা সমাপ্ত

ওয়ালটন ৭ম জাতীয় তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতা সমাপ্ত

দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় মঙ্গলবার শুরু হয় ‘ওয়ালটন ৭ম জাতীয় তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতা-২০১৫’। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তায়কোয়নদো ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতা বুধবার পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের চিফ অব মিশন হান সন আইকে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল (অ্যাডমিন) রকফার সুলতানা খান (পিপিএম, বিপিএম)। উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তায়কোয়নদো ফেডারেশনের মহাসচিব মো. সোয়ালমান শিকদার।
এক বক্তব্যে এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘আমরা ওয়ালটন গ্রুপ তায়কোয়নদোতে পৃষ্ঠপোষকতার ধরাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করব। আমরা বিশ্বাস করি সুস্থ্য দেহে সুস্থ্য মন বিরাজ করে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম মাদকের ছোবল থেকে দূর থাকতে পারে। ওয়ালটন গ্রুপ খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে সুস্থ্য জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে সর্বদা সচেষ্ট।’
শিশু বিভাগে অনূর্ধ্ব ৩০ কোজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম হয় রুদ্র, দ্বিতীয় হয় সীমান্ত আর তৃতীয় জীসান। অনূর্ধ্ব-৪০ কেজিতে প্রথম হয় দ্রুত ও দ্বিতীয় হয় তূর্য। অনূর্ধ্ব-৪৫ কেজিতে প্রথম হয় আদম মো. ঈসা, দ্বিতীয় আশরাফুল আর তৃতীয় মাজেদ।
মহিলা জুনিয়র বিভাগে অনূর্ধ্ব ৪৫ কোজিতে প্রথম হয় সায়মা আক্তর অর্পা, দ্বিতীয় অদিতি সাহা আর তৃতীয় ইতি আক্তার অজুফা। অনূর্ধ্ব ৫০ কেজিতে প্রথম হয় লামিয়া আলমগীর ও দ্বিতীয় হয় সুমি। অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে প্রথম হন নাইন, দ্বিতীয় সাজিয়া ও তৃতীয় নোভা।
মহিলা সিনিয়র বিভাগে অনূর্ধ্ব ৫০ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম হন হিরামনি, দ্বিতীয় হন নাফিসা আর তৃতীয় হন লাকি। অনূর্ধ্ব ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম হন শুভ্র, দ্বিতীয় মারিয়া। অনূর্ধ্ব ৭৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম হন সান্ত¦না রাণী রায়, দ্বিতীয় নমিতা কর্মকার ও তৃতীয় দেবশ্রী সাহা।
পুরুষ জুনিয়র বিভাগে অনূর্ধ্ব ৪৫ কোজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম হয় বিল্লাল, দ্বিতীয় রিফাত আর তৃতীয় আরাফাত। অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে প্রথম হয় বাবুল, দ্বিতীয় মুসা ও তৃতীয় ইব্রাহিম। অনূর্ধ্ব-৭৫ কেজিতে প্রথম হন রাকিব উদ্দিন, দ্বিতীয় রুবায়েত।
সিনিয়র পুরুষ বিভাগে অনূর্ধ্ব-৫০ কোজিতে প্রথম হন জাহিদুল ইসলাম, দ্বিতীয় জাকির আর তৃতীয় আশিক। অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম আল-আমিন শিকদার, দ্বিতীয় তৌহিদুল আলম রাকিব ও তৃতীয় রুবেল। অনূর্ধ্ব-৬০ কেজিতে প্রথম বাবুল, দ্বিতীয় জাহিদ আর তৃতীয় ইমরান। ৭০ কেজিতে প্রথম হন কবির উদ্দিন, দ্বিতীয় রুবেল হাজং এবং তৃতীয় বরিন ও নিশার। ৮০ কেজিতে প্রথম হন রেমো, দ্বিতীয় হিমেল ও তৃতীয় হাসনাত জামান। ৯৫ কেজিতে প্রথম হন আবু সুফিয়ান রাশেদ, দ্বিতীয় জুনায়েদ ও তৃতীয় তানজিল।
দলগত ইভেন্টে পুরুষ সিনিয়রে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা। রানার আপ হয় বসুন্ধরা গ্রুপ তায়কোয়ানদো আর তৃতীয় হয় নারায়ণগঞ্জ।
এবারের এই প্রতিযোগিতায় ৮টি জেলার মোট ১৫০ জন খেলোয়াড় ১৮টি ওজন শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোট ৫টি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগগুলো হল- শিশু বিভাগ, মহিলা বিভাগ জুনিয়র, মহিলা বিভাগ সিনিয়র, পুরুষ বিভাগ জুনিয়র ও পুরুষ বিভাগ সিনিয়র।
এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। তারা হলেন সায়মা আক্তার অর্পা (জুনিয়র মহিলা), সান্ত¦না রানী রায় (সিনিয়র মহিলা), আল-আমিন শিকদার (সিনিয়র পুরুষ), জাহিদুল ইসলাম (সিনিয়র পুরুষ) ও তৌহিদুল ইসলাম রাকীব (সিনিয়র পুরুষ)। তাদের প্রত্যেককে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD