এমিলির অভাব পূরণে প্রত্যয়ী রনি-জীবন

এমিলির অভাব পূরণে প্রত্যয়ী রনি-জীবন

শাখাওয়াত হোসেন রনি ও নাবীব নেওয়াজ জীবন বড় দায়িত্ব নিয়ে এবার সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে এসেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ দলকে গোল এনে দেওয়া জাহিদ হাসান এমিলির অভাব পূরণের ভার এবার এই দুই স্ট্রাইকারের কাঁধে। দুজনেই প্রত্যয়ী এমিলির শূন্যতা পূরণে; আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই দলকে টেনে নিতে।
গত মৌসুমের ঘরোয়া ফুটবলের পারফরম্যান্সে জীবন এগিয়ে রনির চেয়ে। বিজেএমসির হয়ে চার গোল জীবনের; অন্যদিকে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের হয়ে গোলই পাওয়া হয়নি রনির। তবে রনি এগিয়ে থাকছেন নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের পাওয়া সর্বশেষ জয়ের ম্যাচে হিসেবে; ওই ম্যাচে দলের জয়ের একমাত্র গোল এই স্ট্রাইকার করেছিলেন দারুণ হেডে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তাই জীবনের চেয়ে শুরুর একাদশে শেখ জামাল স্ট্রাইকারের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
RONY
আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় ত্রিভান্দ্রাম স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রনি-জীবন দুজনেই জানালেন, আফগানদের জালে গোল করতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা।
অনুপ্রেরণা নেপাল ম্যাচ

সাফ ফুটবলের প্রস্তুতির জন্য নেপালের বিপক্ষে জেতা ম্যাচে শিষ্যদের খেলা নিয়ে খুশি হতে পারেননি কোচ মারুফুল হক। তবে ওই ম্যাচে পাওয়া জয় থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন রনি। জীবন জানালেন, নেপালের ম্যাচটা অতীত, আগামী নিয়ে ভাবছেন তিনি।
রনি বললেন, “আমরা তো এখানে আসার আগে নেপালের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছি। যেহেতু ম্যাচটা জিতেছি, ব্যক্তিগতভাবে যদি নিজের ব্যাপারটা বলি, তাহলে ওই ম্যাচে আমি গোল করেছি; সে হিসেবে বলব, কনফিডেন্স লেভেল আগে যে পর্যায়ে ছিল, এখন তার চেয়ে আরও বেশি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যদি সুযোগ পাই, তাহলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
আক্রমণে নেপালের রক্ষণ কাঁপিয়ে দিতে না পারার ম্যাচটা ভুলে যেতে চান জীবন, “ক্যাম্পে আমরা প্রথম সপ্তাহে অনেক হার্ড ট্রেনিং করেছিলাম; দ্বিতীয় সপ্তাহেও প্রায় একই রকম ছিল; নেপালের বিপক্ষে খেলার সময়টা আমাদের রিকোভারি টাইম ছিল। ওটা আসলে চলে যাওয়া ম্যাচ।”
এমিলির শূন্যতা পূরণের প্রত্যয়

চোটে আক্রান্ত এমিলির জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন মারুফুল। কিন্তু কোচের চাওয়াটা পূরণ হয়নি। গত পাঁচটি সাফে খেলা এই নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারকে ছাড়াই সাফ ফুটবল মিশনে আসতে হয়েছে কোচকে। চূড়ান্ত দলে মাত্র দুই স্ট্রাইকার থাকা নিয়েও কোচকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে রনি-জীবন আত্মবিশ্বাসী এমিলির অভাব পূরণ করতে পারবেন তারা।
প্রত্যয়ী কণ্ঠে রনি বলেন, “যেহেতু এমিলি ভাই নাই, অনেকে তার দলে না থাকা নিয়েও কথা বলেছে। তাদের ভুল ধারণাটা ভাঙার চেষ্টা করব। আশা করি, দেখাতে পারব, এমিলি নাই, তার অভাব টিমে নাই।”
২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, “কোচ প্রায়ই অনুশীলনে আলাদাভাবে দেখাত কিভাবে কি করতে হবে। একটা স্ট্রাইকারের আসল কাজ ফিনিশিং করা এবং এটা তিনি জাতীয় দলের প্র্যাকটিসে, ক্লাবের প্র্যাকটিসে প্রায় সময় আমাদের দেখাতেন। ব্যক্তিগতভাবে যখন কথা হয়, তখন তিনি কনফিডেন্স লেভেলটা ঠিক রাখার কথা বলেন। আগের যে গোলগুলো করেছি, সেগেুলো ভাবলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, ভয় থাকবে না-এগুলো বলে উদ্বুদ্ধ করেন।”
১৮ দিনের অনুশীলনে মারুফুলের দেখানো কৌশল বাস্তবায়নে মুখিয়ে আছেন জীবনও। “কোচ আমাদের দুজনকে আলাদা করে প্র্যাকটিস করিয়েছেন। তিনি আমাদের যে দায়িত্বটা দিয়েছেন, সেটা পালন করতে পারলে আমরা সফল হব।”
আফগানদের ভয় নয়

আফগানিস্তান সমীহ পাওয়ার মতো দল। সাফ ফুটবলের শিরোধাপাধী তারা। ইউরোপে খেলা একাধিক ফুটবলারও আছে দলটিতে। শারীরিক গড়নেও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে তারা। রনি-জীবনও সমীহ করছেন প্রতিপক্ষকে। তবে মাঠের লড়াইয়ে আফগানদেরকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না এই দুই ফরোয়ার্ড।
লিওনেল মেসির শারীরিক গড়নের উদাহরণ টেনে রনি বললেন, “টেকনিক্যালি-ট্যাকটিক্যালি আমরা সমান। আফগানিস্তান ফিজিক্যালি শক্তিশালী এবং ওরা এই সুবিধাটা নিতে পারে। কিন্তু এটা কোনো ভয়ের কারণ নয়। যারা ম্যাচে প্রথম সুযোগটা পাবে এবং কাজে লাগাতে পারবে, তারাই ম্যাচ বের করে নিতে পারবে।”
জীবন বললেন, “(বিশ্বকাপের বাছাইয়ে) আমরা বড় বড় দলের বিপক্ষে খেলেছি, এখানে (সাফে) সব দলই সমান মানের। আফগানদের হারানো সম্ভব। আমরা জিতব এবং আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD